দোয়ারাবাজারের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই

download-1-9.jpg

এম এ মোতালিব ভুইয়াঃ

দোয়ারাবাজার উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৭০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩৫টির নেই কোন শহীদ মিনার। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অবহেলা এবং সরকারি তহবিলের অভাবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শহীদ মিনার ছাড়াই চলছে। সাধারণত ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনার তৈরি করা হলেও স্বাধীনতা দিবস, বুদ্ধিজীবী দিবস কিংবা বিজয় দিবসের মতো দিনগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠান শহীদ মিনারেই পালিত হয়। কিন্তু শহীদ মিনার না থাকায় দোয়ারাবাজারের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এসব দিবস উদযাপন থেকে বঞ্চিত হয়। উপজেলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এসব দিবসের কোন গুরুত্বপূর্ণ দিক বা তাৎপর্য তুলে ধরা হয় না। এমনকি কোন কর্মসূচীই পালন করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন, ইফতাদায়ী ও মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ মিলে মোট ১৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টিতেই কোন শহীদ মিনার নেই আর রয়েছে মাত্র ৩৫টি শহীদ মিনার। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি অথবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করার নির্দেশ থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং ওই নির্দেশকে উপেক্ষিত করা হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস থেকে শুরু করে সকল দিবসের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা নেয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। তবে, শহীদ মিনার নেই এমন কিছু সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এলাকার কিছু কিছু গ্রামে ১৬ ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারী এবং ২৬ শে মার্চ দিবসগুলো আগমনে দেখা যায় উজ্জীবিত কিছু যুবক-যবতী এবং ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের উদ্যোগে এলাকার বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় কলা গাছ পুঁতে বাঁশ, কাঠ ও বিভিন্ন রংগের কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে সেখানে পালন করে মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবস। সেই সাথে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও পুষ্প-অর্পণ করা হয় ওই সব অস্থায়ী শহীদ মিনারে। এতে করে মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা এবং স্বাধীনতা দিবসের মান উজ্জল হওয়ার চাইতে ক্ষুন্ন হওয়া ছাড়া আর কিছুই চখে পড়ে না।নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক প্রধান শিক্ষকরা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারী ও ২৬ শে মার্চ দিবসগুলো পালনের জন্য আমরা অনেক জাগ্রত হই। এরপর ঐসব বিষয়ে আর কেউ তেমন মনে রাখে না। মাসের পর মাস ধরে দেখি উপজেলা বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য অনেক বরাদ্দ আসে। অথচ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনা নির্মাণের জন্য কোন বরাদ্দ আসে না।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সফর আলী বলেন, যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় মহান বিজয় দিবস,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসসহ সকল জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ পালন না করায় প্রকৃত ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই সব শিক্ষার্থীরা। এজন্য আমি ওই সব এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে দোয়ারাবাজার সহকারী উপজেলার শিক্ষা অফিসার অনুকুল চন্দ্র দাস বলেন , সরকারি ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য আমাদেরকে কোন অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হয়না। ইতোমধ্যে আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫টি শহীদ মিনা নির্মাণ হয়েছে এবং আরও শহীদ মিনার নির্মাণ করার প্রস্তুতি চলছে।

Top