পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আজ

received_606609443138227.jpeg

৪০ কেন্দ্রে উদ্বেগ-আতঙ্কে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এক লাখ ৬ হাজার ২৮৯ জন ভোটার

সাঈদী আকবর ফয়সাল,স্টাফ রিপোর্টার :

ততৃীয় ধাপে আজ রোববার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে সুষ্টু ও নিরপেক্ষ ভোট আদায়ের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষথেকে জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনে সাতজন ৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ সদস্য করে একশত সদস্য নিয়ে ৫ প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের ১৬৮ সদস্য কাজ শুরু করেছেন। এছাড়াও ৪০টি ভোট কেন্দ্রের ২৫০টি বুথে ৪ শতাধিক আনসার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলার সবকটি কেন্দ্রেকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভেবেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের দুই সদস্য ও আানসারের টিম কাজ করবে। এছাড়া ৯ সদস্য করে তিনটি পুলিশের টিম স্ট্রাইকিং ও ১০টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে।
অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন, রাজাখালী, টেইটং, বারবাকিয়া, শীলখালী, উজানটিয়া ও মগনামাসহ সাতটি ইউনিয়নের ১ লাখ ৬ হাজার ২৮৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং সাধারণ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের সবধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেলে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।
নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম (নৌকা) নাকি আওয়ামীলীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এসএম গিয়াসউদ্দিন (আনারাস) এবং অপর প্রার্থী পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (দোয়াত কলম) জিতবেন তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ বলছেন নৌকার সাথে আনারসের, আবার কেউ বলছেন নৌকার সাথে দোয়াত কলমের লড়াই হবে। সেই জল্পনার অবসান দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোববার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত।
এদিকে নির্বাচনকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে গতকাল শনিবার দুপুরে পেকুয়া থানা কম্পাউন্ডে কেন্দ্রে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভায় দিকনিদের্শনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.ইকবাল হোছাইন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ভুঁইয়া, ওসি তদন্ত মো. মিজানুর রহমানসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.ইকবাল হোছাইন। বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা কেন্দ্রে ঝামেলার সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে এ্যাকশনে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশৃংখলাকারী যেই হোকনা কেন, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য যদি জড়িত থাকে তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসার জন্যও অনুরোধ জানান।
চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাচন সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবেনা। আশা করি চকরিয়ার মতো একটি সুন্দর ও সুশৃংখল নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।
পেকুয়া উপজেলা সহকারী রিটানিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ ভোট আদায় করতে ৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ সদস্য করে ১শত সদস্য নিয়ে ৫ প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের ১৬৮ সদস্য কাজ শুরু করেছেন। তাছাড়া ৪ শতাধিক আনসার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলার সবকটি কেন্দ্রেকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁিকপুর্ণ) ভেবেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের দুই সদস্য ও আানসারের টিম কাজ করবে। এছাড়া ৯ সদস্য করে তিনটি পুলিশের টিম স্ট্রাইকিং ও ৬ সদস্যের ১০টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে।
জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪০টি কেন্দ্রের ২৫০টি বুথে ১ লাখ ৬ হাজার ২৮৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং সাধারণ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।#

Top