দোয়ারায় খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের মাঠ কুপিয়ে বেহাল করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

54519214_392115098243987_5606243055104425984_n.jpg

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :

ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ কুপিয়ে বেহাল দশা করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ শুক্রবার বিকেলে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলীপুর স্পোর্টিং ক্লাব এবং আলীপুর সুপার কিং এই দুই টিমের ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালীন সময়ে উভয় টিমের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে খেলা শেষ হওয়ার আগেই ভেস্তে যায়। এই ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার মাঠটির বেহাল অবস্থা দেখতে পান শিক্ষার্থী ও স্থানীরা। খেলার মাঠে কোদালের কুপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রাতে আধারে কে বা কারা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি কুপিয়ে বেহাল অবস্থা করে গেছে তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে আলীপুর মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলার বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে পর পর দুদফা মারামারি হয়। এতে বেশ কয়েকজন মারাত্মক ভাবে জখম হয়। প্রথম দিকে এবিষয়টি আইনিভাবে গড়ালেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বিচার সালিশি মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। কয়েক মাস আগের ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারো খেলা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার মাঠ দুর্বৃত্তদের কর্তৃক বেহাল অবস্থা সৃষ্টি করার ঘটনায় উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছে এলাকার সচেতন মহল।

এব্যাপারে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত দেব বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের বহিরাগতদের মধ্যে খেলা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। এরপরদিন শনিবার বিদ্যালয়ে এসে খেলার মাঠ কুপানো অবস্থায় দেখতে পাই। এবিষয়ে শিক্ষার্থীরাও আমার কাছে অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করেছি।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি বিদ্যালয়ের মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা নিশ্চিত হয়েছি। অনুমতি ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ নষ্ট করার এখতিয়ার কারো নেই। এই ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা উদঘাটনে তথ্য নিচ্ছি। এবিষয়ে গ্রামের মুরব্বীদেরকে নিয়ে বসবো এবং প্রয়োজনে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’ মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে এব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, ‘এবিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Top