পবিত্র ভালবাসা ! —তানভীর মোর্শেদ তামীম

received_1062809113902323.jpeg

📈 অনেক সময় আমরা চোখে যা দেখি,কর্ণ দিয়ে যা শুণি ঠিক তার বিপরীত কিছুই সত্য হয়।প্রকৃতি সব সময় চায় কিছু রহস্য তার কাছে লুকিয়ে রাখতে।

আবার আমরা অনেক সময় মানুষকে অকারণে ভুল বুঝি;যার ফলে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু নিছক ঘটনা!অথচ এইসব ঘটনার কোন অর্থ হয় না।কেন আমরা ভুল বুঝি?নিশ্চয় এর পেছনেও অকল্পনীয় কিছু ইতিকথা লুকিয়ে আছে;যার ফলে আজ কষ্টের সাগরে নিজেদেরকে এভাবে খুজতে হচ্ছে।এবার একটু গভীরে গিয়ে আত্ম উপলব্ধির দোয়ারে করাঘাত করি।

নিঃসন্দেহে যখন পাচঁ বছর ধরে এক সাথে থাকার পর একজন অপরজনকে ভুল বুঝে হাজার মাইল দূরত্বে চলে যায় তখন এই পীড়া আরও বেশী পীড়াদায়ক হয়ে উঠে।দুটি মন তখন শুধু ছটফট করতে থাকে,যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে,ব্যক্তি বারবার হাত দিয়ে চোখের কোণা মুছতে থাকে,এতকিছুর পরও পবিত্র ভালবাসার মানুষগুলোর শুধু একটাই চাওয়া কখন তারা পুরাপুরি এক হবে?কিন্তু এইসব কেবল আমার উপলব্ধি।বাস্তবিক প্রেক্ষাপট পুরাটাই আলাদা।কারণ একজন সারাদিন ঘরের কোণায় বসে বসে চোখের জলে নিজের সবটুকু বেদনা তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে,অপরজন তা দেখে না।তাই সে ভাবে ও তো আমাকে ছাড়া দিব্যি দিন কাটাচ্ছে; এরকিছুদিন পর একজন অপরজনকে আরও বেশী ভুল বুঝতে থাকে।একসময় ছেলেটি ভাবে ও তাহলে এতদিন আমার ভালবাসা নিয়ে খেলা করল?ও তাহলে কি এখন অন্যের হাতে হাত রেখে আমার সব স্মৃতিগুলো পুড়িয়ে দিল!আর কত কি!

এভাবে হারিয়ে যেতে থাকে বিশ্বাস।বিশ্বাস হারানোর সাথে সাথে হেরে যায় ভালবাসা।চারিদিকে শুরু হয় নানান আলোচনা সমালোচনা।কেউ কেউ দুষ দেয় ছেলের !আবার কেউ দুষ দেয় মেয়ের।এভাবেই দুজনের বুকে নেমে আসে অকল্পনীয় কিছু মুহূর্ত।তখন অনুভূতিরা হয়ে উঠে বিষময়।

আসলে আমরা অনেক সময় নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়।কারণ যখন দেখি দুজন লোক ঝগড়ায় দিশেহারা হয়ে একে অপরকে ছেড়ে দেয় তখন কোন কিছু বিচার না করেই আমরা নিজের পছন্দের ব্যক্তিটিকে বলে দিয় সে ঠিক,আর অপরজন মিথ্যে।কিন্তু যদি সবকিছু তীক্ষ্ণভাবে বিচার করি তাহলে নিউটনের তৃতীয় সূত্রের দিকে যেতে হয়।কারণ পাচঁটা বছর একসাথে কাটানোর পর হঠাৎ করে বিচ্ছেদ আসার পেছনে একজনের ক্রিয়া শুধুমাত্র প্রভাব রাখে না।অপরজন ও বিপরীত দিক থেকে প্রতিক্রিয়া দেয় বলে এমনটি হয়।কিন্তু আমরা বোকার মত একজনের ঘাড়ের উপর সব দুষ চাপিয়ে দিয়।

ভালবাসা হচ্ছে পবিত্র কিছু অনুভূতির সমষ্টি।
ভালবাসা বলতে আমি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা,সম্মান,মায়া,মমতা,সবটুকুকেই বুঝি,যেখানে অবহেলার কোন সুযোগ নেই।

কিন্তু যখন আমরা হঠাৎ করেই প্রিয় মানুষটিকে নানান কারণে অবহেলা করতে থাকি তখন প্রিয় মানুষটি আর সহ্য করতে পারে না।সে তখন চিৎকার করে বলতে চায়, আমাকে তুমি আর অবহেলা করু না।কিন্তু বলার সে সুযোগ তখন আর থাকে না।এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম।আর ফলপ্রসুতে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ভালবাসা নামক কঠিন বন্ধনের আসক্তি।

এইজন্যই উচিৎ প্রিয়তমার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া।তার বুকে কিভাবে মাথা রেখে ঘুমালে দিব্যি করে ঘুমাতে পারবেন সেদিকে খেয়াল রাখা তথাপি অবহেলা করা যাবে না!এই কথায় বলছি।

এভাবে শুধু শুধু ভালবাসার মানুষটিকে কষ্ট না দিয়ে আসুন প্রিয়তমাকে একটু বুঝার চেষ্টা করি ।একবার চোখ বন্ধ করে সেদিনটির কথা ভাবুন তো;

যেদিন হাতে লাল গোলাপ নিয়ে দাড়িয়েছিলেন তার সামনে এবং বলেছিলেন বাড়িয়ে দাও তোমার দুহাত,আমৃত্যু তোমাকে আমার বুকে আগলিয়ে রাখব।
সবশেষে এটুকু বলব,অভিমানের পাহাড় এসিড দিয়ে ঝলসিয়ে দিন আর প্রিয়তমাকে একটু বুঝার চেষ্টা করুন।তখন দেখবেন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
জয় হোক ভালবাসার।
জয় হোক সকলের।আল্লাহ হাফেজ

————
লেখক–
কবি ও কথাসাহিত্যিক
তানভীর মোর্শেদ তামীম।

Top