হাসপাতালসহ ৯৫ ভাগ ভবনই অগ্নি ঝুকিপুর্ণ: ফায়ার সার্ভিস

56328622_285910205666183_2914014157898514432_n.jpg

মোঃ রাফিউল ইসলাম (রাব্বি)। স্টাফ রিপোর্টার, (রংপুর):

রংপুর নগরীর বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ভবন পরিদর্শনে তৎপরতা বাড়িয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রতিদিনই নগরীর কোন না কোন এলাকায় চলছে অগ্নি ঝুকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন। আজ শনিবার দুপুরে নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার রমিসা টাওয়ার এবং কাচারী বাজার এলাকার রেজেকা টাওয়ার পরিদর্শন করা হয়। এসময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণসহ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ভবন দুটিতে অগ্নি ঝুকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিন্থিত করে ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়া হয়। পরিদর্শনকালীন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক ইউনুস আলী সাংবাদিকদের জানান নগরীর ৯৫ ভাগ ভবনেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণসহ অগ্নি দূর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়ম মানছেন না ভবন মালিকরা। একারণে দিন দিন এসব ভবনে বাড়ছে অগ্নিকান্ডের ঝুকি। আমাদের প্রতিনিধি দল ভবন পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন। যেসব ভবনে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বা ব্যবস্থা পাওয়া যাবে না তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব আইনে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে ফায়ার সার্ভিসের আগুণের ঝুকির তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি। এই সরকারি হাসপাতালটিতে প্রতিদিন চিকিৎসা নেয় প্রায় দুই হাজার রোগী। এছাড়াও অগ্নি ঝুকিতে রয়েছে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কছিরউদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল।

হাসপাতালের মতো নগরীর বেশির ভাগ মার্কেট ও অগ্নি ঝুকিতে রয়েছে। জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কমিউনিটি সুপার মার্কেট, জাহাজ কোম্পানী শপিং কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টাওয়ার, শাহ্ আমানত টাওয়ার, মিনি সুপার মার্কেট, সিটি বাজার, নবাবগঞ্জ বাজারসহ ছোট বড় বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেটগুলোতে অগ্নি নির্বাপণের নেই সামান্য ব্যবস্থা। এসব মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে মূহুর্তেই প্রাণ হারাতে পারে শতশত মানুষ। দেখা গেছে রংপুর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে প্রতিদিন হাজারো ক্রেতার সমাহার। এই মার্কেটের ভিতরে প্রবেশ ও বাহির হবার জন্য রয়েছে মাত্র তিনটে গেট। কিন্তু এতো বড় সংখ্যক ক্রেতা প্রতিদিন এই মার্কেটটিতে আসলেও অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে নেই কোন ব্যবস্থা। সেকারণে এখানে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতারা প্রতি মুহুর্তেই থাকেন এক ধরণের অগ্নি আতঙ্কে। জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের মতোই চিত্র অন্য মার্কেটগুলোরও। আর বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে রয়েছে বেসরকারি ব্যাংক, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এগুলোর বেশির ভাগেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও ফায়ার এ্যলার্ম নেই। রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ তলা থেকে ১৭ তলা পর্যন্ত প্রায় তিনটি ভবন রয়েছে। যার বেশির ভাগেরই নেই অগ্নি নির্বাক ব্যবস্থা। ফলে ভবনগুলোতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অসংখ্য মানুষের হতাহতের ঝুকির সাথে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হবার সম্ভাবনা। এসব ভবন ও মাকের্ট দেখভালের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের হলেও ভবন মালিকরা নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছেন, নিয়ম অমান্যকারীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কাজ শুরু করছেন তারা।

এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ভবন মালিক, তাদের বেশির ভাগ নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তারা ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেননি। এমনকি আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কি রকম ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেই পরামর্শটাও গ্রহণ করেনি।’

Top