৭ই-মার্চের ভাষণ শুধু বাঙালির‌ ছিলনা; বিশ্ববাসীর কাছেও ছিলো নতুন প্রেরণার এক উৎস’

download-4.jpg

—————————————
আমাদের সকলেরই একটা বিষয়ে ভাবতে হবে যে,জন্ম নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করে থাকাই যেন,সেই মৃত্যুর কথাকে স্বরণ করে চলা।কেননা জীবন হচ্ছে আমাদের মৃত্যুর ঘনিষ্ঠ সংগী ।তাই শত দুঃখ,ঘৃণা এবং ভয়কে হাসিমুখে বরণ করে নিতে হবে আমাদেরকেই,এতে করে যদি আমাদের জীবন বির্ষজন করতে হয় তাতেও যেন কোনো কষ্টকে কষ্ট বলে মনে না করি । জীবনের মায়ামমতার কথা না ভেবে যিনি সকল ধরণের কাজকে দেশের কল‍্যানের কথা ভেবেই করতে পছন্দ করতেন তিনি হলেন আমাদের বাংলাদেশের একজন কন্ঠস্বর,দেশের সাধারণ মানুষের বন্ধু, ও দেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সব সময় ছিলেন সত‍্যের সৈনিক আর অন‍্যায়ের প্রতিবাদের বজ্রকন্ঠ।যার প্রমাণ বাঙ্গালী পেয়েছিলেন এই ৭ই-মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষনের মাধ্যমে।তিনি ভাবতেন এই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের কথাই,তিনি মনে করতেন বিনাশ্রমে যদি বহু সম্পদের মালিক ও হওয়া যায় তা যেন নিমিষেই শেষ হয়ে যায়, তাই তার চিন্তা-চেতনা ছিলো কিভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পদ অর্জিত করা যায় যে সম্পদ দেশের জনসাধারণের জন্য প্রয়োজন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিশ্রমের মাধ্যমে যে সম্পদ অর্জন করেছিলেন সেই অর্জিত সম্পদকে সৎভাবে কাজে লাগাতেন ও চেষ্টা করতেন সব সময় যেন অধিক সম্পদের মালিক হলেও কেউ যেন সেই সম্পদের বিনাশ না করে তিনি অর্জিত সম্পদের কিছু অংশ গরীবের মাঝে বিতরণ করতে উৎসাহিত হতেন।

বিপুল সম্পদও অনেক সময়ে ভয়াবহ দুঃখ ডেকে নিয়ে আসতে পারে যার পরিণতি অনেক সময়ে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়ায়।তিনি সব সময় সঠিক দিকের কথা ভেবেই কাজ করতেন তাই সব সময় পরিকল্পনা মতো ই যে কোনো কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হতেন।কেননা সব কিছুর ই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন আছে, কাজের মধ্যে যার কোনো নিজস্ব পরিকল্পনা থাকেনা,তারা কখনও কোনো কাজে সাফল্য আশা করতে পারেননা।এবার আসবো সেই ফেলে আসা দিনের স্মৃতির পেক্ষাপট কেমন ছিলো,সেই সময়ের স্মৃতির মাঝে।যেখানে আছে অনেক সুখ ও দুখের কাহিনী।সেই কাহিনীর একটি সত্য একটি উদাহরণ হলো আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই-মার্চের ভাষনের ফলাফল কতটুকু প্রযোজ্য ছিলো বাঙ্গালীদের জন্য। এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করাই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন। মহান নেতার সে স্বপ্ন পূরণে আমাদের সকলকেই অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সকল রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের জনগণের অব্যাহত প্রচেষ্টা থাকলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ অবশ্যই একদিন ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপে রূপান্তরিত হবে এবং আমরা যার ফলাফল কিছুটা পেতে শুরু করছি,জননেত্রী শেখ হাসিনার কাজের মাধ্যমে‌ দেশ দরদী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষণ গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল, স্বাধীনতার জন্য আমাদের এই দেশকে রক্ষা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে তার এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের মাধ্যমে, তার মূল লক্ষ্য ছিলো এই দেশ রক্ষা করা ।আর সেই ৭ই-মার্চ ভাষণ ছিলো এক অনন্য উদাহরণ।দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্জন, নারীরক্ষমতায়ন, দারিদ্র্যহ্রাস, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে ধনাত্মক পরিবর্তনের ফলে আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পেরেছে।এছাড়াও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি মধ্যআয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা হবে। যে কথাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প-২০২১’ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। তিনি সকল প্রকার জনসাধারণের কাছে তার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আমরা বাঙ্গালীরা সকলেই আজ প্রমাণ পেয়েছি যে,এই ৭ই মার্চ বাঙালিদের জন্য ইতিহাসের পাতায় একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবেই যুগযুগান্তর লেখা থাকবে।

১৯৭১ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যে নিহিত ছিল শুধুমাত্র আমাদের এই দেশের বাঙালিদেল মুক্তির ডাক। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা জাতিকে কাক্সিক্ষতলক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ যে সনদের কথা শুধুমাত্র এই বাংলাদেশের জনগণ ই জানতে না,বিশ্বের সকল মানুষের কাছেও পৌঁছে গিয়ে ছিলো তার কন্ঠস্বর। জনকের সেই ভাষণে তিনি আরো বলেছিলেন তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাঙালির আবেগ, স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষাকে একসূত্রে গেঁথে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করে ছিলেন‘।

”এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক, ঐতিহাসিক ভাষণের সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা ঘোষণা করেন বাঙালি জাতির বহুকাক্সিক্ষত স্বাধীনতার কথাও। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছেন,বাঙালি হিসেবে সত্যিই এই পাওয়া যেন আমাদের বড়ো অর্জন। আজ তিনি নেই, তবুও বেচেঁ আছেন এই ১৮ কোটি মানুষের বুকের গভীরে।আমরা আজ স্বাধীন তাই সকলেই মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই ,যেন তিনি বেঁচে থাকেন সকল বাঙ্গালীর মনেতে।ছোট বড় সকলেই আজ ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করবো। ৭ই মার্চের ভাষণটা আমরা যতবারই শুনি, কখনো পুরোনো হয় না। যখনই শুনি, গায়ে কাঁটা দেয়। রাস্তাঘাটে যখন চলি, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে থাকলে দাঁড়িয়ে পড়ি, শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুনি, শেষ হয়ে গেলে মনে হয়, আরেকবার যদি বাজাতো,তাহলে আবার শুনতে পেতাম।বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটাকে যেন একটি দেশের কবিতার মতোই মনে হতো সকল বাঙ্গালীর কাছে। কেননা ভালো কবিতা কখনো পুরোনো হয় না, বারবার পড়াতে মনে চায়, ৭ই মার্চের ভাষণও পুরোনো হবার নয়,আর কখনও , হবে না।

এই বিশ্বাস আছে প্রত‍্যেকে বাঙ্গালীর। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখতে পেয়েছি এই ৭ই মার্চের ভাষনের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন কথামালা অনেক পত্রিকার প্রথম পাতায় লেখা ছিলো বঙ্গবন্ধু‘রাজনীতির কবি’।ছিলেন।একজন কবি তার কবিতায় লিখেছেন, কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ এই কবিতায় কবি বঙ্গবন্ধুকে কবি হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন যে কবিতা শোনার জন্য অপেক্ষা করে থাকতেন লাখ লাখ ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা ও খেটে খাওয়া সাধারণ দিনমজুর।অন্য একজন কবি,মুহাম্মদ সামাদও তার কবিতায় লিখেছেন, ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি।’ আহমদ ছফা লিখেছিলেন, ‘বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য চর্যাপদ নয়, বৈষ্ণব গীতিকা নয়, সোনার তরী কিংবা গীতাঞ্জলি কোনোটা নয়, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য গীতি হলো “আর দাবায়া রাখতে পারবা না”।’ তবে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চয়ের ভাষণকে কবিতা বলার অন্য একটা কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। কবিতার সংজ্ঞায় বলা হয়, সুন্দরতম শব্দের মহত্তম বিন্যাস। বেস্ট ওয়ার্ডস ইন বেস্ট অর্ডারস। ভালো কবিতায় একটা শব্দও অতিরিক্ত বা কম ব্যবহার করা হয় না, প্রতিটা শব্দকেই হতে হয় অনিবার্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটিতে যেন একটা কথাও বেশি বলা হয়নি, একটা কথাও কম বলা হয়নি, একটাও‘পলিটিক্যালি রং’বা রাজনৈতিকভাবে ভুল কথা বলা হয়নি। জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ কবি, কারণ কবির মধ্যে বিগত কয়েক শতাব্দীর এবং সমকালের কবিতার ইতিহাসটা ক্রিয়া করে। সবার ভেতরে করে না। যারা কবি, কেবল তাদের মধ্যে করে। বঙ্গবন্ধু যখন ৭ মার্চের ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখনো যেন তাঁর মধ্যে নদীবিধৌত পলি মাটিতে গড়ে ওঠা এই জনপদের মানুষের হাজার বছরের ইতিহাস ও সমকালের ইতিহাস ক্রিয়া করছিল। তিনি তো জানতেন, হাজার বছরে এই অঞ্চলের মানুষ একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পায়নি। কিন্তু জীবনভর তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, কাজ করেছেন, নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে রেখেছেন এই দেশটাকে স্বাধীন করবেন বলে।

আজ সত্যিই ভালো লাগছে এই ভেবে যে,আমরা একজন জনক হারিয়েছি,তবুও স্বাধীনতা পেয়েছি,স্বাধীন সার্বভৌমের মাটিতে বসবাস করছি,আজ আমাদের সকলের বুকে একটি চেতনার সূর সব সময় বাজে,বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রপাতের ন‍্যায় বলিষ্ঠ কন্ঠের কথা। ৭ মার্চের ভাষণের শুরুতে তিনি সেই ইতিহাসটা অপরূপ কাব্যসুষমান্বিত ভাষায় অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করেন, ‘২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস।’ এরপর তিনি স্টোরিটেলার বা গল্পের কথকের মতো করে বর্ণনা করে গেলেন ওই সময়ের প্রেক্ষাপট যে কথাগুলো হয়েছে ইতিহাস। আহ! কী উত্তুঙ্গ পাগলপারা সময় ছিল সেটা। ‘স্বাধীনতা’ ‘স্বাধীনতা’ বলে সারা বাংলা পাগল হয়ে গেছে। ওই তুঙ্গ মুহূর্তটিতে দেশের মানুষকে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তো শেখ মুজিব ২৩টা বছর সংগ্রাম করেছেন, সংগঠন করেছেন, জেলে গেছেন, ছয় দফা দিয়েছেন। দেশের মানুষ উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে নিঃশর্তভাবে মুক্ত করে এনেছে, ভালোবেসে তাঁকে উপাধি দিয়েছে বঙ্গবন্ধু। আইয়ুব খানের পতন ঘটেছে, জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসেছেন, মুজিবের একটাই শর্ত ছিল, নির্বাচন দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু জানতেন, নির্বাচন দিলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন। তিনি পাকিস্তানি সাংবাদিকের সামনে বলেও ফেলেছিলেন, একবার ভোট হয়ে যাক, তারপর ইয়াহিয়া খানের সব শর্ত তিনি ছিঁড়ে বাতাসে উড়িয়ে দেবেন।

আমেরিকান কূটনীতিকদেরও তিনি বলে দিয়েছিলেন, তাঁর আসল লক্ষ্য স্বাধীনতা। ১৯৭০ সালের ভোটে পাকিস্তানের উভয় অংশ মিলে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করল।কিন্তু পাকিস্তানি জেনারেলরা আর রাজনীতিকেরা মিলে তো গোপন বৈঠক করে ফেলেছেন। বাঙালিকে ক্ষমতা তো তারা দেবেই না, তারা প্রয়োজনে তিরিশ লাখ মানুষকে হত্যা করবে। আর বঙ্গবন্ধুরও স্পষ্ট ভাবেই ঘোষণা করেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, এ দেশের মানুষের অধিকার চাই এদেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মরতে চাই,এদেশের মানুষ যেন একটি লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে মাঠে ঘাটে দৌড়াতে পারে,আর গলা ভেঙ্গে বলতে পারেন, আমরা বাঙ্গালী, আমরা স্বাধীন হয়েছি,এদেশের সকল মানুষের অধিকার আদায় হয়েছে, আমরা পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছি।এই আশায় আমাদের জাতির জনক নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের রাজাকারদের কাছে।শুধুমাত্র এই দেশের কথাকে চিন্তা করেই তিনি সকল বাধাবিপত্তি নিজের মাথায় নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে সাহসের সাথে।যেভাবেই বলা হয়েছিল ঠিক সেভাবেই কাজ করা হয়েছে,এরই মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বানানো হয়েছে, বঙ্গবন্ধু সেই পতাকা উত্তোলনও করেছেন। তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে ছিলেন ধারালো অস্ত্রের মতোই, তিনি যুদ্ধ ময়দানে বলেছিলেন হুংকার করে,আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার মানুষকে হত্যা করা হয়, তোমাদের উপর আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ আমি শুধুমাত্র বিভিন্ন বইয়ের পাতায় লেখা দেখেই আজকের এই লেখা টুকু দেশের মানুষের মাঝে দিতে পেরেছি,আর যদি সত্যিই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চয়ের ভাষন নিজের চোখে দেখতে পারতাম তাহলে হয়তোবা তার কাছেই থাকতাম যেখানে তিনি চিরশয‍্যায় শায়িত আছেন সেই টঙ্গিবাড়ী ।আমার জানামতে আর কখনও কোনো ব‍্যক্তি আসবেন না যারা আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো পলিটিক্যালি কারেক্ট বা রাজনৈতিক ভাষনের মতো যোগ্য হবে তার মতো অভ্রান্ত বক্তৃতা আর দ্বিতীয় কোনো রাজনৈতিকবিদ আসবে বলে মনে হয় না।

একটিবারও তিনি আক্রমণ করার কথা বলেননি। একটিবারও তিনি সহিংস পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেননি। একবার বলেছিলেন, ‘আমরা ভাতে মারব, পানিতে মারব।’ এক নিঃশ্বাসেই বলেছেন, ‘তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না।’ বঙ্গবন্ধু আরো বলেছিলেন এই বাংলার হিন্দু-মুসলিম, বাঙালি-ননবেঙ্গলি যারা আছে তারা আমাদের ভাই, তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’তিনি সর্তকতা অবলম্বন করে চলতে পছন্দ করতেন তাই তিনি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন ‘আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি’…আরো বললেন, ‘যদি পাকিস্তানের পাকবাহিনী আমার দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করে তখন তোমরা কেউ ঘরে বসে থাকবেনা, তোমরা সকলেই বুঝেশুনে কাজ করবে…এবং সব সময় নিজেকে ধারালো অস্ত্রের মতোই শান দিয়ে রাখবে,তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক।’ ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই দিন গুলো কই, সেই স্মৃতির স্বর্ণশিখর দিনের কথাকে ভেবেই আজ বাঙ্গালী হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাইছে আমার সামান্য মূল‍্যহীনতার জীবনকে।তাঁর সেই ৭ই -মার্চয়ের ভাষন যেন আজ এই দেশের পলিমাটির সৌরভের মতোই মনে হয়ে থাকে। তাঁর কণ্ঠে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার কল্লোল, মেঘের মতোই মায়া আর বজ্র। তাঁর তর্জনীতে বাংলার মানুষের গন্তব্যের দিকনির্দেশনা মিলে। পৃথিবীতে কত স্বাধীনতা আন্দোলন ব্যর্থ হলো, কত আন্দোলন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস হয়ে রইল,তাই আজকের এই দিনে বারে বারে আমার মনে পড়ে যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কথা, কতনা সুমধুর কন্ঠছিলো তার, আবার দেশ রক্ষায় সেই কন্ঠস্বর যেন বাঘের গর্জনের মতোই মনে হতো শক্রুদের কাছে। আমাদের হাজার বছরের পুণ্যের ফল স্বরূপ আমরা পেয়েছিলাম বোধ হয় শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন দেশপ্রেমিক ও বিশাল মাপের নেতাকে, যিনি কখনও নিজেকে নিয়ে ভাবতেন না,তিনি অন‍্যকে নিয়েই ভেবে থাকতেন সব সময়ে, তাঁর এই ত্যাগ, দেশপ্রেম, কারিশমা, শ্রম ও প্রজ্ঞা আজ সত্যিই আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে,এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে,আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন আজ চরিতার্থতা পেয়েছে।সেই ১০ জানুয়ারি দেশের মাটিতে পা রেখেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন ‘আজ আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’আমি সত্যিই গর্ববোধ করছি এমন একজন নেতার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনের কথামাকে নিজের হাতে কলম নিয়ে লিখতে পেরেছি। আমি কতটুকু পেরেছি জানিনা,তবে কোনো কিছুই যেন আজ বাকি নেই, তার সেই দিনের ভাষনের কথা,বারে বারে মনে পড়ে নেতা আপনার সেই ভাষনের কথাই,তাইতো মন ছুঁয়ে যায় আপনার সেই দিনের কথায়।আমি ফিরে পাবনা সেই দিন,তবুও হারিয়ে যেতে দেবনা কখনও আপনার সেই কন্ঠের কন্ঠস্বরকে ,ভালোবাসি এই বাংলাদেশ ভালোবাসি এই দেশের গরীব কৃষক ও রাখালের, যাদেরকে আপনি সব সময় আপনার বুকের মাঝেই রাখতেন আগলিয়ে।আপনার ভাষন যেন থাকে এই বাংলাদেশের ১৮ কোটি বাঙ্গালীর বুকে এক অংগ্নি শিখা হয়েই।আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর জীবনকাহিনির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হয়ে আজীবন থাকবে ৭ই মার্চের ভাষণ। ইউনেসকো এটাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন । এই ভাষণ সব দেশের সব নিপীড়িত মানুষকেই প্রেরণা জুগিয়ে যাবে চিরকাল।এই লেখা হবে আবার নতুন করে নতুন এক চেতনার ইতিহাস আমি ভালোবাসি মজিব আপনার আর্দশ, আমি ভালোবাসি নিপিরীত মানুষের মাঝেই থাকতে চিরকাল।আমি চাইবোনা সম্পদ,তবুও চাইবো মানুষের কাছ থেকে সামান্য সন্মান, যে সন্মান কখনও কোটি টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে না। আজকের মতো এখানেই শেষ করবো জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষনের কথা।প্রিয় পাঠক আমার এই লেখাটি অনেক বই ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে সংগ্ৰহ ও নিজের প্রচেষ্টায় লেখা তাই ভুল ক্রটি সকলেই ক্ষমা চোখে দেখবেন।এবং আমার ভুল গুলো যদি সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে সংশোধন করতে সহায়তা করবেন।

(নবীন লেখক ও সাংবাদিক মো:ফিরোজ খান)

Top