নারী এবং কিছু কথা–এবি ছিদ্দিক

images-3.jpg

————————–
বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তাঁর করিয়াছে নারী অর্ধেক নর। বলেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ৮ মার্চ আন্তজার্তিক নারী দিবস। নারী শব্দটি চোখের সামনে আসলে প্রথমেই যাকে মনে পড়ে, হৃদয়ের ক্যানভাসে যার ছবি আকাঁ তিনি আমাদের সকলেরই একটি প্রিয় নাম ‘‘মা”। নারী মানে তিনি আমার চক্ষু শীতলকারী মা। নারী মানে সে আমার শ্রদ্ধা ও ¯েœহময়ী বোন। নারী মানে সে আমার জীবন সাথী। নারী মানে এক নতুন স্বপ্ন। নারী মানে নব এক বসুন্ধরা। যাকে ছাড়া মানবকুল থাকতো অপূর্ণ, অতৃপ্ত, অশান্ত ও দিশেহারা। নারী এবং তাকেই নিয়েই আজ কিছু কথা। যদি একটু পিছনে তাকাই তাহলে দেখি ইসলামপূর্ব পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্ম ও সভ্যতায় নারী ছিলো বি ত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত। সম্মান, অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিলনা। শৈশবে পিতার অধিনে, যৌবনে স্বামীর অধিনে এবং বার্ধক্যে সন্তানদের অধিনে জীবনযাপন করতে হতো। নারীকে পাপের উৎস, অকেজো ও অসম্মান করে ফেলে দেয়া হয়েছিল জীবনের বিভিন্ন অঙ্গন থেকে। লজ্জার কারণ মনে করে মাটিতে দাফন করা হয়েছিল জীবন্ত নারীকে। সতিদাহে পুড়িয়ে ফেলা হতো মৃত স্বামীর সাথে। বেধে দেয়া হতো ঘোড়ার লেজের সাথে আর দ্রুত বেগে ঘোড়াকে হাকিঁয়ে জীবন্ত নারীর আর্তনাদে রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখে উল্লাস করতো সভ্যতা! এ করুণ অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলে মানবতার বন্ধু হযরত মুহাম্মদ (সা:)। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মান, দিয়েছে মর্যাদা, দিয়েছে অধিকার। নারীকে ব্যাক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তজার্তিক সকল ক্ষেত্রে ইসলাম নারীকে তারঁ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে কোনো বাধা দেয়নি। কন্যা হিসেবে নারীকে ইসলামই একমাত্র সৌভাগ্যের বিষয় বলে শুভ সংবাদ জানিয়েছে। স্ত্রী হিসেবে দেয়া হয়েছে সমঅধিকার। কুরআনের ভাষায়: স্ত্রীদেরও রয়েছে তেমনি অধিকার, যেমন অধিকার রয়েছে তাদের উপর স্বামীদের এবং তা সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। বিবাহ বন্ধনে সম্মানসরুপ উপহার হিসেবে নারীকে মহর প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, তোমরা নারীদের সন্তুষ্টভাবে তাদের মহর প্রদান করো। মা হিসেবে নারীকে দেয়া হয়েছে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার অধিকার। হাদীসে রাসূল (সা:) বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। যে মায়ের সেবা- যতœ করলো সেই জান্নাত লাভ করলো। বিধাব ও তালাক প্রাপ্তাকে দেয়া হয়েছে পূর্ণবিবাহের অধিকার। নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের প্রতি সদাচরণের। অপমান, লাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত বিপদ থেকে রক্ষায় দেয়া হয়েছে পর্দার বিধান। আল্লাহর পছন্দনীয় একমাত্র জীবনব্যবস্থা ইসলাম নারীকে যে অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানের উচ্চতায় পৌছাল। তা ভূলে নারী সমাজ কি আবারও মানবরচিত মতবাদে পা দিয়ে জাহিলিয়াতে অন্ধকারে হারিয়ে যাবে?

————————
লেখক: মো: আবু বকর সিদ্দিক।
শিক্ষার্থী: এম.এ. হাদিস। এম.এফ. ফিকহ বিভাগে অধ্যায়নরত।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Top