ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী স্মৃতিতে চট্টগ্রাম কলেজ–জিয়া হাবীব আহসান

Zia-Habib-Pic.jpg

(১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে)
জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট
১৯৮১-১৯৮২ নং ব্যাচ

—————
চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা সর্বজনবিদীত । এতে অধ্যয়নের সময়কাল আমার জীবনের স্বর্ণালী মুহূর্ত । দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আবেগে নিজেকে নিজে হারিয়ে ফেলি । এমন স্বর্ণালী দিন, এমন স্মৃতি কখনো ভুলার নয় । নবাব সিরাজদ্দৌলা রোডে বাসা বাড়ী হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস, প্যারেড ময়দান ছোটবেলা থেকেই পরিচিত । আমার শ্রদ্বেয় পিতা মরহুম এডভোকেট আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা ১৯৫২-৫৬ ইং পর্যন্ত (আই,এ ও ডিগ্রী) ঐ কলেজের ছাত্র ছিলেন । তাঁর কাছেও ঐ কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনেক কীর্তিগাঁথা শুনেছি । ১৯৮১-৮২ সেশনে (আইএ) শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে এই কলেজে অধ্যয়নের সময়কাল আমার নিজের শিক্ষাজীবনকেও স্মরণীয় করে রেখেছে । এখানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সারা দেশে, সারা বিশ্বে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে স্মরণীয় বরণীয় হয়ে আছেন । আমার মেয়ে ফাতিমা যাহ্‌রা আহ্‌সান রাইসা ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের আই এ শ্রেনীতে অধ্যয়ন করে । আমার কন্যা রাইসার নানা ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও মা মিসেস আশ্‌ফা খানমও কলেজে অধ্যায়ন করেন । আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, অত্র কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ মরহুম এম এ সবুর সাহেবও আমার জেঠা শ্বশুর হন । আমার ছোট বোন, ভগ্নিপতি, বড় মামা, থেকে শুরু করে অনেকেই এই কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন । আমার কাজিন ছোট ভাই ছাত্রনেতা আবু মোঃ আরিফও এ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র । ফলে হৃদয়ে এ কলেজের স্পন্দন প্রতি মুহূর্তে স্মৃতিপটে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠি এবং হৃদয়ে বারবার ধ্বনিত প্রতিধ্বনি হয় । চট্টগ্রাম কলেজের বর্তমানে অধ্যক্ষ কবি ও ভাষাবিদ আবুল হাসান সাহেবও আমাদের কলেজের বড় ভাই ছিলেন । বিগত ২০১৫ সালে একই সাথে পবিত্র হজ্ব সম্পাদন করায় তিনি আমার আরাফাতী ভাই হন । তাঁর গ্রাম আমার নানার বাড়ী সুলতানপুরে ।

আমার বন্ধুদের অনেকেই এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন । আমার বন্ধুদের মধ্যে বিশেষ করে সৎ ও সাহসী আমলা মোহাম্মদ মুনির চৌধুরী (বর্তমানে মহা পরিচালক দু.দ.ক), বিশিষ্ট নিউরো সার্জন ডাঃ নোমান খালেদ শিপার (চেয়ারম্যান, নিউরো বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ), কিডনী বিশেষজ্ঞ ডা.মুনির, চট্টগ্রাম আই.ডি.এল কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা শাহীন, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী (বিভাগীয় চেয়ারম্যান ইউএসটিসি), বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর হাবীব আহ্‌সান (সাবেক পরিচালক ডি.জি.এফ.আই), শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ন সচিব বর্তমানে পরিচালক প্রধানমন্ত্রী এন জি ও ব্যুরোর পরিচালক এর দায়িত্ব পালন করছেন । বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন ও দৈনিক ইনকিলাব চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক শফিউল আলম, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আরিফ, ব্যাংকার ও ক্রীড়া সংগঠক তৌফিক বাবু, ক্যাপ্টেন ফসিহ, সাংবাদিক সুলতান আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অন্যতম ।

আমাদের বন্ধু কবি খালেদ হামিদী কাব্যজগতে বিশেষ অবদানের জন্য চসিক একুশ পদকে ভূষিত হয়েছেন।

এটা জেনে তোমাদের ভালো লাগবে যে, আমাদের বেশ কিছু বন্ধু প্রকৌশল খাতে নাম করেছে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ফৈয়াজ বুয়েটের মর্যাদাপূর্ন ড: নাসের চেয়ার অলংকৃত করেছে; মুনিরউদ্দিন আহমেদ স্বনামধন্য ডেল কোম্পানি তে স্টোরেজ ডিপার্টমেন্টে সুনামের সাথে কাজ করছে; কাজী নাসির জাপানে পিএইচডি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল জব করছে; মফিজুর রহমান কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের বর্তমান পিডি; গোলাম রসুল চৌধুরী খন্ড কালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি চিপ নির্মাতা AMD তে সুনামের সাথে কাজ করছে; রফিকুল ইসলাম মানিক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। সামরিক বাহিনীতে মেজর জেনারেল সাহেদ, নৌবাহিনীতে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত রিয়াল এডমিরাল মোজাম্মেল, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) মুনিরুল হক – এরা আমাদের গর্বিত করেছে। সাহিত্য জগতে কবি হিসেবে খালেদ হামিদীর স্হান বেশ উপরেই। আরো নিশ্চয়ই অনেকে আছে যারা আমার দুর্বল স্মরণ শক্তির কারনে অনুল্লেখ থেকে গেল।

প্রিয় বন্ধুদের অনেককে হারিয়ে ফেলেছি । বিজ্ঞান বিভাগের নাসির সেদিন চলে গেলো না ফেরার দেশে । যুক্তিবিদ্যার প্রফেসর সাঈদ স্যারের ছেলে বন্ধু আবু বক্করও চলে গেছে । সবাই কে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে জানি না । তবে চট্টগ্রাম কলেজের স্মৃতিময় দিনগুলো আজও দেদীপ্যমান । এ কলেজের কৃতি ছাত্রদের মধ্যে আমার মরহুম পিতা এদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সমবায় আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট আইনজীবী আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা, দৈনিক আজাদী সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ খালেদ, কবি ওহিদুল আলম, মাহমুদুন্নবী চৌধুরী প্রকাশ নবী চৌধুরী, প্রফেসর আসহাবউদ্দিন আহমদ, সুফী ছৈয়দ আহমদুল হক, প্রফেসর এ.কে মমতাজ উদ্দিন, শিল্পপতি এ.কে খান, প্রিয়দারঞ্জন রায়, রাজনীতিক ও লেখক হাবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও সাহিত্যিক আসহাবউদ্দিন আহমদ, নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস, শিক্ষাবিদ চিন্তাবিদ লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক ড. আহমদ শরীফ, এডভোকেট মোতাহার আলী, এডভোকেট সুনীতি বিজয় হাজারী, এডভোকেট এএইচএম মোজাফফর আহ্‌মদ খান, এড মোঃ নাজিম উল্লাহ্‌, ডাঃ এফ এম ইউসুফ, প্রিন্সিপ্যাল রওশন আক্তার, এডভোকেট মোহাম্মদ ফয়েজ, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইদ্রিস, সাংবাদিক মঈনুল আলম, অধ্যাপক ডাঃ পি.বি রায়, লেখিকা সালমা চৌধুরী, বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী, এটিএম রফিকুল আনোয়ার সিদ্দিকী প্রমুখের নাম স্মরণযোগ্য । রাজনীতিবিদদের মধ্যে বর্তমান মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দিন, সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পেশাজীবী নেতা রানা দাশ গুপ্ত প্রমুখও চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন ছাত্র । শিক্ষকদের মধ্যে বাংলার অধ্যাপক তাহের স্যার, ইংরেজী রঞ্জিত স্যার, অর্থনীতির ফজলুল কাদের স্যার, আহমদ হোসেন স্যার, সালেহ জহুর স্যার, ভূগোলের বোটানীয়ড ময়নব বেগম প্রমুখ নাম খুবই মনে পড়ে ।

ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তিন কালের সাক্ষী ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মারক এই চট্টগ্রাম কলেজ।১৮৩৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা স্কুল নামে প্রথম উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৩৩ বছর পর বিদ্যালয়টি ১৮৬৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে উন্নীত হয়। তখন থেকে এটি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ বা চট্টগ্রাম কলেজ নামে পরিচিত হয়। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন মিঃ জে.সি. বোস। তৎকালীন এক বছর চলার পর কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়।১৮৭১ সালে মিরসসরাই থানার ধুম নিবাসী রায় বাহাদুর গোলকচন্দ্র রায়ের দশ হাজার টাকা অনুদানে এটি পুনরায় চালু হয়। ১৫০ বছর আগে ১৮৬৯ খ্রিঃ প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রেখে আসছেন । আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এ কলেজের অবদান অনেক বেশী । প্রথমে কলেজে এফ.এ বা ফাস্ট আটর্স পর্যন্ত পড়ানো হতো। এর সঙ্গে ছিল প্লিডারশিপ পরীক্ষার জন্য আইন শিক্ষার ব্যবস্থা। ১৯০৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগ খোলা হলে কলেজে আইন শিক্ষার ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়। ১৯১০ সালে কলেজটি প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রি কলেজ রূপে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। এ সময় গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতক(সম্মান) পর্যায়ের বিষয়সমূহ সম্পর্কে পাঠ দান আরম্ভ হয় । ১৯১৯ সাল থেকে স্নাতক শ্রেণীর বিষয় সমূহে ইংরেজি এবং সম্পূরক শ্রেণীতে দর্শন এবং অর্থনীতি যোগ করা হয়। ১৯২৪ সালে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ শামসুল উলেমা কামালউদ্দিন আহমদ অধ্যক্ষ হয়ে আসেন। তার আমলে কলেজ দ্রুত উন্নতি লাভ করে। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এই সময় মুসলিম হোস্টেলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। শামসুল উলামার সময়ই প্রথম কলেজ ম্যাগাজিন প্রকাশ করার রেওয়াজ শুরু হয়। তাঁর সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে সহশিক্ষার প্রবর্তন। ১৯২৬ সালে এই কলেজের প্রথম ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয় । চট্টগ্রাম কলেজে তিনিই প্রথম মুসলমান অধ্যক্ষ। ১৯৪৮ সালে আই.এস.সি-তে জীববিজ্ঞান এবং বি.এ শ্রেণীতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় খোলা হয়। ১৯৫৫ সালে স্নাতক শ্রেণীর যাবতীয় বিষয় সমূহ প্রত্যাহার করা হলেও পরে ১৯৬০ সালে ইংরেজি,বাংলা,অর্থনীতি,পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন এবং গণিতে আবার স্নাতক(সম্মান) শ্রেণীর বিষয় সমূহ চালু করা হয়। ১৯৬২ সাল থেকে প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা এবং বি.এস.সি-তে পরিসংখ্যান চালু করা হয়। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৫ এর মাঝে ব্যাপকহারে অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সাধন করা হয়। পাকিস্তান আমলে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধীনে বিজ্ঞান গবেষণাগার সমূহের প্রভূত উন্নয়ন এবং বিশাল প্রশাসনিক ভবন, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞান ভবন,শিক্ষক নিবাস,নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ,পুরাতন ছাত্রাবাসের সম্প্রসারণ ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজ হয়। চট্টগ্রাম কলেজের গ্রন্থাগারে বর্তমানে অর্ধলাখেরও অধিক বই রয়েছে। প্রথম প্রিন্সিপ্যাল স্যার জে.সি. বোস থেকে বর্তমান প্রিন্সিপ্যাল আবুল হাসান স্যার পর্যন্ত এক বিশাল ইতিহাস । তিন কালের স্বাক্ষী এই চট্টগ্রাম কলেজ । ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ তিন কালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ৫২’ ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এ কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রদের ভূমিকা ছিল গৌরবজনক । সকল ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় আন্দোলন, শিক্ষা গবেষণার নীরব সাক্ষী এই প্রিয় কলেজ, জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ এই চট্টগ্রাম কলেজ । সেই পর্তুগীজ আমলের মোটাসোটা থাম, রেড বিল্ডিং, উঁচু নিচু ভূমি, লিচুতলা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাস, শেরেবাংলা ছাত্রাবাস, ডঃ আব্দুস সবুর ছাত্রাবাস, লাইব্রেরী, মসজিদ, ক্যান্টিন, ঐতিহাসিক, প্যারেড ময়দান,খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্য, সংস্কৃতি, আড্ডা এসব নিয়েই ছিল আমাদের ভূবন । উপমহাদেশের বহু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি এই কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। এদের মধ্যে আছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুরেন্দ্রনাথ দাশ গুপ্ত, ড. জনার্দন চক্রবর্তী, ড. ভবতোষ দত্ত, ড. সুবোধ সেনগুপ্ত, যোগেশচন্দ্র সিংহ, মুহম্মদ মনসুরউদ্দিন, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, অধ্যক্ষ পদ্মিনী ভূষণ, অধ্যক্ষ মোজাফফর আহমদ, অধ্যক্ষ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ স্যার প্রমুখের নাম ডাক অনেক শুনেছি। ছাত্রদের মধ্যেও রয়েছেন আজকের অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি।

আমার অস্তিত্বের মূলে আমার চট্টগ্রাম কলেজ। লেখাটি লিখতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়লাম। মনে হতে লাগল ক্ষণিকেই সবাই ফিরে গেলাম স্মৃতির সেই পুরনো আঙিনায় । বহু স্মৃতি মনের মনিকোঠায় সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। আর বার বার মনে হতে লাগল সারাটা জীবন যদি চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র থাকতে পারতাম, তবে স্বর্গসুখ লাভ করতাম। বর্তমানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অরাজনৈতিক একক প্ল্যাটফর্ম করা হলে তার মাধ্যমে সমাজসেবা ও গবেষণা শিক্ষা চিকিৎসা ও দেশ উন্নয়নে অনেক বড় কাজ পরিচালনা করা সম্ভব ।

লেখক :
আইনজীবী, কলামিস্ট, সু-শাসন ও মানবাধিকার কর্মী।

Top