ডাকসুতে শোভন ভাইদের মতো নেতৃত্বই দরকার

received_255864101959130.jpeg

এমডি জাহান,ঢাবি —

দীর্ঘ ১ মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে পরিচিতজনদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে আমার নিকট থেকে বেশ কিছু দুরে শরিফুল ইসলাম ভাইয়াকে দেখতে পেয়ে হ্যালো ভাইয়া, হ্যালো ভাই-ইয়া, এই যে ভাইয়া বলে ডাক দিলাম! কিন্তু কোনো কিছুতেই কিছু হলো না। মনে মনে ভাবলাম তিনি হয়ত আমার ডাক শুনতে পাননি। তাই দুর থেকেই কিছু সময় উনার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
লক্ষ্য করলাম উনি লিফলেটের মতো একটি কাগজ সবাইকে দিচ্ছেন। মুখেও কি জানি বলছেন। একটু কৌতুহলী হয়ে উঠলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম উনার সাথে কথা বলবো। এবার উনার কাছে গিয়ে আবার ডাক দিলাম। এবার তিনি আমার ডাক শুনে পেছনে তাকালেন এবং স্বভাবসুলভ হাসিভরা মুখে বললেন, জাহানুর কেমন আছো? ভাল আছি বলে জবাব দিয়ে ভাইয়াকে বললাম আপনাকে কয়েকবার ডাক দিয়েছিলাম কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি ।
তিনি জানালেন তিনি আমার ডাক শুনতে পাননি। আমি মনে মনে বললাম তাহলে আমার ধারণাই সঠিক ,তিনি আমার ডাক শুনতে পাননি। আমি উনাকে বললাম আপনার হাতে ও গুলো কী? আপনি ভোঁটে দাঁড়াইছেন নাকি? তিনি তার চিরাচরিত হাসিটা মুখে ধরে রেখে বললেন, এগুলো ভোটের লিফলেট ঠিকই , তবে আমি প্রার্থী নই। আপনি প্রার্থী নন! তো এতো আন্তরিক ও একনিষ্ঠভাবে কার নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন যে ছোট ভাই ব্রাদার ডাকলেও শুনতে পাচ্ছেন না,আসলে ঘটনা কী? জানতেন চাইলাম তার কাছে। উনি উত্তরে যা বললেন তা শোনার প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি প্রথমেই একটি কথা জানালেন, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। তিনি আমাকে বললেন, এবারের ডাকসু নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড শোভন- রাব্বানী – সাদ্দাম প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন । আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভাইয়ের অনুসারী । এমতাবস্থায় আমি তো হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারি না। আমি শোভন- রাব্বানী – সাদ্দাম প্যানেলের সবার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইছি।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের ব্যাপারে খুবই পজেটিভ। অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীরাই বলছে শোভন ভাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক এবং ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ পদে থাকা সত্ত্বেও তিনি যেভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেলামেশা করেন বর্তমান সময়ে সত্যিই তা অভাবনীয়। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ডাকসুতে শোভন ভাইদের মতো নেতৃত্বই দরকার। তারা শোভন- রাব্বানী – সাদ্দাম প্যানেল কে ভোট দিবেন বলে আমাকে জানাচ্ছেন। আমি নিজেও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী এবারের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ব্যাপক ভোটে জয় লাভ করবে। ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকালাম। তখন প্রায় দুপুর ১ টা বেজে ৩০ মিনিট। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। ভাইয়ার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খাওয়ার উদ্দেশে হলের পথে পা বাড়ালাম আর মনে মনে প্রার্থনা করলাম শরিফুল ইসলাম ভাইয়ের আশা যেন পূরণ হয়।

Top