যে টোকাই ছিলেন নগরীর মাদক ব্যবসায়ীদের দূর্ধর্ষ গুপ্তচর!

ctg-2.jpeg

১৫ বছরে এক হাজার চুরি করেও যে টোকাই ধরা পড়েনি!

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:
অল্প বয়সে যে টোকাই চট্টগ্রাম নগরীর বিখ্যাত সব চোরদের সাথে চুরি করার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। রেলষ্টেশনে ভাসমান টোকাই হিসেবে বসবাস করে যে নানা অপরাধ করেও পার পেয়ে যেত অনায়সে।
এমনকি তার দেওয়া তথ্যমতে, ১৫ বছর ধরে এক হাজারেরও বেশি চুরির ঘটনা রয়েছে তার ঝুঁলিতে। যে একবারো ধরা পড়েনি পুলিশের হাতে! অবশেষে কোতোয়ালী থানার পুলিশ (এসআই সজল কান্তি দাশ ও কে এম তারিকুজ্জামান) এর হাতে গ্রেপ্তার হলেন টোকাই পিচ্চি রাজু।
জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়ি, অফিস, শো-রুম ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চুরির স্বীকার করেছে।
জানা যায়, ৪ বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ট্রেনের বগিতে চড়ে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করেছিলো মোঃ রাজু প্রকাশ পিচ্চি রাজু প্রকাশ শাহীন আলম রাজু (১৮)। একসময় স্থায়ীভাবে ভাসমান অবস্থায় চট্টগ্রাম শহরের রেলষ্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করে ঢাকার দারুস সালামের ছেলে রাজু।
এপ্রিল মাসে কোতোয়ালী থানাধিন ইপিক কাদের হাইটস এর ৩য় তলায় সিস্টেম কন্ট্রোর নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জানালার গ্রীল কেটে নগদ দুইলক্ষ টাকা ও দুইটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে পিচ্ছি রাজুর সংশ্লিষ্টতা উদঘাটনের পাশাপাশি ১৫ বছর যাবৎ তার এসব চুরি সংঘটিত করার বিষয়টি প্রকাশ পায়৷ এই সময় কদমতলী এলাকা থেকে সেদিনের চোরাইকৃত দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানার পুলিশ৷
এই বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, ডবলমুরিং থানা এলাকায় এক প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় পিচ্চি রাজু আটক হলে আদালতের আদেশে কোতোয়ালী থানার মামলায় তাহাকে গ্রেফতার করে পুলিশ তাকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানের পূর্বে তার দেখানো মতে কদমতলী এলাকা হতে চোরাই ল্যাপটপ গুলো উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অপরাপর জড়িত আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান ওসি মহসিন৷
জানা গেছে, মূলত ভাসমান অবস্থায় চট্টগ্রাম শহরের রেলষ্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করার সময় পিচ্ছি রাজুর সাথে শফি নামের এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। বিভিন্ন টোকাইয়ের সাথে মেলামেশার একপর্যায়ে সে চুরি করা শুরু করলে শফি তাকে কাজ হতে বিতাড়িত করিলে পরবর্তীতে সে বরিশাল কলোনীর মাদক সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়৷ বরিশাল কলোনীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত আসামী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ফারুক এর বিশ্বস্থ গুপ্তচর হওয়ার সুবাদে একে একে তার সাথে মাদক সিন্ডিকেটের নানা ব্যক্তির সখ্যতা গড়ে উঠে।
এরই মধ্যে নগরীর বিখ্যাত বিভিন্ন চোরদের সাথে পিচ্চি রাজুর কাজ সুবাদে সে চুরিকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেয়। যেহেতু সে রেলষ্টেশনে ভাসমান হিসেবে বসবাস করে সেহেতু নানা অপরাধ করেও সে পার পেয়ে যেত। তবে চুরিতে তার হাত পেঁকেছে বেশ!

Top