“কষ্টের মাঝেই সুখ”–মো:ফিরোজ খান

2019-02-15-14-54-12.jpg

———————————-
কষ্টে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো কখনও সুযোগ হারায় না,হারাতে পারেনা কোনো ভাবেই। যে লোকের জীবনে কখনও একটি বার না খেয়ে থাকতে হয় নি,যার কখনও জীবনের মধ্যে ক্ষুধার কষ্ট আসেনি ,, এবং অর্থের কষ্টও আসেনি, যাকে কখনও না পাওয়ার দু:খ পোহাতে হয় নি,কোনো পাওয়ার আনন্দে কান্না আসেনি,তাকে কভূ সঠিক জীবন হিসেবে ধরা যায় না।আসলে তাকে জীবন বলে না।জীবন টা আমাদের ধারনার চেয়েও বড়।

শুধু দুই টাকায় যার ঈদ কাটাতে হয়নি,তাদের জীবনে কখনও কোনো সঠিক দিকনির্দেশনা ও আসেনি,তাদের জীবনের পূর্নতাও আসেনি।জীবন প্রাপ্তির হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের মাঝে অনেকেই তাদের জীবনকে অবধারিত রেখে দেয়, হয়তোবা তারা ভেবে থাকেন তাদের জীবনে এক সময় কিছু প্রাপ্তি আসবে। আমাদের সুখী হতে হলে অনেক কিছুই ভুলে যেতে হবে।কেননা জীবনের হিসেব কখনও সঠিকভাবে মেলানো যাবেনা।অনেকেই জীবনের শেষ ঠিকানায় পৌঁছে গিয়ে এবং চেষ্টা করেও জীবনের পূণাঙ্গ হিসেব মেলাতে পারেনি।এবং এভাবে কখনও সম্ভব হয়না।আবার মৃত্যুসজ্জায় থেকেও অনেকেই চায় তার জীবনের হিসেব মিলাতে কিন্তু কখনও পারেনি। রঙ্গের দুনিয়ায় রঙ্গের খেলায় আমরা কি পেয়েছি আমাদের জীবনে,এবং কতটুকু সঠিক নিয়মে আমরা সাজাতে পেরেছি আমাদের জীবনকে।আমরা আর কি পেলে আমাদের জীবনকে আরো সুন্দর ও ভালো করে সাজাতে পারবো?এবং কোন বিষয়ে জানতে পারলে ভালো হতো আমাদের জীবনের জন্য, আর কি না পেলে ভালো থাকবে স্বল্পতার এই রঙ্গের জীবন।

জীবন সাজাতে অন‍্যের জীবনের খোঁজ নেওয়ার কতটুকু প্রয়োজন আছে?এই সকল কথার মূল্য কতটুকু আছে আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে? তবে জীবন গঠনের জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হয়তোবা আমি,আপনি আমরা আমাদের জীবনের দিকে তাকালেই হয়তোবা খুঁজে পাবো মূল রহস্য।আমার,আপনার চেয়েও এই পৃথিবীতে হাজার হাজার মানুষ বেঁচে আছেন যাদের মধ্যে আছেন অনেকই দু:খী অসহায় গরীব ও না খেয়ে থাকা মানুষ। আমি আপনি আমরা হয়তোবা তাদেরকে খুঁজে পাবো বিভিন্ন রেললাইনের পুরনো কোনো বগিতে,নয়তোবা খুঁজে পাবো কোনো বড় মার্কেটের ভিতরে/বাহিরে তাদের হাতে আছে অন‍্যের বাজারে ব‍্যাগ,অথবা মাথায় আছে অনেক ওজনের বস্তা।তাদের মধ্যে থাকা বেশিরভাগ মানুষই রেল লাইনের আশপাশে ভিক্ষে করে থাকেন,দেখা যায় একজনের ভিক্ষে দিয়ে সংসারের ৫ জনের জীবিকা পূরণ করতে হয়।

এই সকল মানুষগুলোর দিকে আমরা একটু দৃষ্টি রাখবো তাদের দিকে একটি বার তাকিয়ে দেখি তাহলেই হয়তোবা আমরা খুঁজে পাবো আমাদের আসল জীবনের আসল ঠিকানা।এদের মধ্যে আরো আছেন ঢাকার,কমলাপুর বস্তির মধ্যে অনেক অসহায় দারিদ্র্য মানুষ তাদের দিকে তাকালেও একই রূপ আমরা দেখতে পাবো,তাই রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন বস্তি এলাকায় গিয়ে যদি আমরা সময় করে মাঝে মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ঘুরে আসি এবং ভালো করে তাদের জীবনের সুখ-দুখের কথা নিয়ে কিছুটা সময় ভেবে দেখতে পারি,তাহলেও তাদের জীবন দেখে আমরা আমাদের জীবনের স্বন্ধিক্ষণে ফেলে আশা জীবনের কথা সহজেই চিন্তা করতে পারি। আমাদের জীবনের সৃষ্টির সন্ধান যদি আমরা খুঁজে দেখি এবং সঠিকভাবে একবার তাকিয়ে দেখি তখন হয়তোবা দেখতে পাবো আমাদের এই জীবন অনেক সুন্দর, সুখের কেননা মহান আল্লাহ স্বংয় নিজেই সৃষ্টি করেছেন আমাদের,তাই ভাববো আমরা এর চেয়ে আর কিছুতেই নেই সুখ একথাই আমরা মানবো সবসময়ই।

মহান রব্বুল আলামীনের সকল সৃষ্টির মধ্যে আমাদেরই শ্রেষ্ঠ হিসেবেই ঘোষণা দিয়েছেন পবিত্র কোরআন শরীফে।সৃষ্টির সকল মানব জাতিকে মহান আল্লাহ নিজেই একই মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আমাদের অথচ আমরা আমাদের একজনের জীবন এক এক ধরনের রূপে রূপান্তরিত করেছি এই জগতের মাঝেই,আমাদের এই জগত সংসার বড়ই মধুময় তাই সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করাই এই রংঙের দুনিয়ায় একটি সঠিক কাম‍্য। তাই সকল ছোট বড়,মানুষের জীবনের সাথে মিলেমিশে আছে সুখ ও দুখ। আমরা,আপনি আমাদের সকলেরই যদি একটু লক্ষ্য করে থাকি, তাহলেই দেখবো যে ,ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ মোড়ের দিকে গেলেই দেখা যাবে সেই খোড়া,লুলা,পঙ্গু, অন্ধ বিভিন্ন ধরনের ভিক্ষুক তারা হয়তোবা আপনার আমার কাছেই কিছু চাইছে অনেক সময় তারা আছে অপেক্ষায় কিছু পাওয়ার আশায়।তাই আমার ভাবনার ছোট কথাগুলো হলো খুবই ছোট, হয়তোবা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকবে কিছুটা বড়। তাই আমরা যারা সাধারণ ভাবে জীবন গড়েছি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েই,আমি তাদের সকলকেই বলবো চলুন আমরা সকলেই মিলেমিশে গিয়ে ঐ শাহবাগ মোড়ে কিছু সময়ের জন্য যাই,তাদের কাছে গিয়ে তাদের করুণ মুখের পানে একটি বার তাকিয়ে,তাদের মনের কষ্টের কথাগুলো আমাদের সঙ্গী করি।

আমাদের সকলকেই তাকাতে হবে ঐ সকল সাধারণ মানুষের দিকে,কখনও উপরের মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকলে সহজেই নিচের মানুষের কষ্ট আমরা কখনও বুঝতে পারবোনা। এ কথাই সত্য এবং বাস্তব।তাই সুখের দেখা পেতে হলে আমাদের সকলকেই দুখী মানুষের সান্ন‍্যিধ‍্যে যেতে হবে,তাদের সাথে মিলেমিশে তাদের কষ্টের কথাকে শুনতে হবে, তাতে অবশ্যই তাদের মনের খোরাক বৃদ্ধি পাবে, শুধুমাত্র একটু সহনোভুতির জন‍্যই। হয়তোবা এভাবে আমরা কিছু কিছু মানুষের জীবনের গল্পের কথাগুলো আমাদের জীবনের সঙ্গে গেথে রাখতে সক্ষম হবো।তাতেই একদিন সুখের সন্ধান খুঁজে পাবো রঙ্গের এই দুনিয়ার বুকে;রঙ্গের মানুষের জীবন সাজাতে নয়;রঙ্গিন দুনিয়ায় আছে এই রঙ্গ-তামাশা থেকে ছিন্ন একটি দল তাদের জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে পারলেই কিছুটা শান্তি পাবো আমরা।
—————–
–-মো:ফিরোজ খান
(লেখক সাংবাদিক)

Top