প্রাকৃতিক সম্পদের চমৎকার প্রয়োগে শুধু অন্ধকারে জ্বলবে বাল্ব

55857798_1988360728137751_5286963484196601856_n.jpg

জাহেদুর রহমান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার ; চট্টগ্রাম।

প্রাকৃতিক নিয়মে সূর্যাস্ত হয়,আবার রাত পেরিয়ে পূর্ব আকাশে উদয় হয়। বর্ষিত হয় পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রত্যেক বর্গমিটারে প্রায় ১,০০০ ওয়াট এনার্জি।দিনশেষে প্রতিদিনেই এভাবে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের । তাছাড়া খুব সকালে ঘুম ভাঙেনা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক,দারোয়ানের। এতে ভোর বেলা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলে অফিস,দালান-কোটার ভিতরে বাইরের লাইট। অপচয় হয় বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে অভিনব এক উদ্ভাবনি প্রকল্প নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩য় স্থান অধিকার করেছে রাঙ্গুনিয়ায় সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ।

চট্টগ্রাম জেলার শিশুমেলা মডেল স্কুলের মাঠ প্রাঙ্গনে দুই দিন ব্যাপী ৪০তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পেটির অবস্থান ছিল মেলার প্রবেশমুখের ডানপাশে। প্রকল্পের স্টলের চতুর্দিকে সাদা-কালো রঙিন বেলুনে আর রজনীগন্ধার সুসজ্জিত জলসায় শিক্ষার্থী ও দর্শকের ভীড় ছিল সর্বাক্ষনিক।
পাঁচজনের প্রচেষ্টায় নির্মিত প্রকল্পটির দলনেতা দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদ হোসেন থেকে জানা যার প্রজেক্ট তৈরির গোপন রহস্য । মূলমন্ত্র হচ্চে সোলার এবং সার্কিটে বিসি৫৪৭ এনপিএন ট্রাঞ্জিস্টরের ব্যবহার। সোলার সরাসরি সূর্যের আলোকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে পাঠাবে বিসি৫৪৭ এনপিএন ট্রাঞ্জিস্টরে। আর
ট্রাঞ্জিস্টর সুইচ করতে হলে পজিটিভ চার্জ দরকার হয় সেজন্য সেন্সর হিসেবে এলডিআর বা লাইট ডিপেন্ডেন্ট রিসিস্টর ব্যবহার করা হয়। এটি এক ধরণের ফটো রিসিস্টর।এলডিআর এর রেজিস্ট্যান্স বা রোধকত্ব তার ওপরের আলোর উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে।যখন এলডিআর এর উপরে আলোর উপস্থিতি বেড়ে যায়, তখন এলডিআর এর রিসিট্যান্স অনেক কমে শূন্যের কোঠায় চলে যায়। আবার যখন আলো কমে যায় তখন এর রোধকত্ব বেড়ে যায় এবং প্রায় ১ মেগা ওহমের উপরে চলে যায়। ট্রাঞ্জিস্টরে পজিটিভ বায়াস দিতে একটা ১০০ কিলো ওহমের ভলিউম বা পটেনশিওমিটার ব্যবহার করতে হয় এবং এলডিআর দিয়ে গ্রাউন্ড বায়স তৈরি করা হয়। যখন এলডিআর এর উপরে আলো পড়ে তখন রোধ কমে যায় এবং পজিটিভ চার্জ ট্রাঞ্জিস্টর সুইচ না করে গ্রাউন্ডে চলে যায়। আর এলইডি বন্ধ থাকে।আবার এলডিআরে ছায়া পড়লে এলডিআর এর রোধ বেড়ে যায় এবং পজিটিভ চার্জ আর গ্রাউন্ডে না যেয়ে বেজ সুইচ করে। আর এলডি (লাইট) জ্বলে ওঠে।
প্রকল্পের উপনেতা দশম শ্রেণী শিক্ষার্থী তানজিরুল আলম বলেন ; ” বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ অপচয় রোধে প্রজেক্টটি কোম্পানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, টানেল নির্মাণে ব্যবহার হলে অনেকাংশ বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহযোগী হবে আমাদের এই প্রকল্প।

সহকর্মীরা জানান ; চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্চে বাংলাদেশের প্রথম টানেল। প্রয়োজন হবে বিদ্যুতের। আমাদের প্রকল্প মোতাবেক সোলার এবং ডার্ক সেন্সর ব্যবহার হলে বিদ্যুতের সঞ্চয় হবে।

সার্বিক পরামর্শ, প্রেষণা ও সহযোগী ছিলেন বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক আজগর হোসেন, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও জান্নাতুল ফেরদৌস। শিক্ষকরা বলেন ; তাদের প্রচেষ্টা ও সৃজনশীলতা বহিঃপ্রকাশে আজকের প্রকল্প। তারা ভাবনার মূল্যায়নের সুযোগ পেলে আরও নতুন কিছু করার সাহস পাবে।

সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন ; তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা বিদ্যালয়ের সুনাম বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে ।আমরা সবসময় তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাব ।তারা ভবিষ্যৎ আরও ভালো কিছু করবে দেশের মঙ্গলের নিমিত্তে।

Top