আদমদদীঘিতে বিদেশী পিস্তলসহ ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার

adamdighi-20-03-19.jpg

SAMSUNG CAMERA PICTURES

মোঃ মোমিন খান,
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার আদমদীঘি সান্তাহারে বিরোধের জেরধরে মুক্তিযোদ্ধার বাসায় হামলা ভাংচুর মারপিট ও লুটের মামলার তদন্ত কালে পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে সান্তাহারস্থ ছাত্রলীগ নেতা সজলের বাসা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ মশিউর রহমান সজল (২৫) ও একরামুল হক শুভ (২২) নামের ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে। সজল সান্তাহার পোষ্ট অফিস পাড়ার মহসিন আলীর ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগ এবং শুভ সান্তাহার হলুদঘর পাড়া এজাজুল হকের ছেলে ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতা। এ ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক তহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে ওই দুইজনকে আসামী করে একটি এবং ভাইস চেয়াম্যান পদে পরাজিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী বাদি হয়ে নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান পিন্টুসহ ১২জনকে আসামী করে দ্রæত বিচার আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত আনছার আলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাইক মার্কা নিয়ে পরাজিত হয়। ২০১৮ সালে আনছারের ছেলে মারুফ হাসান রবিন ও মশিউর রহমন সজল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে প্রতিন্দন্দিতা করে। ওই সময় জেলা কমিটির একটি অংশ মশিউর রহমান সজলকে ুপেেজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দিলেও কেন্দ্র থেকে অনুমোদন নিতে ব্যর্থ হয়। এদিকে ছাত্রীলীগ নেতা মশিউর রহমান সজলের মামা মাহমুদুর রহমান পিন্টু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল মার্কা নিয়ে প্রতিন্দ›িদ্বতা করে জয়ী হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে পরাজিত প্রার্থী আনছার আলীর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হাসান রবিন ও জয়ী প্রার্থী মাহমুদুর রহমান পিন্টুর ভাগ্নে ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান সজলের মধ্যে সান্তাহারে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরধরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মশিউর রহমান সজল ও শুভসহ তার দলবল নিয়ে রবিনকে খুঁজতে মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলীর মাইক্রো বাসস্ট্যান্ড বাসায় হামলা করে ভাংচুর আনছার আলীকে মারপিট ও নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুট করে। এ ঘটনায় আনসার আলী নব নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান পিন্টু, মশিউর রহমান সজল, শুভ, একরামুল হক, মোরশেদ, সোহাগ, জয়, মাইনসহ ১২জনের বিরুদ্ধে দ্রæত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই এই মামলার আসামী ধরতে পুলিশ অভিযানে বের হয়ে নব নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মামহুমুদর রহমান পিন্টুর বাসায় অত্মগোপনে থাকা আসামীদের গ্রেফতারে জন্য তার বাসায় যান এবং দরজা খুলে না দেয়ায় পুলিশ প্রায় দেড় ঘন্টা অবস্থান শেষে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ বাসায় করে সজল ও শুভ নামের দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে। আসামী একরামুল হক শুভের দেয়া তথ্যানুসারে ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান সজলের শয়ন ঘরের খাটের তোষকের নীচে লুকিয়ে রাখা বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিন উদ্ধার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক জানান আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদরে জন্য ৫দিনের রিমান্ডের আবেদন করে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
#

Top