১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন।

55502495_305111986837885_7866545417977069568_n.jpg

মুক্তা আক্তার:

স্বাধীনতার ইতিহাস রচনার যে সূচনা পাক হানাদার বাহিনী করেছিল আজ তার ৪৮ বছর পেরিয়েছে । আজকের এই কালো রাতে নিরীহ ঘুমন্ত বাঙালীর উপর নির্মম, বর্বর ও পশুত্বের পরিচয়পর্ব রচনা করে পাকিস্তানি হায়েনার দল। আর তারই মধ্য দিয়ে রচিত হয় স্বাধীনতার মহান যুদ্ধের ইতাহাস। আমরা জানি যে, ২৫শে মার্চকে কালরাত্রি তথা জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।

এবারের ২৫ মার্চকে কেন্দ্র করে ভিন্নতর চিন্তা ও প্রত্যাশার আলোকে এক উদ্যোগ নেয় ৭১’র চেতনা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গঠিত সংগঠন। ৭১’র চেতনার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থিত শাখার সমন্বয়ে এক মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আবদুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সেচ্ছাসেবী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সাধারণ মানুসের অংশগ্রহণে মানববন্ধনটি পরিচালিত হয়।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন ভিন্নধর্মী আয়োজনের অংশ হতে পেরে ৭১’র চেতনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, ” জাতীয় গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি বাঙালীর অন্যতম প্রাপ্তির অংশ হবে বলে আমি মনে করি”

৭১’র চেতনার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মাদ লোকমান হোসেন বলেন, “গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের দাবী, এটি শুধু বাঙ্গালি নয় মানবতা বোধে উজ্জীবিত বিশ্বের প্রতিটি মানুষের দাবী হওয়া উচিৎ” ।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও স্কুল কার্যক্রমের পরিচালক মুক্তা আক্তার মনে করেন, “বাঙালীর নিজ দাবী নিজেকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেমনটা মুক্তিযুদ্ধে ও এর পূর্ববর্তী ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা পাই। ”

ইতোপূর্বে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনতে দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এবং বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায় পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মাত্র নয় মাসে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। শুধু হত্যা নয়, দুই লাখেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ ও নৃশংস নির্যাতন করে পৈশাচিক কর্মকান্ড চালায়। এছাড়া এক কোটি মানুষকে দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। এমন অল্প সময়ে এতো বেশি সংখ্যক মানুষ হত্যার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি মানুষ মারা গেলেও, সেই যুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল প্রায় ছয় বছর এবং ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় তিনটি মহাদেশে।

মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ পাকিস্তান চালিয়েছিলো তার দগদগে ঘা নিয়ে হাজারো পরিবার জীবন যাপন করছে। পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে হুইল চেয়ারে মৃত্যুর অপেক্ষায় কত-শত বীর মুক্তিযোদ্ধা দিন কাটাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের এতগুলো বছর (১৯৭১-২০১৯) পরেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতো বড় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না দিয়ে বাঙালীর সাথে বড় ধরনের বৈষম্য করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞগণ।
গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দানের দাবিতি মানববন্ধনে অংশ নেয়া সকলের মাঝে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। এসময়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমাজের সচেতন নাগরিকদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেবার জন্য আহ্বান করেন।
সবশেষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গঠনমূলক আলোচনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ৭১’র চেতনা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

Top