নোবিপ্রবি ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

images47.jpg

শামীম আরা, নোবিপ্রবি ;

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা মাইজদী শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার যুবক হলেন নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষীণারায়ণপুর মহল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হৃদয় (৩০)।
থানা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নোবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের ওই ছাত্রী (২২) শহরের হাউজিং সোসাইটি এলাকায় একটি মেসে বসবাস করেন। তিনি গ্রেফতার মো. হৃদয়ের ছোট বোনকে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। গত ২ মার্চ রাতে ছাত্রীটি হৃদয়ের বোনকে তাদের বাসা থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে তার মেসে আসার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কাছে পৌঁছলে রাত পৌনে ৯টার সময় হৃদয় তাকে মোটরসাইকেলে ওঠার জন্য বলে। কিন্তু ছাত্রীটি হৃদয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হাঁটতে শুরু করে। এসময় হৃদয় ছাত্রীটির হাত ধরে টানাটানি করে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সে হৃদয়ের হাত থেকে ছুটে হাঁটা শুরু করে। পরে হৃদয় লোহার রড দিয়ে ছাত্রীটির পেছন থেকে মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে। এতে ওই ছাত্রী মাথা ফেঁটে অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী শহরে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরে। সম্প্রতি আহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে গিয়ে ঘটনাটি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ছাত্রীটি বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সুধারাম মডেল থানায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ লিখিত অভিযোগটি নথিভুক্ত করে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে হৃদয়কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
ওই ছাত্রী জানায়, ঘটনায় দীর্ঘ এক মাস যাবত সে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। সে ওই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোমেনুল হক বলেন, যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির প্রতিকার ও বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ তাকে সহযোগিতা করেছে। নারী শিক্ষার্থীদের কেউ যৌন হয়রানি করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীকে তার শাস্তি পেতেই হবে।

Top