সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

IMG_20190313_014922.jpg

ছাতক প্রতিনিধিঃ নানা অনিয়ম এবং সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতকে উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলুর রহমান (নৌকা) প্রতিকে ৬৬ হাজার ১শ’৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি অলিউর রহমান চৌধুরি বকুল (কাপ-পিরিচ) প্রতিকে ২৭ হাজার ২৮৩ ভোট পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু সাদাত লাহিন (টিউবওয়েল) প্রতিকে ২৪ হাজার ৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি (টিয়াপাখি) প্রতিকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫শ’১৫ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লিপি বেগম (কলস) প্রতিকে ৪৯ হাজার ১শ’৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি শিখা রানী দে (পদ্মফুল) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫শ’০৬ ভোট।

দিনভার নির্বাচনে ঘটে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা। এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বেলা দেড়টায় উপজেলার কালারুকা দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার সেন্টু কুমার দাস (নৌকা) প্রতিকের পক্ষে এবং একই কেন্দ্রের পোলিং আফিসার নুরুল ইসলাম (টিয়া পাখি) প্রতিকের পক্ষে ব্যালট পেপারে সীল মারার সময় আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময়ে নাদামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং

অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ যুবকরা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে এ সময় কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি ব্যালেট পেপার বই ছিনিয়ে নেয়া হয়। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবু রায়হান খাঁন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেলা ২টার পর ভোট কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। বেলা প্রায় ৩টার দিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৯নং বুথের দায়িত্বরত সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার নান্টুর ঞ্জন চন্দ্রের কাছ থেকে সীলমারা তিনটি ব্যালেট পেপার বই উদ্ধার করেছেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মখলিছুর রহমান। অবশ্যই সাংবাদিকদের কাছে মখলিছুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন সীলমারা ভোটের ব্যালেট পেপারগুলো বাতিল করে দেয়া হবে।

এদিকে চরমহল্লা ইউনিয়নের জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বেলা ২টায় জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০জন ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী, শানুর আলী, ফাহিম আহমদ, ফরমুজ আলী, আহমদ আলী, আবদুস সালাম, সোনাই মিয়া, এজিল হোসেন, সুমন মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, আপ্তা মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া কদ্দুস মিয়া, আফলাকুল আলম, আমির হোসেন, ইব্রাহিম আলী, হৃদয়, শিশু রাসেল, কুদরত মিয়া, মারফত আলী, আলী, জুবের মিয়া, সুজাত মিয়া, মাছুম মিয়া, কাওছার আহমদ, মুর্শেদ আহমদ, জলু মিয়া, লিলু মিয়া, ছুরত মিয়া, এমরান আহমদ, কয়েছ মেম্বারকে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। বেলা সাড়ে ৩টায় উত্তর খুরমা ইউপির আমেরতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ এনে ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী বাবুল রায় নির্বাচন প্রত্যাখানের ঘোষনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলায় বড় রকমের কোন সহিংসতার ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে ছাতক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন। এ নির্বাচনে ৩টি পদের বিপরিতে মোট ১৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। চেয়ারম্যান পদে ২জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ৩জন প্রার্থী।

Top