সাতকানিয়ায় বেসরকারী হাসপাতালে টাকা ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের তুমুল কান্ড, আহত ১৪

received_239913040295294.jpeg

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে টাকা ভাংতি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে
ভাংচুর চালিয়েছে রোগীর স্বজনরা। এতে উভয় পক্ষের ১৪ জন আহত হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুর পৌন ৩ টায় উপজেলার কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালে এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, কেরানীহাট নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলী তাঁর ছেলেকে নিয়ে আশ্ শেফা হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি রিসিভশনে গিয়ে হাসপাতালের এক কর্মচারীকে চিকিৎসকের ফি দেওয়ার জন্য এক হাজার টাকার একটি
নোট দেন। ফি বাদ দিয়ে বাকী টাকা ফেরতের বিষয় নিয়ে রিসিভশনের কর্মচারী নুর হোসেনের সঙ্গে তাঁর বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই কর্মচারী মোহাম্মদ আলীকে কিলঘুষি মারেন। পরে মোহাম্মদ আলীর স্বজন ও প্রতিবেশিরা খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরা, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর
করেন। এ সময় মোহাম্মদ আলীর স্বজন আরিফুল ইসলাম, ক্লিনিকের কর্মকর্তা সাব্বির আহমদ, অসিম বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, কর্মচারী মর্জিনা আকতার,
স্বপ্না দাশ,জয়নাল আবেদীন,বাদশা,রত্না দাশ, ছবি ধর, ঝুনু বডুয়া,জয়নার বেগম,খুকি দাশ ও রুমা আকতার আহত হন।
নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন,ছেলেকে ডাক্তার দেখাবার পর ফি বাদ দিয়ে এক হাজার টাকার নোট থেকে বাকী টাকা ফেরত চাইলে হাসপাতালের এক কর্মচারী খারাপ ভাষায় কথা বলেন।
তাৎক্ষণিক রাগের মাথায় সামনে পাওয়া একটি খাতা ছুড়ে মারলে ওই কর্মচারী রিসিভশন থেকে বাইরে এসে আমাকে কিলঘুষি মারতে থাকেন। পরে আমার প্রতিবেশিরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন।
আশ্ শেফা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মো. মোরশেদ আলম বলেন, টাকা ফেরতের বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছিলাম। এ সময় একদল লোক এসে ক্লিনিকে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করেছে। এতে হাসপাতালের ১২-১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত
হয়েছেন।
সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওমর ফারুক বলেন, টাকা ফেরতের বিষয় নিয়ে হাসপাতালের এক কর্মচারী রোগীর এক স্বজনকে কিলঘুষি
মেরেছে। এ ঘটনার জের ধরে রোগীর স্বজন ও প্রতিবেশিরা ক্লিনিকে এসে ভাঙচুর চালান। ভাঙচুরের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন।

Top