আগামী ৩০ এপ্রিল রংপুর অাইনজীবী সমিতির নির্বাচন।

received_2016055782022778.jpeg

মোঃ রাফিউল ইসলাম (রাব্বি)
স্টাফ রিপোর্টার , (রংপুর)।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে পুরো আদালত এলাকা বেশ সরগরম। অনেক প্রার্থী ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনাসহ তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইছেন। তবে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিনটি প্যানেলে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিলেও বিএনপি ও জামায়াত জোট একটি প্যানেলে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করা নিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন আওয়ামী লীগের একাধিক প্যানেল থাকলে এর সুবিধা পাবে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। ফলে এ ব্যাপারে দ্রুত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রংপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২২ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহ্যবাহী রংপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রংপুর আইনজীবী সমিতির পর পর দুবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুল মালেক অ্যাডভোকেট সভাপতি পদে এবং দুবার সভাপতি পদে নির্বাচিত আবদুল হক প্রমাণিক অ্যাডভোকেট সাধারণ সম্পাদক পদে মালেক হক পরিষদ ইতোমধ্যেই তাদের প্যানেল চূড়ান্ত করেছে।
আব্দুল মালেক বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিনি জানান, রংপুর আইনজীবী সমিতি এরআগে বিএনপি জামায়াত দখল করেছিল। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরাই রংপুর আইনজীবী সমিতিকে নেতৃত্ব প্রদান করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু আইনজীবী নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আলাদা প্যানেল দিয়ে নির্বাচন করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের কারণে বিগত নির্বাচনে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী পরিষদের প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম অ্যাডভোকেটের কাছে পরাজিত হয়।
তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে রয়েছে। আর যারা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে আলাদা প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করতে চান তারা মূলত বিএনপি-জামায়াত জোটের প্যানেলকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর আইনজীবীদের জন্য দু কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। সেই টাকা দিয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। আইনজীবীদের জন্য আলাদা শেড নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আইনজীবীদের উন্নয়নে নানামুখী কর্মকান্ড চলছে। ফলে জয়ের ব্যাপারে তিনি প্রচন্ড আশাবাদী বলে জানান।
অপরদিকে রফিক হাসনাইন অ্যাডভোকেট সভাপতি আর নির্মল চন্দ্র মাহাতাকে সাধারণ সম্পাদক করে আওয়ামী লীগের অপর একটি প্যানেল আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। এ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী রফিক হাসনাইন বলেন, আমরাই প্রকৃত আওয়ামী লীগার; আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করি। অপর প্যানেলকে আওয়ামী লীগের প্যানেল বলে মনেই করেন না তিনি। সাধারণ আইনজীবীরাও তার সঙ্গে আছেন বলে দাবি তার।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন অ্যাডভোকেট জানান, মালেক ও হক পরিষদ প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ৯০ ভাগ আইনজীবী আছেন, সাধারণ আইনজীবীরাও তাদের সমর্থন করছেন বলে দাবি করেন তিনি। অন্য প্যানেল সর্ম্পকে তিনি বলেন, তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেন কিনা, আইনজীবীরা বিচার করবেন। আইনজীবীরা জানেন কারা জননেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয় সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের পক্ষে অংশ নিয়েছেন, আর কারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে জাপার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন সেটা আইনজীবীরা জানে বলে জানান। এসব বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাধারণ আইনজীবী জানান, আওয়ামী লীগের একটি প্যানেল দেয়া উচিত, না হলে ভোট ভাগাভাগি হবে। লাভবান হবে বিএনপি জামায়াত জোট সমর্থিত প্যানেল। এদিকে এ দুই প্যানেল ছাড়াও সাজেদ হোসেন তোতার নেতৃত্বে আরও একটি প্যানেল আওয়ামী লীগের প্যানেল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একটি প্যানেল নির্বাচন করুক এমন পদক্ষেপ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু অ্যাডভোকেটের বাসায় সবাইকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু জানান, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি প্যানেল দেয়ার জন্য আলোচনা চলছে, এটা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি। এদিকে বিএনপি জামায়াত জোট একটি প্যানেলে নির্বাচন করবে বলে সভাপতি প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম অ্যাডভোকেট জানিয়েছেন।

Top