দোয়ারায় সভাপতির হাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্চিতের অভিযোগ

57503880_804953539865631_8542040690127798272_n.jpg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

দোয়ারাবাজারের বগুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক/শিক্ষিকাকে লাঞ্চিত করাসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে দারুণ ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জাফর আলী খান কোন মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই স্কুলের পিছন থেকে বড় ১টি কইড় গাছ কেটে বিক্রি করে নিয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা। গত ১৮/০৩/২০১৯ ইংরেজি এসএমসির সভায় স্লিপের টাকা নিয়ে সভাপতি জাফর আলী খান ও ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান শেখচান অকথ্য ভাষায় শিক্ষক /শিক্ষিকাকে গালাগালি করেন,শিক্ষিকাগন প্রতিবাদ করলে শিক্ষিকাদের উপর চড়াও হন, এক পর্যায়ে তা বিরোধে রুপ নেয়। সভপাতি মদপান করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেন। স্লিপের টাকা থেকে সভাপতিকে ১০হাজার টাকা ধার না দেওয়ায় উনি মদ পানকরে মাতাল অবস্থায় এরুপ কার্যকলাপ শুরু করেন, শিক্ষকরা এ ঘটনায় সভাপতির হাতে লাঞ্চিত হওয়ার বিচার ও প্রতিকারের দাবীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেন।

জাফর আলী খান ২০১৭ সালের ১৩জুন সভাপতি মনোনীত হন। সভাপতি হবার পর থেকেই তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে নানাভাবে খারাপ আচারণ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বুলবুল মেম্বার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরদিন থেকে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা ভয়ে আতন্কিত আছেন। এতে পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।সভাপতি প্রায় সময়ই মাতাল অবস্থায় থাকে, ঐদিন শিক্ষক শিক্ষিকাকে গালাগালি করছে শুনে স্কুলে গিয়ে সভাপতিকে নিয়ে আসি,এটা কোন মতেই কাম্য নয়, তদন্তকরে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন ।

এ ব্যাপারে স্কুলের সহকারী শিক্ষক উম্মে হাবিবা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় সভাপতির বিচারের দাবীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করেছি। বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে স্যারের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন কুমার সানা স্যার প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের সাথে সভাপতির সমঝোতার মাধ্যমে মিলিয়ে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, শিক্ষক শিক্ষিকা লাঞ্চিত হওয়ার আবেদন পেয়ে বুধবার সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করে দিয়েছি। আর গাছ কাটার বিষয়টি আমার সময়ে হয়নি। ওই স্কুলের সভাপতি ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে স্যারের পরামর্শক্রমে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাফর আলী খানের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হয়। ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Top