শিশুদের মানসিক সক্ষমতা অনুসারে পাঠ রচনা করুন

P_20190401_115031_BOK_mix01-02.jpeg

জাহিদুল ইসলাম খন্দকার :

একটি ১৬ জিবি স্টোরেজ ডিভাইসে তার ধারণ ক্ষমতার বাইরে এক কিলোবাইট পরিমাণ ডাটাও প্রবেশ করানো যাবে না, কেননা তার ধারণ ক্ষমতা ঐটুকুনই। কিংবা কোন পাখি জন্মের পরই আকাশে উড়তে পারেনা।অথবা কোন মানব শিশু পৃথিবীতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটতে পারেনা।যতক্ষণ পর্যন্ত শরীরের হাড়গুলো এবং মাংসপেশি হাঁটার উপযুক্ত হবে না, ততক্ষণ অবধি শিশুটি হাটতে অক্ষম। আবার শিশুটি একেবারে ভাষাও আয়ত্ত করতে পারেনা,কেননা তার মানসিক সক্ষমতা না আসা পর্যন্ত তা সম্ভব নয়। একজন শিশুর এবং একজন বৃদ্ধের বোঝার ক্ষমতার মধ্যেও সবিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান। সুতরাং পরিপক্বতা অর্জন ব্যতীত মানুষ বা প্রাণী কোন কিছু করতে কিংবা বুঝতে পারেনা।এর জন্য যেমন বয়সের উপযুক্ততা দরকার তেমনি প্রয়োজন মানসিক সক্ষমতা।

প্রাথমিক লেভেলের চতুর্থ শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক লেভেলের পাঠ্যবই বহির্ভূত যে সহায়ক বইগুলো বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলোতে ভাষার যে কাঠিন্যতা,দুর্বধ্যতা তা ঐ লেভেলের শিক্ষার্থীর জন্য আয়ত্ব করা অত্যন্ত কঠিন। বইগুলোর উপস্থাপনভঙ্গি এতই জটিল যে সাধারণ মানের একজন সম্মানের শিক্ষার্থীও বুঝতে হিমশিম খেয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা সবসময় চায় ঐসব পাঠ আত্মস্থ করতে যা তারা সহজে বুঝতে পারে। তাদের মানসিক যে সক্ষমতা তার থেকে অধিক কাঠিন্যে ভরপুর বইগুলো। এই জটিলতার দরুন শিক্ষার্থীদের পাঠে অনীহা দেখা দেয় এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। অথচ পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ঐসব সহায়ক বইগুলোই তাদের প্রধান অবলম্বন।

শিক্ষার্থীদের পরিনমণ বা পরিপক্কতা অনুসারে লেখকদের বই প্রনয়ন করা উচিত।বিভিন্ন মজার ঘটনা কিংবা উদাহরণের আলোকে পাঠ তুলে ধরলে তারা তা সহজে অনুধাবন করতে পারে।বয়সের চাহিদা অনুসারে একজন শিক্ষার্থীর সামর্থ্য কেমন হতে পারে তা নিরুপন করে শব্দচয়ণ,যুক্তি প্রদর্শন,বাচনিক সাবলীলতা প্রয়োজন যা একজন শিশুর ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারে। শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা না লিখে একজন শিশুর কাছে যা সহজপাঠ্য তাই রচনা করা উচিত। শিশুদের যে পড়ার প্রতি অনাসক্তি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা দূরীকরণে লেখকদের উচিত তাদের গ্রহনক্ষমতা অনুসারে পাঠ তুলে ধরা।

———————-
শিক্ষার্থী,দর্শন বিভাগ,৪র্থ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top