আগের মতোই মায়ের সেবা করতে চান বড় ছেলে মোজাম্মেল

57485503_536385363554715_6953163804360310784_n.jpg

মো:জহরুল ইসলাম(জীবন)হরিপুর(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৬ নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের মৃত মজির উদ্দীন ও স্ত্রী আজেদা খাতুনের বড় ছেলে মোজাম্মেল হক বলেন, আমি কৃষক সারাদিন মাঠে কাজ করি, ক্লান্ত হয়ে বাড়ীতে এসে গোসল খাওয়া শেষে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাজারে যায় এভাবে দিন শেষ হয়ে যায়, রাতে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী (ফেরদৌসি বেগম) এর কাছে খবর নেয়, মা খাওয়া করে ঘুমাইছে কি না, ঔষুধ খাইছে কি না, কখন ঘুমাইছে, কখনো কখনো মায়ের ঘরে গেলে মা’কে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়, মা জাগে থাকলে মায়ের ভাল-মন্দ জিজ্ঞেস করি, নিজ হাতে মায়ের পা টিপে দেয় এবং মাকে ঔষুধ খাওয়ায়, কখনো কখনো মা অসুস্থ হলে বড় ছেলে হিসেবে দ্রুত চিকিৎসা নেয়, তবুও এখন মনে হচ্ছে আমি ঠিক ভাবে মায়ের সেবা করতে পারি নাই। যদিও বাবার মৃত্যুর পরে মায়ের দেখাশুনা আমি করি, আমাকে সহযোগীতাও করেছে আমার ছোট দুই ভাই।আমার মা যদি আমার কাছে থাকতে চাই তবে আমি আমার মা কে আমার কাছে রাখতে চাই, আমি ঠিক ভাবে মায়ের সেবা যত্ম করবো আর কোন ভুল ত্রুটি হবে না, আপনারাও মাঝে মাঝে আমার মায়ের খবর নিবেন । আমি এর আগেও শুনেছি আমার মা আজেদা খাতুন স্হানীয় চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তির কাছে মাঝে মাঝেই নিজ সন্তানের নামে অভিযোগ করত । আমি আমার মা কে বুঝাই বলতাম মা কিছু লাগলে বা কিছু খাওয়ার ইচ্ছে হইলে আমাকে বলিও আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো । আমি আছি আমার ছোট দুই ভাই আছে কেউ না কেউ ঠিক তোমার দেখাশুনা করবো তবু তুমি বাড়ির বাইরে যাবেনা, তোমার বয়স হয়েছে তুমি এখন আমাদের কাছে থেকে সেবা যত্ন নাও ।”ছেলেদের জমি লিখে দিয়ে রাস্তায় ঘুরছেন মা” সংবাদ প্রকাশের পরে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি, তারপরেই আমাকে আটক করে হরিপুর থানা পুলিশ। পরে হরিপুর থানার ওসি, ভাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়রা আলোচনায় বসেন। এসময় আমি ও আমার মেঝো ভাই মফিজুল ৪ বিঘা করে ৮ বিঘা জমি মায়ের ভরণপোষণের জন্য ছোট ভাই হাফিজুলকে দিতে রাজি হয়। তবে মায়ের মৃত্যুর পর আবার সেই জমি আমাদেরকে ফিরিয়ে দিবে এছাড়াও আমি ও আমার মেঝো ভাই মফিজুল মাকে প্রতি মাসে ৫০০ করে এক হাজার টাকা দিতে রাজি হয়।এই সিদ্ধান্তের পর ছোট ছেলে হাফিজুল ভুক্তভোগী মা’কে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে।
মোজাম্মেল আরো বলেন, স্থানীয় আমিন গোলাম আযম’সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে ও আমার ছোট ভাইদের কে বুঝিয়ে বলেন, যে তোমরা তিন ভাই, দরকার হলে মাকে তিন বেলা খাওয়াবে, তবুও যেনো খাওয়ার কষ্ট উনি না পায়, সেবা যত্ন নিবে, ঠিক মতো ঔষুধ খাওয়াবে, সমস্যা হলে চিকিৎসা করাবে । উনার বয়স হয়েছে উনাকে আর কষ্ট দিও না ।
ভুক্তভোগী আজেদা খাতুন বলেন, আমার ৫ সন্তান তার মধ্যে আমাকে ভুল বুঝিয়ে ৪ সন্তান নিজের নামে জমি লিখে নিয়ে আমাকে পথে নামিয়েছে। আমার জমি আবার আমার নামে লিখে দাও। আমি তোমাদের কাছে কি চায় একটু সেবা যত্মই চাই, সেবা যত্নের পাশাপাশি আমার ভালমতো চিকিৎসা করাও।

Top