হাটহাজারীবাসীর আস্থার আরেক নাম ইউএনও রুহুল আমিন

received_1998155170478941.jpeg

জাবেদ হাসনাত, চট্টগ্রাম ;
নিয়ম ও নীতি-নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ আদর্শ বলে মেনেছেন তিনি। তাঁর দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রেও এর প্রমাণ রেখে চলেছেন। কখনও অন্যায়ের কাছে নতজানু হন নি। তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্বকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন অদম্য।
ভেজাল ঘি, বিষাক্ত আইসক্রিম, অবৈধভাবে সরকারি ঔষধ বিক্রি, হালদা নদী সংরক্ষণে ভাসা ও ঘেরা জাল জব্দ এবং সরকারি জমি উদ্ধারসহ একের পর এক বিভিন্ন অভিযান ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি জয় করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের হৃদয়।
এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মানুষটিই হলেন রুহুল আমিন। যিনি এখন কর্মরত আছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজারো হাটহাজারীবাসী রুহুল আমিনের সাহসী পদক্ষেপ ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সর্বদা তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি তিনি হয়ে উঠেছেন আলোচনার পাত্র। অনেকেই আফসোস করে বলেছেন, “দেশের সব ইউএনও যদি রুহুল আমিনের মতো হতো, তাহলে কেমন হতো!“
নিচে রুহুল আমিনকে নিয়ে ফেসবুকে লেখা কিছু স্ট্যাটাস ‘বাংলাধারা‘র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:
রাহাত মেনন বলেন, রুহুল আমিনের কাজ দেখে আমরা সত্যিই খুব মুগ্ধ। সরকারের উচিত উনাকে জাতীয় পুরস্কার দেয়া।
রকি বলেন, সীতাকুন্ডের মতো হাটহাজারীর মানুষও ভাগ্যবান। কারণ তারা রুহুল আমিনের মত একজন অভিভাবক পেয়েছেন।
প্রবাসী মোহাম্মদ ইদ্রিছ চৌধুরী বলেন, রুহুল আমিন স্যার, আপনি এগিয়ে যান। আপনার সাথেই আছি সুদূর প্রবাস থেকে। সাবের বলেন, আমাদের রুহুল আমিন স্যার, যার চিন্তা ও কর্মস্পৃহা সত্যিই দারুণ।
লোকমান আলী বলেন, রুহুল আমিন একজন অসাধারণ মানুষ। তাঁর মত মানুষ যদি ঘরে ঘরে থাকে তাহলে সোনার বাংলাদেশ গড়তে বেশি সময় লাগবে না।
১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত রুহুল আমিন ২২ টি অভিযান পরিচালনা করেন। ইউএনও রুহুল আমিন হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল ঘি‘র কারখানায় পাঁচটি ভিন্ন অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৭০০ লিটার ভেজাল ঘি, ৭০ লিটার পামওয়েল, ১০ কেজি কেমিক্যাল এবং বিভিন্ন নামি-দামী ব্র্যান্ডের লেবেলযুক্ত ৭ হাজার খালি কৌটা জব্দ ও ধ্বংস করেন।
হাটহাজারীর বিভিন্ন ফার্মেসীতে চারটি ভিন্ন অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকার সরকারি ঔষধ জব্দ করেন এবং অর্থদন্ড দেন।
হালদা নদীর দু‘পাড়ে চারটি ভিন্ন অভিযানে ৩৪ হাজার মিটার ভাসা ও ঘেরা জাল জব্দ করে ধ্বংস করেন তিনি।
হালদা নদী রক্ষায় খাল দূষণ মুক্ত রাখতে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌরসভার কামাল পাড়া মরা ছড়া খাল ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পরিষ্কার করেছেন ইউএনও রুহুল আমিন।
হাটহাজারীতে তিনটি আইসক্রিম কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২১ হাজার ৫০০ পিস আইসক্রিম উদ্ধার ও ধ্বংস করেন। শাস্তিস্বরুপ, অর্থদন্ড দিয়ে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেন।
হাটহাজারীতে চারটি ভিন্ন অভিযানে প্রায় ৬০ কোটি ৫ লাখ টাকা আর্থিক মূল্যমানের প্রায় ১১ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেন তিনি।
অভিযান পরিচালনা ছাড়াও নানা মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্যও হয়েছেন তিনি সমাদৃত। ১৩ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফতেহপুর ৬ নং ওয়ার্ডের মেহের আলী চৌধুরী বাড়িতে এক অগ্নিকান্ড সংগঠিত হয়। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।
হাটহাজারী পৌরসভার সুন্দরী ছড়া খনন করে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন তিনি। আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের ঠিক সামনের আঙিনায় সকালে এসেম্বলি করতে পারছিলো না দীর্ঘদিন। প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে এসেম্বলির জন্য মাঠ প্রস্তুত করে দেন রুহুল আমিন।
হাটহাজারী পৌরসভাধীন কাচারি বাজার সড়কটি সরু থাকায় তা দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলা উপজেলার মিরেরখীলসহ উত্তর হাটহাজারীতে কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারত না। এ বিষয়ে জানতে পেরে রুহুল আমিন রাস্তাটি প্রায় আড়াই ফুট প্রশস্থ করে দেন।
হাটহাজারী পৌর এলাকার শায়েস্তা খাঁ পাড়া সড়কের উপর নির্মিত ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় জন ও যানচলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছিল। বিষয়টি জানার ১০ ঘন্টার মধ্যেই সমস্যার সমাধান করেন হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন।
রুহুল আমিন বলেন, কোথাও আইনগত বাধা না থাকলে কাজ করতে আমার কোন বাধা নাই। আমার মূল লক্ষ্য হল জনগণের জন্য কাজ করা, তাদের সেবা করা। আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া, সরকার, প্রশাসন সকলেই ইতিবাচক কাজ করার ক্ষেত্রে সমর্থন দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পেছনে আমার একটা উদ্দেশ্য আছে। সেটা হল-মানুষের দোয়া পাওয়া। সর্বত্র মানুষের যে ভালবাসা পাচ্ছি, এরচেয়ে বেশি কিছু্ আমার দরকার নেই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, সরকার আমাকে যে পদেই বসাক, জনগণকে যদি সেবা করার সুযোগ থাকে তা আমি অবশ্যই করব। জনগণের উপকার করার ক্ষেত্রে আমি কোন আপোষ করবো না।
সবাইকে উদ্দেশ্য করে রুহুল আমিন বলেন, আমাদের যাদের মানুষের সেবা করার সুযোগ আছে, সেটা যেন আমরা কাজে লাগাই।
স্থানীয়রা জানায়, আমরা সত্যিই অভিভূত রুহুল আমিনের কর্মনিষ্ঠা ও মহানুভবতা দেখে। স্যালুট উনাকে। উনার মত সৎ, যোগ্য ও মেধাবী একজন জনগণের প্রকৃত সেবক পেয়ে আমরা হাটহাজারীবাসী ধন্য। উনাকে আমরা মন থেকে দোয়া করি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ৩ জুন ৩০ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে নিযুক্ত হন। তারপর সীতাকুন্ডে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে দায়িত্ব পালন করেন। কিছুদিন কাপ্তাইতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে হাটহাজারীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
সূত্র: বাংলাধারা.কম

Top