সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে লেখনীর ধারায়

received_561901894277566.jpeg

————–
জ্ঞানতৃষ্ণা আহরণের পর সেই জ্ঞান সূচারুভাবে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মানুষের মনে সৃষ্টি হয় লেখনীর প্রবল ইচ্ছা। আর এই ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটা যারা ভালভাবে পারে তাঁরাই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে শক্তিশালী লেখক।

প্রত্যকেটি মানুষের মনে দিনে দিনে বহু কথার জন্ম হয়। এই অজস্র কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার অতি উত্তম দায়ভার লেখকের।লেখক নানা ধরনের লেখা লিখে থাকে। আজকাল কবিতা মানুষ পড়তে চায় না। কিন্তু একসময় মানুষ কবিতাকে বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন ভাবতো, কবিতা পড়ে অনেকের নেত্রজল গড়িয়ে পড়তো মাটিতে, কবিতা পড়ে মানুষ প্রচুর আনন্দ উপভোগ করতো।

কিন্তু বর্তমানে মানুষজন কবিতার প্রতি অনীহা প্রকাশ করছে, কবিতা পড়ছে না,কবিতাকে চক্ষুশূল ভাবছে। এর একমাত্র কারণ মানসম্মত লেখা আসছে না।অধিকাংশ লেখক বাজারি মনোভাব নিয়ে লেখা শুরু করছে। একটি অংশ লেখক হওয়ার মতো পর্যাপ্ত বই-পুস্তক, গবেষণাপত্র ইত্যাদি না পড়ে বড় মানের লেখক হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।

জগতের যত বড় বড় লেখক সৃষ্টি হয়েছে তাঁরা সবাই একসময় বই পড়ুয়া ছিলেন,বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কর্মের সাথে সম্যকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই লেখার আগে অবশ্যই পাঠক হওয়া জরুরি। বিভিন্ন ধরনের উপন্যাস, নাটক,প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা,রম্যরচনা সহ বহুমুখী সাহিত্যের
প্রতি তীব্র জানার ইচ্ছা থাকতে হবে তাহলে লেখার সময় তাঁর লেখায় একটা ভিন্ন ধরণের চমক পাওয়া যাবে।

একজন মানুষের ভিতর জমে থাকা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজন হয় লেখনীর। একমাত্র লেখনীর মাধ্যমেই মানুষের ভিতর লুকায়িত প্রতিভা পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়। তারপর পাঠকই নির্বাচন করবে আপনার লেখার মান কেমন।
তাই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের জন্য আমাদের লেখালেখি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা প্রবাদে আছে,” গাইতে গাইতে গায়েন” তেমনিভাবে লিখতে লিখতে লেখক সৃষ্টি হয়।
সৃষ্টির পিছনে থাকে অদ্ভুত সব রহস্য। অনেক সাধনা,ত্যাগ-তিতীক্ষার ফলে একটি সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়। বর্তমান তরুণ লেখক যেমন – সাদাত হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল ইমরান, স্বকৃত নোমান, আক্তারুজ্জামান আজাদ, ফাতিমা রুমি, কিঙ্কর আহসান, অরুন কুমার বিশ্বাস প্রত্যেকেই উত্তম লেখক হওয়ার পূর্বে সৃষ্টিশীল কর্মের মধ্যে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মো.ওসমান গনি শুভ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top