রামুর কচ্ছপিয়াতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বালি উত্তোলন,গাড়ি জব্দ,১ জনকে ৬ মাসের কারাদন্ড

57503391_2286496214957208_4315572916998635520_n.jpg

মোঃআবু তালেব সিকদার,রামুঃ
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া জাংছড়ি খালের বালি মহাল থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক বালি উত্তোলন অব্যহত রেখেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। যার কারনে সরকার হারাচ্ছে লাখ টাকার রাজস্ব। আর ফসলী জমি যাচ্ছে নদী গর্ভে।
সুত্র জানিয়েছে, গত ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ কক্সবাজার রাজস্ব শাখায় উল্লেখিত বালি মহাল টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। আর সে ইজারা নিয়েছিল গর্জনিয়া সিকদার পাড়ার রাজামিয়ার ছেলে আবদুল্লাহ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন,ইজারাদার আবদুল্লাহ ও তার লোকজন মিলে ওই ইজারা পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত হাজার হাজার গাড়ি দিয়ে বালির মহাল থেকে সারা বছর নিয়মিত বালি উত্তোলন করলেও উল্লেখিত বালির মহালে কোন প্রকার বালি উত্তোলন ওই আবদুল্লাহ করে নাই বলে মিথ্যা তথ্য ও ইজারার কাগজ পত্র তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেননি বলে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। যার নং ৩১৫০/ ১৯ ইং। এতে আদালত শুনানি শেষে চলতি বছরের ওই বালি মহালের ইজারাসহ সমস্ত কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে আদেশসহ রোল দেন। অথচ সরজমিনে দেখা গেছে ঘটনার উল্টো চিত্র। ১৪২৫ বাংলা সনের জন্য ইজারাধার হলো ১৪২৬ সনের ১৪ থেকে ২১ ইং বালি মেয়াদ শেষ হওয়া পর প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বেধেঁ অবৈধ বালি বিক্রি শুরু করা হচ্ছে।
গত কাল কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) চাই থ্যেয়ালা চৌধুরী সরেজমিনে তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ ইসমাঈল (৩৫) সহ অবৈধ বালির গাড়ি জব্দ করেন। গাড়িটি গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে রাখা হয়। ড্রাইভারকে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে জেলা পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাড়ির চালক ও শ্রমিকরা জানান, ইজারাদার আবদুল্লাহ লোকজন দিয়ে ওই সব বালি উত্তোলন করছেন।কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন জাংছড়ি বালির মহাল (১৪২৬)বাংলা সনের ইজারাধার নুরুল ইসলাম জানান,হাইকোর্টের আদেশকে অমান্য করে প্রতিনিয়ত শত শত ট্রাক অবৈধ বালি বিক্রি করে আসছে সাবেক বালির ইজারাধার আবদুল্লাহ । তাছাড়া উচ্চ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বালি মহলের কার্যক্রম স্থগিত করে,পুনরায় ওই আদালতের আদেশকেও অমান্য করে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন ইজারাধার বলেন। তিনি এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এই ব্যাপারে গর্জনিয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মহ শাহেদ জানান,সাহেবে ইজারাদার আবদুল্লাহকে একাধিক বার বলার পরেও তা তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করে আসছে অবৈধভাবে। তারা উচ্চ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বালি মহলের কার্যক্রম স্থগিত করে, পুনরায় ওই আদালতের আদেশকেও অমান্য করে বালি উত্তোলন অব্যহত রেখেছেন।

Top