বালাকোট হামলা: হতাহতের সংখ্যার ব্যাপারে ভারতীয় সরকার মুখ খুলছে না কেন?

105887183_3bd691e9-4318-4254-a5e9-517958dcb0f7.jpg

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানের বালাকোটে মঙ্গলবারের বিমান হামলায় ঠিক কতজন জঙ্গি হতাহত হয়েছে তা নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক দিন দিন তীব্র হচ্ছে।

কিছু কিছু বিরোধী দল এখন প্রকাশ্যে ঐ বিমান হামলায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস এবং বহু জঙ্গি নিহত হওয়ার সরকারি দাবির প্রমাণ দেখতে চাইছে।

এই বিতর্কের মাঝে ভারতের বিমান বাহিনীর প্রধান আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা বালাকোটে জঙ্গি আস্তানায় আঘাত করেছেন, তবে তাতে কত লোক মারা গেছে, সে হিসাব দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের।

তবে এখনও পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা দেয়নি। তবে হামলার দিনেই সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় মিডিয়াগুলো বলেছিল যে, বিমান হামলায় বালাকোটে জইশ-ই- মোহাম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর তিনশোর মতো সদস্য নিহত হয়েছে।

বালাকোট নিয়ে যেহেতু বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে স্পষ্ট করে কিছু বলা হচ্ছে না তাই এনিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানও দাবি করছে, এই হামলায় একজন মানুষও মারা যায় নি।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ যে এরকম এক যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিৎ ছিল সবকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি বৈঠক ডেকে এবিষয়ে তাদেরকে অবহিত করা।

দিল্লিতে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অতীতে ভারতে যখন এধরনের ঘটনা ঘটেছে, প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে বিরোধী দলগুলোকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন।”

তার মতে এই বিভ্রান্তির আরো একটি কারণ হচ্ছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে ভারতীয় রাজনীতিকদের একটা ধারণা হয়েছে যে সরকার প্রকৃত তথ্য জানাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “বিরোধীরা জানতে চাইছে প্রকৃত ঘটনা কী। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন থেকে শুধু বলা হচ্ছে, ভারত যে কোন একটি ঘটনার প্রত্যুত্তর দিতে পারে সেই বার্তাটাই পাকিস্তানসহ বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছে।

এরকম বিভ্রান্তির ভেতরেই বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ আজ সোমবারেও এক জনসভায় দাবি করেছেন যে ওই অভিযানে আড়াইশো জঙ্গি নিহত হয়েছে।

গৌতম লাহিড়ী বলছেন, এবিষয়ে সরকারের ওপর একটি চাপ তৈরি হওয়ার কারণে শাসক দলের সভাপতি এরকম বলতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু সরকার এবিষয়ে কিছুই বলছে না।

এই বিভ্রান্তি আগামী লোকসভা নির্বাচনী প্রচারণায় অন্যতম একটি ইস্যু হয়ে উঠবে বলে মনে করেন মি. লাহিড়ী। -বিবিসি বাংলা।

Top