অসাম্প্রদায়িক পৃথিবীর আহ্বান

58949958_319546692063653_728539883487887360_n.png

নাজমুল হাসান শান্ত
শিক্ষার্থীঃ- ঢাকা কলেজ।

“আগুনতাঁতা সাঁড়াশি দিয়ে তোমরা উপড়ে ফেলো আমার দুটি চোখ,
সেই দুটি চোখ, যাদের প্রাজ্ঞ দীপ্তির মৃত্যুহীন
বিদ্রোহী জ্বালায় দেখেছি নির্মম আকাশের নিচে মানবিক মৃত্যুর তুহিন-স্তব্ধতা,দেখেছি বাস্তুহারা কুমারীর চোখের বাষ্পকণার মতো কুয়াশা-ঢাকা দিন,
দেখেছি মোহাম্মদ, যীশু আর বুদ্ধের বিদীর্ণ হৃদয়, তাঁদের রক্ত ঝরে ঝরে পড়েছে সাদা সাদা অসংখ্য দাঁতের কুটিল হিংস্রতায়”

তোমরা যারা ধর্মের নামে জনপদ উজাড় করো,তোমরা যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করো প্রকৃতপক্ষে তোমাদেরই কোন ধর্ম নেই। আমাকে এমন একটা ধর্ম দেখাও যেখানে বলা হয়েছে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে ধর্মের পতাকা উত্তোলন করো। তোমরা নিজেদের স্বার্থে মানুষ মারো সেই অপরাধ ঢাকতেই আবার ধর্মের নাম বিক্রি করো।

‘অহিংসা পরম ধর্ম’, ‘জীব হত্যা মহাপাপ”এসব নীতিকথা বলেছেন গৌতম বুদ্ধ। কিন্তু যারা মিয়ানমারের মুসলমানদের এইভাবে হত্যা করলো তারা কার অনুসারী ছিলো তাহলে?

আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি যে মানুষ প্রকৃত রুপে ধর্মে বিশ্বাস করে সে কখনো মানুষ হত্যা করতে পারেনা৷
মানুষ যত বেশি নৈতিক শিক্ষা অর্জন ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলবে, তাদের জীবন থেকে তত বেশি অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে।
যারা জিহাদের নামে নিরপরাধ মানুষ মেরে ভাবে স্বর্গে যাবে।তারা কখনো মুসলমান হতে পারেনা,কারন
মোহাম্মদ (সঃ) বলেন ‘দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’ (তিরমিযি)

রোজ কেয়ামত নরহত্যার বিচার করা হবে সবার আগে। হাদিস শরীফের গ্রন্থ গুলোতে শত শত হাদিস আছে শুধু মাত্র মানুষ হত্যার শাস্তির ব্যাপারে ।
একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কথার অমান্য করতে পারেনা। তাহলে যারা ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করে তারা কার অনুসারী?

তোমরা যারা ইবাদতরত অবস্থায় মানুষদের হত্যা করো তোমাদের ধর্মের নামে, তোমাদের যীশুর নামে, তোমরা কি তোমাদের যীশুর বানী গুলো পড়োনি? “তোমার প্রভূ ঈশ্বরকে হৃদয় এবং সমগ্র আত্মা এবং চিন্তা দিয়ে ভালোবাস এবং তোমার প্রতিবেশীকেও নিজের মত ভালোবাস” (ম্যাথিউ 22:37-39)৷
তিনি তো বলেছিলেন প্রতিবেশীদের ভালবাসতে। তিনি কি বলেছিলেন যে তোমরা তোমাদের বিধর্মী প্রতিবেশীদের হত্যা করো? তাদের উপর অত্যাচার করো?
তাহলে তোমরা আজ যা করছো তা কি?
তবে কি তোমাদের বাইবেলে বলা গসপেল গুলো কেবলই ছেলেভুলানো মিথ মনে করছো?

তোমরা গো হত্যাকে মহা পাপ বলো,তাহলে মানুষের জীবন কি সেই গো মাতার তুলনায় তুচ্ছ?
তোমাদের স্বামী বিবেকানন্দ যে বলেন ‘জীবে দয়া করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’।
তাহলে তোমরা কোন স্বর্গ লাভের আশায়,কোন দেবতা কে সন্তুষ্ট করার আশায় মানুষ হত্যা করো?

তোমরা যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করো তাদের কোন ধর্মই নেই, তাদের একটাই ধর্ম তাহলো সন্ত্রাস।তোমাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তোমরা হত্যা করে ধর্মের নাম কে কলঙ্কিত করছো।
তবে যেনে রেখো সব কিছুরই বিচার হবে।কারন তোমাদের প্রত্যকের ধর্ম গ্রন্থেই পরকালের বিচারের কথা উল্লেখ আছে।
পৃথিবীর বুকে অশান্তি চাই না।চাই শান্তির সুবাতাস।চাই ধর্মনিরপেক্ষ আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার দীপ্তি।
চাই অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা।

Top