ঘুরে এলাম বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, রোভার পল্লী এবং ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

received_271213603759072.jpeg

নিগার সুলতানা সুপ্তি ;

ঘুরতে কার মন না চায়! আর সেই ঘুরাঘুরি যদি হয় সাফারি পার্ক, রোভার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মতো কোনো জায়গা,তাহলে তো একেবারে সোনায় সোহাগা। এক ঢিলে তিন পাখি মারার মতো ব্যাপার।সংবাদটা শুনা মাত্রই সুযোগটা লুফে নিই।লুফে নিতে একটুও দেরি করিনি। গত ১৯ এপ্রিল,২০১৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্মানিত রোভার স্কাউট লিডার ও কোষাধ্যক্ষ জনাব মাহমুদুর রহমান স্যারের নেতৃত্বে আমরা গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক,বাহাদুরপুর রোভার পল্লী ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক বনভোজন যাই। এই বনভোজনে আমরা প্রায় শতাধিক রোভার ও গার্ল ইন রোভার অংগ্রহণ করেছিলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্মানিত আরএসএল জনাব জুয়েল মিয়া স্যার এবং সাবেক সিনিয়র রোভারমেট মো. জাহানুর ইসলাম এবং জহিরুল ইসলাম ভাই । আমরা সকাল ৮ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করি। প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যয়ে ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে আমরা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে পৌঁছাই।টিকেট কেটে সারিবদ্ধ ভাবে ভিতরে প্রবেশ করি। মনের ভিতর তখন এক অন্য রকম শিহরণ কাজ করছিল ।কী যে ভালো লেগেছিল তা বলে কিংবা লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। আমরা প্রথমেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর কংকাল অবলোকন করি । পরে প্রজাপতি পার্কে গিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখি বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি। খুকি ও নয়ন নামে সদস্য স্তরের দু’জন রোভার আমাকে বলেন, আপু সাফারি পার্কে যা কিছু দেখলাম সবটাই আমাদের মনে আনন্দ দিয়েছে । মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীদের বিচরণ যে কী রকম মনোমুগ্ধকর হতে তা আজই বুঝলাম।

দুপুর ১২ টায় সাফারি পার্কের পুর্ব নির্ধারিত স্পটগুলো দেখে আমরা রোভার পল্লীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি । প্রায় বেলা পৌঁনে ১টার দিকে তারা রোভার পল্লীতে পৌঁছাই। সেখানে জুমার নামাজ আদায় শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল ৩টার দিকে রওনা হই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশ্যে। ভাওয়াল উদ্যানের ভিতরে অবস্থিত শিশুপার্ক, ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন খেলাধুলা ও র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনেকে পুরস্কার পেলেও আমি পাইনি। তাতে আমার কিছুটা খারাপ লেগেছিল।তবে মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিয়েছি এবার পাইনি তো কি হয়েছে,আগামীবার পাবো ইনশাআল্লাহ।

তারপর ৫ টা ৩০ মিনিট এর দিকে রওয়ানা হই ঢাকার উদ্দেশ্যে। বাসে আমরা নিজেদের মতো করে ক্ষণিকের জন্যে শিল্পী বনে যাই। আমরা গান ধরি এই পথ যদি শেষ না হতো,,,,,, রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছাই, আমাদের যাত্রার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

———-
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
রোকেয়া হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top