মন্ত্রী দেখা না পেয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত নেতারা আবারো হতাশ!

karnafully-news-1.jpg

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটে নৌ-দূর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে দাড়ালেন মাননীয় ভূমি মন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (এমপি)।

১৪ এপ্রিল দুপুর বেলা নিহতের পরিবার বর্গের খোঁজখবর নিতে ডাঙ্গারচর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন ভূমি-মন্ত্রী।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিলো একই ইউনিয়নের জুলধা ডাঙ্গাচরের ১নং ওয়ার্ডে নিহত আকবরের বাসায়ও মন্ত্রী আসবেন। এমন খবরে শত শত নারী পুরুষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা মন্ত্রীর দেখা পায়নি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, নৌ-দূর্ঘটনায় নিহত পরিবার দুটির তাৎক্ষণিক ভরণ পোষনের দায়িত্ব নিলেন ভূমিমন্ত্রী এবং ব্যক্তিগত কল্যাণ তহবিল থেকে প্রতি পরিবারের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেন তিনি।

অপরদিকে জুলধা ডাঙ্গাচরের কয়েকজন মৃদু অভিযোগ তুলেছে, উপজেলা নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ডাঙ্গারচর ১নং ওয়ার্ডে অপেক্ষামান থাকা জনগণের কাছে মন্ত্রীকে না নিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে গেলেন। এর কারণ হিসেবে এলাকাবাসী ধারণা করছে জুলধা ডাঙ্গারচর প্রধান সড়কের খানাখন্দ অবস্থা।

কোন কারণে মন্ত্রী যদি সরাসরি এ সড়কের অবস্থা জানতে পারে তবে উপজেলা নেতাদের তিরস্কার করতে পারেন। এমন আশঙ্কায় নেতারা কৌশলে নৌ-দূর্ঘটনায় নিহত অপর পরিবারের কাছে নিয়ে যায়নি মন্ত্রীকে। এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ডাঙ্গারচরের শত শত মহিলা ও পুরষেরা তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখবেন সে আশায় ছিলেন। সে সুযোগে এলাকার মানুষেরা তাদের দাবি দাওয়া জানতে পারত। যা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হওয়ায় অনেকে বিরুপ মন্তব্য করতে শোনা যায়।

কেন না প্রতি বছরে স্থানীয় নেতারা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন জুলধা ডাঙ্গারচর প্রধান সড়কের উন্নয়নের কথা বলে কিন্তু বিগত ৬/৭ বছর যাবত মাটির সড়কেই রয়ে গেলো প্রায় সাড়ে বার’শ মিটার। ফকিরহাট আল মদিনা থেকে ডাঙ্গারচরের শেষ পর্যন্ত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কে। যা মন্ত্রী অবগত কিনা এটা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ডাঙ্গারচর ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বদি ও আখতারুজ্জামান স্মৃতি সংসদের সভাপতি জিএম কিবরিয়া বলেন, সকাল থেকে মন্ত্রী মহোদয় আসবেন এমন খবরে শত শত এলাকার মা বোন ভাঙ্গা সড়কে অপক্ষোয় থাকলেও কেন কি কারণে আমাদের অভিভাবকে আনা হয়নি সেটা বুঝতে পারিনি।

তবে অনেক মুরুব্বীরা বলতে শুনেছি মন্ত্রী আসলে সড়কের আবস্থা দেখতেন আর ব্যবস্থাও নিতেন কিন্তু সড়কের কাজ না করায় নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের তিরস্কার করতেন। এটাও অসম্ভব ছিলোনা বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটে নৌ-দূর্ঘটনায় পানিতে ডুবে তিনজন মারা যায়। যাদের দুজনের বাড়ি কর্ণফুলী জুলধা ডাঙ্গারচর ১নং ওয়ার্ডের মো. আকবর (৪০) ও একই এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের মো. হানিফ (৩৫)এবং অপরজন মোঃ হাবিবুর রহমান (৩০) বাড়ি শেরপুর জেলা।

Top