সাতক্ষীরায় গৃহবধূ আখি হত্যার বিচারের দাবীতে কেশবপুরের গড়ভাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

FB_IMG_1550070863633.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ;

কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা গ্রামের গোবিন্দ বসুর মেয়ে ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের গৃহবধু আঁখি বোসের হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামনের সড়কে বুধবার সকালে মানববন্ধন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রভাত বসু। তিনি বলেন, আঁখি বোস গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। উপজেলা বিতর্ক অনুষ্ঠানে অনেকবার প্রথম হয়ে বিদ্যালয়ের সম্মান এনে দিয়েছেন। তার এমন পরিকল্পিত হত্যা আমাদের শোকাহত করেছে, তিনি আঁখি বোসের হত্যাকারীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এসময় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্ভাব্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ।
উল্লেখ্য, কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামের গোবিন্দ বসুর মেয়ে আঁখি বোসের (১৯) ঝুলন্ত লাশ তার শ্বশুরবাড়ি সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর থেকে উদ্ধার করেন পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তার শ্বশুর বাড়ির ফ্যানে আঁখির লাশ ওড়নার ফাঁসে ঝুলন্ত ছিল।
নিহত আঁখির স্বামী অরূপ বোস, তার শ্বশুর এস.কে বোস (সন্তোষ কুমার বোস) ও শাশুড়ি অশোকা বোসকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান জানান, আঁখির লাশ ঝুলন্ত থাকলেও তার দু’টি পা মেঝেতে পাতানো অবস্থায় ছিল। নিহতের নাক থেকে দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি বের হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আঁখির স্বামী অরূপ বোস, তার শ^শুর এস.কে বোস ও শাশুড়ি অশোকা বোসকে আটক করা হয়েছে।
এস.আই আরো জানান, তিন বছর আগে যশোর জেলার কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা গ্রামের গোবিন্দ বসুর মেয়ে আঁখির সাথে বিয়ে হয়েছিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের জ্যোতির্বিদ এস.কে বোসের ছেলে অরুপের।
এলাকাবাসী জানায়, আঁখির মত এত ভালো কোন গৃহবধূ এই এলাকায় নেই। তাকে প্রায়ই অত্যাচার ও নির্যাতন করত স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি মিলে। গত (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আঁখিকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে পিটিয়ে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঘরের সিলিং ফ্যানে টানিয়ে দেয়। তাদের পরিবার এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
নিহতের মা জোছনা বসু ও তার স্বজনরা জানায়, আঁখির শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারপিট ও নির্যাতন করতো। তারা আরো জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে আঁখিকে জোর পূর্বক গালে বিষ ঢেলে হত্যার পর লাশ ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

Top