বেলা শেষে পরপারে

FB_IMG_1554918670404.jpg

মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত, তাই বলে এমন মৃত্যু না, যে মুত্যুর খবরে হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টা। কঠিন যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেলেন মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। কোন অপরাধে তার এভাবে চলে যাওয়া তার উত্তর নেই আমাদের। কারণ রাফিরা এভাবেই বেলা শেষে পরপারে চলে যায়। হাজারো নির্যাতিত রাফি না ফেরার দেশে আগেও গেছে, এখনো যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও যাবে। এ চলমান গতি থামানো যাবেনা কখনো। কেন জানেন…? আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছিনা বলে। রাফিদের এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী আমরা নিজেরা, দায়ী আমাদের পরিবার, দায়ী সমাজ, দায়ী এই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছি বলে অনেক দেশ প্রেমিকের দ্বিমত থাকতে পারে। রাষ্ট্রের বিচার প্রক্রিয়ার ধীর গতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, অর্থের অপব্যবহারে প্রাপ্ত সুবিধা, আত্মীয়করণ, অাধিপত্য বিস্তার, ব্যক্তি স্বার্থ হাছিল সহ ইত্যাদি কারণে অপরাধীরা ঘৃণ্যতম অপরাধ কর্মকান্ড সম্পাদনের পরেও আইনের ফাঁক দিয়ে পার পেয়ে যায়। আর শুরু করে নতুন অপরাধের অারেকটি অঙ্গরাজ্য। ধবংস হয় আরো ক’জন রাফির মত ফুটন্ত জীবন। তাই আমি এসব ঘটনার পিছনে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করেছি।

#পত্রিকার পাতায় লিখা- “ফেনীর সোনাগাজীর সেই অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী মারা গেছেন। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ঢামেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসক অধ্যাপক রায়হানা আওয়াল।”

#উদ্ধার করা হয়েছে রাফির লেখা শেষ চিঠিঃ
‘তামান্না, সাথী,
তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ঔ দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস। তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে ? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় রুমের ভেতর বলতেছে— নুসরাত ডং করিসনা। তুই প্রেম করিসনা। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে…। আমি লড়বো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও তার সহযোগী কর্তৃক মেয়েটিকে পুঁড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। অবশেষে চেষ্টা সফল হলো। ক’দিনের তীব্র অসহনীয় যন্ত্রনা ভোগ করতে করতে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মেয়েটি। সাথে ভেঙ্গে গেল একটি পরিবারের হাতেগড়া একটি স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের হাজারো স্মৃতি। আর চিরতরে ধবংস হলো একটি মেয়ের অনাগত জীবনের প্রতিটি মৃহৃর্ত।

প্রতিবারের ন্যায় আশা নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখি, কাল সকালে বুঝি নতুন সূর্য উদয় হবে। রাফিরা সঠিক বিচার পাবে। অপরাধীরা বিদায় নিবে এই জন্মভূমি থেকে। তবে প্রতিবারই নিরাশায় ভোরের পাখি ডাকে। ক্ষমাপ্রার্থী হে বোন, আল্লাহ তোমাকে জান্নাত দান করুক, আমিন।

#লেখকঃ এস. এম. রুবেল
বার্তা সম্পাদক
মেইল- [email protected]

Top