ফেনী লালপোল সোলতানিয়া মাদ্রাসার ৩১ তম বার্ষিক মাহফিল সম্পন

IMG_20190310_001524_007.jpg

এম এ মাজেদ, ফেনী অফিসঃ

ফেনী সদরের ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা লালপোল জামেয়া সোলতানিয়া মাদ্রাসার ৩১ তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল মাদ্রাসার মুহতামিম পীরে কামেল মাওলানা কাসেম সাহেবের সভাপতিত্বে শনিবার সকাল ৮ খেকে অনুষ্ঠিত হয়েছে,মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে বয়ান পেশ করেন, ওলামা বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা নুরুল ইসলাম আদিব সাহেব,
মুফতি ইলিয়াস বিন নাজেম ও মুফতি আলাউদ্দীন নুরীর যৌএ পরিচালনায় আরো বয়ান পেশ করেন ফেনী রশিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম পীরে কামেল হযরত মাওলানা মুফতি শহিদুল্লাহ সাহেব, বেফাকের পরিক্ষক মুফতি আবু ইউসুফ সাহেব,মাদানিয়ার নায়েব মুহতামিম মুফতি আহমদুল্লাহ সাহেব,নব মুসলিম মাও শরীফ সাহেব,হযরত মাওলানা ইব্রাহিম সাহেব,মুফতি রহিমুল্লাহ সাহেব,মহিপাল কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা তৈয়ব সুলতানী সাহেব,মুফতি ইউসুফ কাসেমী,হাফেজ মাও তাহের সাহেব ঢাকা, হযরত মাওলানা আনাস সুলতানি সাহেব,মুফতি সামসু দ্দোহা সাহেব ঢাকা, হযরত মাওলানা এমদাদুল্লাহ সাহেব চট্টগ্রাম, সহ বাংলাদেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম গন তাশরিফ আনেন।
মাফিল শেষ হয় রাত ১২ টায় ওজানি মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবদুর রহমান সাহেবের বয়ান ও আখেরি মুনাজাত মাধ্যমে শেষ হয়,
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসলমান শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ফেনী সদরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত লালপোল সোলতানিয়া মাদ্রাসা চত্বরের বিশাল প্যান্ডেলে এসে সমবেত হয়।
বর্তমান ফেনী লালপোলের পীর সাহেব তার দরদ মাখা বয়ান বলেন
তাকওয়া হাসিলের উপায় ও পীর মুরিদি

হযরত ওলামায়ে কেরাম, তালিবে ইলম সাথীগণ ও উপস্থিত সুধিবৃন্দ!

‘ইসলাহে নফস’ বা আত্মশুদ্ধির বিষয়ে কিছু কথা আপনাদের খিদমতে পেশ করতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত আমি নিজেই ইসলাহের মুহতাজ। যার নিজেরই ইসলাহের প্রয়োজন, সে অন্যকে এ বিষয়ে কী বলতে পারে!

দ্বিতীয়ত এ মজলিসে বুযুর্গ ব্যক্তিগণ উপস্থিত আছেন। তাঁদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে কিছু বলতে যাওয়া দুঃসাহসিকতাও বটে। কিন্তু বুযুর্গগণ বলেছেন, ‘আলআমরু ফাওকাল আদব’ অর্থাৎ মুরববীগণ কোনো কাজের নির্দেশ দিলে তা মান্য করাই আদব। তাই নিদের্শ পালনার্থে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমি কুরআন মজীদের একটি আয়াত তেলাওয়াত করেছি। তার সামান্য ব্যাখ্যা আরজ করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা ইখলাসের সাথে বলার তাওফীক দান করুন।

আয়াতের তরজমা হল, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য রাস্তা তালাশ কর এবং তাঁর রাস্তায় মেহনত কর। যাতে এসব কিছুর ফলে তোমাদের সফলতা অর্জিত হয় দুনিয়াতেও, আখিরাতেও।’ (সূরা : মায়িদা : ৩৫)

তাকওয়া এক অতন্দ্র প্রহরী

এ হল আয়াতের অনুবাদ। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে প্রথমে তাকওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরা কুরআন মজীদ তাকওয়ার নির্দেশে পরিপূর্ণ। স্থানে স্থানে একটু পরপরই তাকওয়ার নির্দেশ এসেছে। কুরআন মজীদের রীতি হল, কোনো নির্দেশ বা বিধান জারি করার পূর্বে বা পরে সাধারণত তাকওয়ার আদেশ করা হয়। কারণ তাকওয়াই হচ্ছে ওই বস্ত্ত, যা মানুষকে আল্লাহ তাআলার যে কোনো হুকুম পাবন্দীর সাথে মেনে চলতে বাধ্য করে। দুনিয়ার ক্ষেত্রে দেখুন, কোনো সরকার জনগণের জন্য আইন-কানুন জারি করলে অনেক সময় তা কয়েক পয়সার বিনিময়ে বেচাকেনা হয়ে যায়। ঘুষের বাজার গরম হয়ে ওঠে, আর সে বিধানের কোনো মূল্যই থাকে না। প্রকাশ্যে তা লঙ্ঘিত হতে থাকে।

আর কোনো এলাকায় আইন-কানুনের পাবন্দি থাকলেও দেখা যায়, তা কেবল পুলিশের ডান্ডা ও আদালতী ঝামেলার ভয় থাকা পর্যন্তই। এরপর আর কেউ নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। কিন্তু একান্ত নির্জনতায় এবং নিশুতি রাতের অন্ধকারেও যে জিনিস মানুষের অন্তরে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করে তা হল আল্লাহ তাআলার ভয়।

খোদাভীতির একটি দৃষ্টান্ত;

হযরত ওমর রা. তাঁর খেলাফতকালে লোকজনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য রাতের বেলা মদীনা মুনাওয়ারায় টহল দিতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর টহল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ লক্ষ করলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণ অবস্থায় কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা জায়েয নয়। কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমতি আছে। তো কথাবার্তার ধরন শুনে তাঁর কৌতূহল হল। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন এবং শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, ‘বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এত অল্প দুধ বিক্রি করে দিন গুজরান করা কষ্ট হবে। তাই দুধের সাথে একটু পানি মিশিয়ে দাও।’

মেয়ে উত্তরে বলল, ‘মা! আমীরুল মুমিনীন তো দুধের সাথে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন?’ বৃদ্ধা বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন কি আমাদের দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পার।’

এবার মেয়ে বলল, ‘মা, আমীরুল মুমিনীন এখানে নেই এবং তার কোনো লোকও নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তো আছেন! তিনি তো দেখছেন! তাঁর কাছে আমরা কী জবাব দেব?’

ওমর রা. দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথা শুনতে পাচ্ছিলেন। এতটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন এবং পরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজখবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, ‘আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।’

এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমীরুল মুমিনীনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করল। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহণ করলেন খলীফা ওমর বিন আবদুল আযীয রাহ., যাকে পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদ বলা হয়।
তো মানুষের অন্তরে সর্বক্ষণ এই ধ্যান জাগরুক থাকা যে, ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন’-এর নামই তাকওয়া।
পীর-মুরিদীর স্বরূপ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকেই সোহবতের সিলসিলা চলে আসছে। দ্বীন শেখার জন্য মানুষ বুযুর্গানে দ্বীনের সোহবতে যায়, ইসলাহী তাআল্লুক কায়েম করে।

কিন্তু এখন তো পীর-মুরিদীকে এক ধাঁধাঁর বিষয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে আসল কথা এই যে, মানুষ তার নিজের রোগ নিজে চিহ্নিত করতে পারে না। তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। যেমন অহংকার একটি রোগ। শরীয়তে তা হারাম। এতে কারো দ্বিমত নেই। কিন্তু কোনো অহংকারী ব্যক্তি কখনোই স্বীকার করে না যে, আমি অহংকারী। আরবী সাহিত্যে এর চমৎকার একটি উদাহরণ রয়েছে। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় কেউ দাঁড়ালে তার কাছে নিচের সবকিছুই ছোট ছোট মনে হবে। মানুষ, ঘরবাড়ি, গাছপালা সবকিছুই দেখা যাবে অনেক ছোট। এখন তার কাছে মনে হবে দুনিয়ার সবকিছুই ছোট, শুধু আমি অনেক বড়। পক্ষান্তরে নিচের লোকজনও পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ানো লোকটিকে আকারে ছোট দেখতে পাবে।

তেমনিভাবে অহংকারী ব্যক্তি মনে করে, দুনিয়ার সবাই ছোট, শুধু আমি বড়। অথচ অন্যদের দৃষ্টিতে সে তুচ্ছ হয়ে ধরা পড়ে। যদিও মানুষ তার প্রভাব-প্রতিপত্তির ভয়ে তার সামনে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে, মুখে কিছুই বলে না। কিন্তু মনে মনে তার প্রতি বিরক্ত থাকে। অহংকারী নিজে বুঝতেই পারে না যে, আমি ভয়ানক এক রোগে আক্রান্ত।

অহংকার এক ভয়াবহ রোগ

অহংকার বড় ভয়ানক ব্যাধি। এই ব্যাধি থেকে আরো অনেক রোগ সৃষ্টি হয়। ক্রোধ, হিংসা-বিদ্বেষ, অত্যাচার ইত্যাদি সবকিছুর মূলে অহংকার। অথচ অহংকারী নিজে তা অনুভব করে না।

এখন এই রোগ চিহ্নিত করে এর চিকিৎসা কে করবে? এজন্যই শায়খের দরকার। এটাই পীর-মুরিদির আসল প্রয়োজন এজন্যই।
মিডিয়া পার্টার, ছিলেন ইসলামী হোমিও রিসার্চ সেন্টারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মিডিয়া।

Top