নিউজিল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে আজান সম্প্রচারের পর সমবেত নীরবতা পালন

Jacinda-Ardern20190322110702.jpg

শোকানুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নসহ শত শত নারী হিজাব পরে যোগ দেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের ওপর এক শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীর বর্বরোচিত হামলায় নিহতদের স্মরণে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় দুই মিনিট নীরবতা পালন করলো নিউজিল্যান্ডবাসী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে আজান সম্প্রচারের পর এই নীরবতা পালন করা হয়।

হামলার শিকার আল-নূর মসজিদের পাশে হেগলি পার্কে শুক্রবার (২২ মার্চ) ১টা ৩২ মিনিটে এ নীরবতার কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন। মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনিসহ শত শত নারী শোকানুষ্ঠানে আসেন হিজাব পরে। যোগ দেন হাজারো নিউজিল্যান্ডার।

গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল-নূরসহ ওই দুই মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে বর্বরোচিত কায়দায় গুলি চালাতে থাকে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী উগ্রবাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৮)। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত এই বর্ণবাদীর গুলিতে নারী-শিশুসহ ৫০ জন নিহত হন। পরে ট্যারেন্টকে গ্রেফতার করা হয়।

নজিরবিহীন এ হামলার পর শোকে মুষড়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। বৃহস্পতিবারই (২১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা জানান, হামলায় যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেরকমসহ সব সামরিক স্টাইলের আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ হবে নিউজিল্যান্ড।

শুক্রবারের শোকানুষ্ঠানের ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম জানায়, সরকারের ঘোষিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুপুরের আগে থেকেই হেগলি পার্কে জড়ো হন হিজাব-পরিহিত শত শত নারীসহ হাজারো নিউজিল্যান্ডার। কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা।

১টা ৩০ মিনিটে দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হয় আজান। এরপরই দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

তার আগে শোকাভিভূত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিশ্বাসীরা (মুমিন) সবাই যেন একটি দেহ। দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো শরীর এর ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডবাসী আপনাদের মতোই শোকাহত। আমরা ঐক্যবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে আল-নূর মসজিদের ইমাম জামাল ফৌদা বলেন, ‘বন্দুকধারী বিশ্বের লাখো কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙেছে। আজ সেই একই জায়গায় আমি দেখছি ভালোবাসা ও সহানুভূতি।

’আল-নূর মসজিদ প্রাঙ্গণে জুমার নামাজে অংশ নেন শত শত মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত


বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডবাসী ঐক্যবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হৃদয় হয়তো ভেঙেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি একসঙ্গে। আমাদের বিভাজিত করার সুযোগ আমরা কাউকে দেবো না বলে, এ ব্যাপারে নিউজিল্যান্ডবাসী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৭২ বছর বয়সী জন ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা নিজেদের উদার জনগোষ্ঠী বলেই ভাবতে চাই। কিন্তু কিছু সময় অন্ধকারও থাকে। আমাদের এই শোকানুষ্ঠান যেমন নিউজিল্যান্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তেমনি বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও একটা বার্তা দেবে বলে মনে করি।’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আল-নূরের মতো শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে অনেক মসজিদ খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। মসজিদের বাইরে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করবেন স্থানীয়রা। হামলায় নিহতদের মরদেহও আজ মেমোরিয়াল পার্ক সিমেট্রিতে একসঙ্গে দাফনের কথা রয়েছে।

Top