প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ দেওয়া নিয়ে ভিপি নুরের আপত্তি

IMG-20190323-WA0014.jpg

ছাত্রদলের কালো ব্যাচ ধারণ করে মিছিল; দায়িত্ব নেওয়ার দিনে লাল কার্ড প্রর্দশন

সিনজাত রহমান সানি,ঢাবিঃ

প্রায় তিন দশক ধরে অচলাবস্থার পর আজ ভিপি নুরুল হক নুরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত নেতাদের অংশগ্রহণে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শুরু হওয়া ডাকসুর প্রথম কার্যকরী সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব তোলেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি। এরপর সভায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করেন ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। সভায় নুর বাদে ২৪ জন প্রস্তাবে সম্মতি জানান বলে দাবি করেন গোলাম রাব্বানী।

তবে ডাকসু ভিপি ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর দাবি করেন, সভায় সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেনও ওই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন।ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা বলেছি যে নির্বাচিন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সে রকম একটি জায়গা থেকে আমি মনে করি না যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য পদ প্রদান করা উচিত। সে জায়গা থেকে আমিসহ কয়েকজন বিরোধিতা করেছেন। ‘আমরা বলেছি প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তি। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান। সুতরাং আমরা বলেছি যে, ডাকসুর আজীবন সদস্য পদ দেয়াটা তার জন্য বড় কিছু নয়। যেখানে এ নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্কিত একটি অবস্থান রয়েছে, আমরা যখন দায়িত্ব নিচ্ছি শিক্ষার্থীরা, আমার ভাইয়েরা বোনেরা পুনর্নির্বাচেনের দাবি করে বিক্ষোভ করছেন, মিছিল করছেন।’এরপর নুরের বক্তব্যের বিরোধিতা করে জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় ডাকসুর যে কমিটি রয়েছে সেখানে ২৩ জন এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন এবং একমাত্র ভিপি নুর দ্বিমত পোষণ করে বলছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।’রাব্বানী বলেন, ‘প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে ২৩:২ অনুপাতে গৃহীত হয় গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি সংখ্যাগত দিক থেকে গৃহীত হয়ে গেছে। এটা সলভড ইস্যু।’

তবে তিনি দাবি করেন, আকতারের অবস্থান প্রস্তাবের পক্ষে ছিল। যদিও সংখ্যাগত দিক থেকে দুই জন বিরোধিতা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।এর আগে বেলা ১১টার কিছু পর ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডাকসুর কার্যকরী সভা শুরু হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাকসুর জিএস গোলাম রব্বানী। এরপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।এরপর রাব্বানী কেন্দ্রীয় সংসদের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় জিএস সভাপতির কাছে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি নেন। এক বছরের জন্য অনুমতি দেন ভিসি ড. আখতারুজ্জামান।
প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে ডাকসুর সভাপতি ও ভিসি ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আজ প্রায় এই তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি যে উৎসাহ দিয়েছেন, সদা সহযোগিতা করেছেন, যে আশ্বাস তিনি আমাদের দিয়েছিলেন তার সবই তিনি বাস্তবায়ন করেছেন, যার ফলে আমরা আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছিলাম। তিনি পাশে থাকায় এই নির্বাচন আয়োজনে নিজেদের অত্যন্ত শক্তিশালী অনুভব করেছি। তার কারণেই মূলত আজকের এই কার্যকরী পরিষদ পুনর্জীবিত হলো। এ কারণেই আমাদের কার্যকরী পরিষদের সবাই সহমত জ্ঞাপন করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি প্রস্তাবনায় এসেছে। এটি আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে এজেন্ডা দিয়ে পরবর্তী সভায় গঠনতন্ত্র দেখে এই মহৎ উদ্যোগটি গ্রহণ করবো। এটি আজকের সিদ্ধান্ত।

’অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।শনিবার দুপুর ১২টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল শুরু করে ছাত্রদল। এরপর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করে।

ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক বলেন, যারা নির্বাচনের সাথে জড়িত ছিল তারা বিকৃত বুদ্ধি এবং মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষ ।যারা জালিয়াতির নির্বাচনের সাথে জড়িত প্রত্যেকের শাস্তির দাবি এবং নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচন নেয়ার দাবি জানান।এছাডাও প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য নতুন ভিপি দায়িত্ব নেয়ার দিনে কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে। শনিবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টায় নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাষ্কর্যে এ কর্মসূচী পালন করে তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৌত্রি, ছাত্র ফ্রন্ট সহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতাকর্মী সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Top