ববি আন্দোলনে একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়স্পর্শী কথা

received_272272517010384.jpeg

প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা! অনেক কষ্টের জায়গা থেকে কথাগুলো লিখছি।ভিসি ইমামুল হকের পদত্যাগ প্রত্যেকটা ববিয়ানের প্রাণের দাবি। আমরা চাই এই স্বৈরাচার এই ক্যাম্পাসে আর না আসুক। এটা সবারই মানসিক চাওয়া। কিন্তু সেটা কি মুখে কিংবা ফেসবুকের লেখায় চাইলেই হবে?বোধকরি না। সাথীরা, সংগ্রামের জন্য মাঠে উপস্থিত থাকতে হয়। ঘাম ঝরাতে হয়। তবেই কাঙ্খিত মুক্তির দেখা মেলে। আমাদের আসন্ন মুক্তির জন্যেও মাঠে থাকার বিকল্প নেই।
সংগ্রামী সাথীরা,আজকে আন্দোলনের ২১তম দিন চলছে।আমরা বিক্ষোভ করেছি,মশাল মিছিল করেছি,রক্ত দিয়েছি,অনশন করেছি , রাস্তা অবরোধ করেছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কোনো ফর্মই আমরা বাকি রাখিনি । আপনারা অবগত আছেন যে,আমাদের কিছু সহযোদ্ধা সকাল থেকে রাত অবধি সেই কষ্ট করে যাচ্ছে।ইতোমধ্যে আমাদের অনেক সহযোদ্ধারা অসুস্থ হয়ে পরেছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা প্রচণ্ড অসুস্থ থাকার পরেও বিশ্রাম ভুলে গেছে। আমার কথাই বলি, আমার গলা দিয়ে রক্ত পরতেছে। এমনকি কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই যে ত্যাগ, এটা কাদের জন্য? একবারের জন্যেও কি মনের কোণে আপনাদের এই প্রশ্নের উদয় হয়েছে?
আমরা বিশ্বাস করি এই স্বৈরাচার বিগত ৩ বছর ১০ মাস যে পরিমান পীড়ন চালিয়েছে সবাই তা জানেন। আমরা এই দমন পীড়ন থেকে পরিত্রাণ চাই। এত পরিশ্রম ,ঝুঁকি ,সংগ্রাম কাদের জন্য করছি আমরা? নিশ্চয়ই এটা থেকে বাচার জন্য। আজকে যখন একই সাথে হাসপাতালে অনেকে ভর্তি হলো চোখের পানি বাধতে পারিনি। মাঠে এসে যদি আমাদের অবস্থাটা যদি একটু দেখতেন, বুঝতে পারতেন। এরকম প্রতিদিন আমাদের সহযোদ্ধারা অসুস্থ হয়ে পরছে আর সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্লজ্জ প্রশাসনের নিরব ভূমিকা পালন করছেন। তাছাড়া আমাদের গুটি কয়েক সহপাঠী, ছোট ভাই-বোন আছেন যারা নিজেদের নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকেন। তারা নিজেদের বিবেক কে প্রশ্ন করুন, আপনার এই পড়াশোনা আড্ডা , আনন্দ , বিশ্রামের কোনো মূল্য আছে কি? যেখানে আপনার কিছু ভাই বোনেরা দিনের পর দিন না খেয়ে দাবি আদায়ে মাঠে পড়ে আছে!কি জবাব দিবেন ভবিষ্যত প্রজন্মকে?
সংগ্রামী সাথী ভাইয়েরা,বলছি না আপনারা এসে আন্দোলন পরিচালনা করুন। অন্তত আপনারা এই গুটি কয়েক ভাই-বোন আসুন না। এসে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। আমরা শক্তি পাবো সাহস পাবো। আপনার ভাই-বোনের কষ্টের কথা, কান্নার কথা জেনেও কি ঘরে বসে থাকবেন? যারা এখনো বরিশাল আছেন কিন্তু আন্দোলনে আসেন না তারা কি পারেন না অন্তত বাকি কয়টা দিন সংগ্রামের সহযাত্রী হতে? জীবনে পড়াশোনা, ক্যারিয়ার গড়ার সময় অনেক পাবেন। কিন্তু এই সংগ্রামের সহযাত্রী হলে একদিন বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন সব সময় ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন।অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। মনে রাখবেন অন্যায় জেনেও প্রতিবাদ না করা অন্যায়েরই সামিল।
আপনাদের অনুপস্থিতিই বারবার প্রশাসনকে টালবাহানা করার সুযোগ করে দেয়। শেষ বারের মতো বলছি , আপনাদের ভাই বোনের বিপদে আর চুপ করে থাকবেন না। নিজের মধ্যে যদি ন্যূনতম বোধ থাকে যদি এই সংগ্রামকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন তবে কাল থেকে আন্দোলনে আসুন। নৈতিকতার জায়গা থেকে চলে আসুন।
এই কয়দিনে হয়তো আপনাদের নানা কথা বলছি, সেসব করেছি আন্দোলনের স্বার্থে।সেসব ভুলে আসুন না শেষবারের মতো একসাথ লড়াই করি।আর ঘরে বসে থাকবেন না । দয়া করে কাল থেকে এসে আমাদের সাহস যোগাবেন আশা করছি।

লোকমান হোসাইন
শিক্ষার্থী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
মার্কেটিং বিভাগ
এমবিএ ২য় বর্ষ

Top