ছাদের সৌন্দর্যবর্ধন আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে!!

download-2-2.jpg

সিকদার মোহাম্মদ জাকারিয়া ঃ

সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে আমাদের পারিপার্শিক সকল কিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা গাছপালা কেটে, বন-বাদাড় উজাড় করে অট্টালিকা তৈরি করছি। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আলোবাতাসহীন সেই খুপরি অ্যাপার্টমেন্টে আমরা হাঁপিয়ে উঠি। আমরা ফিরে যেতে চাই অরণ্য ও সবুজের সমারোহে। তাই নিজের আঙ্গিনা সাজাতে আমরা এখন গাছপালাকেই বেছে নিচ্ছি।বাসার ছাদে, বারান্দার গ্রিলে,

জানালার গ্রিলে আমরা টব বেঁধে ফুল, ফল, শাক- সব্জির বীজ বনছি। এতে একদিকে সবুজায়ন হচ্ছে আবার অন্যদিকে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একটু আরাম আয়েসের জন্যে আমরা বাড়ী তৈরি করে থাকি। বাড়ীর ছাদ সাধারনত খালিই থাকে। সাম্প্রতি কিছু চাষ পদ্ধিতির জন্যে আমরা ছাদেই কৃষি চাষ করতে পারি। Hydroponic technology system বা অন্যান্য পদ্ধতিতে আমরা ছাদের মধ্যে চাষাবার করে আর্থিক ভাবে লাভবানও হচ্ছি। ঝিনাইদহের তহমিনা ইসলাম জুথি নামে এক গৃহিনী তার ভবনের ছাদে মনোরম ছাদ কৃষি গড়ে তুলে সাফল্য পেয়েছে। (সূত্রঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, snn24.com) । জুথিরমত গৃহিনীরা এমনি ভাবে চাষাবাদ করে পারিবারিক উপার্জন বৃদ্ধি করে থাকে।

আমরা ছাদে, বারান্দার গ্রিলে, জানালার গ্রিলে টবে বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনা আমাদের এ বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। যেহেতু ঝড়- বৃষ্টির দিন তাই প্রচুর বাতাস প্রবাহিত হয়। আর এই বাতাসের প্রভাবে ছাদ থেকে টবগুলো নিচে পড়ে যায়। ফলে তা নিচে চলাচলরত মানুষজনের উপর পরে দূর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদের মতে, মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে প্রচুর ঝড় বয়ে যায়। ফলে এই সমইয়ে সূর্য প্রচণ্ড তাপ ছড়ায়। এতে ভূপৃষ্ঠ গরম হয়ে যায়। পশ্চিম দিক থেকে আরব সাগরের শুষ্ক বাতাসের সাথে দক্ষিণ দিকের বঙ্গোপসাগরের শীতল বাতাস মিলে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি করে। এই কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে প্রচুর বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়। যা জানমালের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঝড়ের সময় বাতাসের কারণে আমাদের ছাদে বা বারান্দায় রাখা টবগুলো নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক। অনেক ছাদের রেলিং না থাকার কারণে সহজেই তা পরার সম্ভাবনা থাকে। অনেকে শুধু টবগুলো ছাদের কার্ণিশে রেখে দেয়। যা অনেক বিপদজনক।

ধরুন ঝরের আগে বাতাস শুরু হয়েছে। আপনি দৌড়ে বাসার দিকে যাচ্ছেন। হঠাৎ আপনার বাসার একটি টব আপনার মাথায় পড়লো। কী হবে ব্যাপারটা? এইটা যে শুধু আপনার মাথায় পড়বে তা নয়। এই অপরিকল্পিত নগরীতে যে কোন পথচারীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

শুধু তাই নয়,এই সকল টবের পরিচর্যা করতে যেয়ে ২০১৭ সালে নিজ বাসার ছাদে পড়ে গিয়ে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার আকতার হোসেন নামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু হয়।(সূত্রঃ রাইজিংবিডি)।

২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক এলাকার স্টাফ কোয়ার্টরের ছাদ থেকে পড়ে আব্দুল ওহাব খান নামে ঢাবির এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।(সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ)।

ভৌগোলিক হিসেব মতে কোনো দেশের মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতেই হবে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও) প্রতিবেদন (দ্য স্টেট অব গ্লোবাল ফরেস্ট-২০১৮) বলেছে, বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশের মোট আয়তনের ১৭ শতাংশ বনভূমি (বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা)। বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে অবশ্যই বনভূমির পরিমাণ ২২ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। (সূত্রঃ প্রথম আলো)।

অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে শহরে গাছপালা রোপন সম্ভব নয়। সেই কারণে ছাদের টবে যদি কিছু গাছপালা রোপন করি তবে এসডিজির জন্যে কিছুটা হলেও কাজ করবে। কিন্তু এইটা যদি মৃত্যুর কারণ হয় তবে তা কতটুকু যৌক্তিক!

আমাদের ছাদের রেলিংগুলোতে ছোট দেয়াল করা যায় যাতে টবগুলো আঁটকে থাকে। টবগুলো ছাদের ভিতরে রাখতে পারি। এতে বাহিরের রেলিং এর জন্যে টবগুলো আঁটকে থাকবে। বারান্দায় টবগুলো গ্রিলের ভিতরে রাখলে সেগুলো পরার সম্ভাবনা কম থাকবে।

আমাদের অবশ্যই টবগুলো পরিষ্কার রাখা উচিত। যাতে এ থেকে মশা উৎপন্ন না হতে পারে। আর টবে পানি দেওয়ার সময় সচতন হওয়া জরুরী। কারণ এমন দূর্ঘটান প্রায়ই দেখা যায়। টবগুলোর মাঝে ফাঁকা রাখলে টবের অতিরিক্ত পানি নিচে পড়ে শুকিয়ে যায়। এতে ছাদ ভিজা থাকবে না। টবগুলো ফাঁকা জায়গায় রাখলে তা অবশ্যই বেঁধে রাখা উত্তম।

মানুষ স্বভাবতই সোন্দর্য প্রিয়। তবে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন নিজের শুখ অন্যের জন্যে ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। সকল ক্ষেত্রে আমাদের এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিৎ।

———
লেখক–
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Top