চাকরি পাবার পরও কি নুসরাতের পরিবার বিচার চায়?

IMG_0414-1.jpg

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার

ফেনীর সোনাগাজীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভাই নোমানকে ব্যাংকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৫ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নুসরাতের বাবা একেএম মুসা ও মা শিরিন আক্তারসহ দুই ভাই শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নিয়োগপত্র নুসরাতের ভাই নোমানের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের মা। প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের পরিবারের প্রতি সান্ত¡না ও গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা কেউই আইনের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। একই সঙ্গে নুসরাতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নিজাম চৌধুরীকে নুসরাতের ছোট ভাই রায়হানের পড়াশোনার প্রতি খেয়াল রাখতে বলেন। নিজাম চৌধুরী স্বাচ্ছন্দ্যে শুধু পড়াশোনা নয়, ভবিষ্যতে রায়হানের চাকরিরও নিশ্চয়তা দেন। এ বিষয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন।
নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ২০১৯ সালের আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল।
গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত পাঁচদিন পর্যন্ত বাঁচার জন্য লড়াই করে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে হার মানেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত ও নুসরাতের ভাই চাকরি পাবার পর বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছিলো যে হঠাৎ কেন আবার এ ব্যতিক্রমি আয়োজন? যেখানে সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ নুসরাতের বিচারের দাবি তুলছে। সিরাজের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল করে তুলেছে সারাদেশ।
তখন সারাদেশের মানুষের চাওয়ার সঙ্গে নুসরাতের পরিবারের চাওয়ার ব্যতিক্রম হলো কেন? এমন একটি প্রতিবাদী প্রাণের ৫ দিন মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করে যখন জীবনের কাছে হার মেনে গেলো, তখন তার পরিবার কি শুধু একটি চাকরি পেয়েই সন্তুষ্ট হয়ে গেলো? আর এ আয়োজনটি তখনই করা হলো যখন পুলিশ বোরে‌্যা অব ইনভেষ্টেগেশনের অনুসন্ধান ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী যখন হত্যাকা-ে ক্ষমতাসীন পেশীশক্তির ও পুলিশি উগ্রবাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলো তখনই এমন আয়োজন?
তাহলে আমাদের রাষ্ট্রশক্তির ধারণা কি এমন? যে চলে যাবার সে তো গেলোই। এখন যারা বেঁচে আছে তাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। আর নুসরাতের পরিবারের চাওয়াও কি শেষ? চাকরি পাবার পর এখনো কি তাদের বিচারের চাহিদা আছে? নাকি তা কিছুদিনের মধ্যেই কেটে যাবে?

লেখক: শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

Top