দোয়ারায় ফেয়ার প্রাইজের চাউল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

received_2293771450836762.jpeg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
দোয়ারাবাজারে ন্যায্য মুল্যে ফেয়ার প্রাইজের চাউল বিক্রির অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে উপজেলা সদরের দুইটি ডিলারের মাধ্যমে সদর ইউনিয়নের ৭৫৫ জন উপকারভোগী ন্যায্য মুল্যে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাউল ক্রয় করে।উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৩০ কেজির চাউলের বদলে ডিলাররা উপকারভোগীদের বালতি দিয়ে ২৫/২৬ কেজি চাউল দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বুধবার সকালে দোয়ারাবাজারে মহিলা মার্কেটে ডিলার আমরু মিয়া চাউল বিক্রির সময় কোন তদারকি অফিসার না থাকায় উপকারভোগীদের কম চাউল দিয়ে বিদায় দেন।এসময় মাজেরগাঁও গ্রামের রুয়াব আলী ও আল আমিন দুইজন গ্রাহক বাজারের চাউলের বস্তা ওজন মাপার পাল্লায় উঠালে কোন বস্তায় সারে ২৫ কেজি আর কোন বস্তায় ২৬ কেজি চাউল পান তারা। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পরে।
কার্ডধারী রুয়াব আলী বলেন, আমার আগে প্রায় একশজনের মধ্যে চাউল দেয়া হয় বালতি দিয়া। পরে আমরা বাজারে গিয়া চাউল ওজন করি এতে আমারা চাউল কম পাই।মাছিমপুর গ্রামের আমিনুল বলেন, বুধবার সকালে আমরা চাউল নেয়ার জন্য আসলে তখন দেখি বালতি দিয়া চাউল দিচ্ছে ডিলারের লোকজন, আমি তখন বালতি দিয়া চাউল না দেয়ার জন্য বারণ করি। ডিলার আমরু মিয়া আমাকে ধমক দিয়া বলে, বালতি দিয়া চাউল নিলে নেও না নিলে বিদায় হও। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, আমরু মিয়ার ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়া হোক।

উপজেলা নবীনলীগের সভাপতি ছদরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার গরীব অসহায়দের জন্য ন্যায্য মুল্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাউল দিচ্ছে। আর ডিলাররা অনিয়ম করছে, ৩০ কেজি চাউলের বদলে উপকারভোগীদের ৪/৫ কেজি করে কম দিচ্ছে। আমি চাই দুর্নিতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের ডিলারশিপ বাতিল করার জোর দাবি জানাচ্ছি ।

তদারকি অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মেহের উল্লাহ বলেন, বুধবার সকাল থেকে আমাদের শিক্ষা সপ্তাহের বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার প্রতিযোগীদের বাচাই পর্ব ছিল। আমি ছিলাম সেই জামেলায়
ব্যস্থ ছিলাম এসময় আমরু মিয় আর তমাল সরকার চাউল বিতরণ করছিল। চাল কম দেয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি উপস্থিত হয়ে দেখি চাল আসলেই কম দেয়া হচ্ছে। তাৎক্ষনিক ভাবে চাউল বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেই এবং যাদেরকে চাউল দেয়া হয়েছে তাদের চাউল দেয়ার পর পুনরায় চাউল বিতরণের নির্দেশ দেয়া হবে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয় মমতাজ বলেন,যারা চাউল ওজনে কম দিয়েছে তাদের কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কার্ডধারীদের বাকি চাউল দেয়ার জন্য। পরিপুর্ণ চাউল দেয়া হয়ে পরবর্তী বিতরণের নির্দেশ দেয়া হবে। আর ৩০ কেজির কম চাউল দেয়া হলে সেচ্ছায় ডিলারশিপ ছেড়ে দিতে হবে অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Top