সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টারের প্রথম জানাযা সম্পন্ন

received_2224461371201850.jpeg

এম এ মোতালিব ভুইয়াঃ

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টার (৭০) আর নেই। ছাতক দোয়ারার সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টার আর নেই। শনিবার সকাল ৮.৪৫ মিনিটের সময় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে শ্বাস কষ্ট রোগে ভোগছিলেন। তার মৃত্যুতে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের মরদেহ সিলেট থেকে শনিবার বিকালে নিজ উপজেলা দোয়ারাবাজারে আনার পর বাদ আছর দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা শেষে নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জ শহরে উকিল পারাস্থ তাঁর নিজস্ব বাসায়। সেখান থেকে রোববার সকাল ১০ টায় শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বাদ জোহর মরহুমের গ্রামের বাড়ী টেংরাটিলায় তৃতীয় জানাজা শেষে উপজেলা সদরস্থ মুরাদপুর পঞ্চায়েতী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

শনিবার বাদ আছর তাঁরই হাতেগড়া বিদ্যাপীঠ একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানুষের ঢল নামে। হাজার হাজার মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বর্ষিয়ান ওই নেতা কে শেষ বিদায় দেন। অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাষ্টারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপি’র কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন মহল গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

জানাযার পূর্বে মরহুমের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা: আব্দুর রহিম, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতিক, ডা: আব্দুল কুদ্দুছ, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার, সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের জেষ্ট নেতা একেএম আছকির মিয়া, মরহুমের বড় ভাই আবাদি কৃষক নেতা আব্দুল আওয়াল, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু, ল²ীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমীরুল হক, দোয়ারাবাজার সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল খালেক, পান্ডারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ আব্দুল বারী, বোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল, সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

জানাযায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাসসহ ছাতক দোয়ারাবাজার দুই উপজেলার আ’লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা বলেন, সাবেক সাংসদ অ্যাড. আব্দুল মজিদ মাস্টারের মৃত্যুতে ছাতক-দোয়ারাবাজার বাসী একজন জেস্ঠ রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদ কে হারালো। যার শূণ্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলার জেষ্ট রাজনীতিক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টার জীবন মরণ সন্ধিক্ষণে থেকে শনিবার সকারে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টার দোয়ারাবাজার উপজেলার এক কিংবদন্তি রাজনীতিকের নাম।

দেশ স্বাধীনের পর তিনি একমাত্র দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ উপজেলা হতে স্বাধীনতার পর তিনিই একমাত্র এমপি হয়েছেন। তিনি একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেছেন। ১৯৯১ সালে ছাতক দোয়ারাবাজার আসন থেকে জাতীয়পার্টির মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে শিক্ষকতার পেশায় মনোনিবেশ করে একাধারে দশ বছর দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।আমৃত্যু তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশী তিনি অনুন্নত ও শিক্ষা বঞ্ছিত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি প্রাণপন চেষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার সময়ে দোয়ারবাজার উপজেলার পুরো রুপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয় ।তখন থেকে উপজেলায় প্রথম বিদ্যুতায়ন সহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রুপ রেখা বাস্তবায়িত হয়। তার আমলে দোয়ারাবাজার কলেজ বর্তমানে দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজ, দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র, উচ্চ বিদ্যালয়,উপজেলা সদরে প্রথম বিদ্যুতায়ন, রাস্তা-ঘাট,কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণ তার হাতেখড়ি। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তিনি এখনও এ উপজেলার একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।১৯৮৯ সালে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশী আইন পেশায় জড়িত হন। তার পেশায় তিনি এখনো সফল ব্যক্তি। মূলত আইন পেশা থেকে তিনি সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্থরের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন। এক কর্মদক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সুনামগঞ্জে সকল মহলে সমানভাবে সমাদৃত। ২০০৯ সাল থেকে ৫ বছর তিনি সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের সরকারি কৌশলী (পিপি)’র দায়িত্ব পালন করেন।রাজনৈতিক পরিসরে তার রয়েছে ব্যাপক বিচরণ। জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় মূল্যবোধের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয়পার্টির রাজনীতির সাথে তিনি শুরু থেকে জড়িত আছেন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি জেলা জাতীয়পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পরে ২০০৯ সালে সুনামগঞ্জ ১ আসনের জাতীয়পার্টির সংসদ সদস্য মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর তিনি জেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। আজ অবধি তিনি পার্টির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ আসনে সমাসীন রয়েছেন। এছাড়া তিনি জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে প্রথম সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Top