“মনেতে বসন্ত এসেছে ফাগুনের তানে” —মোঃ ফিরোজ খান

2019-02-13-20-27-41.jpg

————-
(বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম সুফিয়া কামাল এবং অনেক গুণী জনের বিভিন্ন কথার ছন্দময়, ও মধুর ভাষায় এই সামান্য লেখা উপহার ফাগুনের বসন্তে লেখা)

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বেগম সুফিয়া কামালের ফাগুনের মন মাতানো কথায় হারিয়ে যাবো মৃদু মৃদু হাওয়ায় এই বসন্তে।
মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে। কুহক লেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে, লিখিছে প্রণয়-কাহিনী বিবিধ বরন-ছটাতে।মধুর কথায় বসন্তের ছোঁয়া নিয়ে ফাগুন কে ভালোবেসে বলেছেন এসব কথা বিশ্ব কবি(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

হোক,তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?” কহিল সে কাছে সরি আসি-“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী- গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে,ভুলিতে পারি না কোন মতে(সুফিয়া কামাল)

মনের আকাশে ঐ ফাগুন; পিয়াসী পাখি উড়ে যায় সুদূরেতে,কার যেছায়া মাখি!ফাগুনের রঙে রেঙেছো তুমি,না বলা কথা আজ বলবো আমিঃ হৃদয়ের ডাক শুনবে কি তুমি?ফাল্গুনে শুরু হয় গুনগুনানী,ভোমরাটা গায় গান ঘুম ভাঙানি।
মনের মাঝে দিয়ে যায় দোলা তুমি এসেছো হে ফাগুন তাইতো প্রেয়সী আছে অপেক্ষায় আমারী লাগি,আমি তাই হারিয়েছি এই ফাগুনের ছোঁয়া পেয়ে বসন্তের ঐ কোকিলের কূহ কূহ কলরবে।

কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন ফাগুন নিয়ে সুন্দর সুশীল কথা-আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি হে সুন্দরী; চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি।বসন্ত এলো এলো এলোরে পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহরে মুহু মুহু কুহু কুহু তানে।
ফাগুনের নবীন আনন্দে গানখানি গাঁথিলাম ছন্দে; দিল তারে বনবীথি কোকিলের কলগীতি, ভরি দিল বকুলের গন্ধে।কারও কারও জীবনে বসন্ত নিভৃতে আসে বাইরে প্রকাশ পায় না । তার আমেজে সে নিজেই পুলকিত হয়ে যায় আনমনে।কখনো বা চাঁদের আলোতে কখনো বসন্তসমীরণে সেই ত্রিভুবনজয়ী,অপাররহস্যময়ী আনন্দ-মুরতিখানি জেগে ওঠে মনে আমার সুন্দর দিনে এলো বুঝি ফাগুনের ছোঁয়া নিয়ে বসন্তের হাতছানি।

আছে দুঃখ,আছে মৃত্যু,বিরহদহন লাগে মোর মনেতে; তবুও শান্তি,তবুও আনন্দ,তবুও অনন্ত জাগে সকলের মনের ঘরে। তবুও প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে বলে গিয়েছেন এই মধুর কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।কখনো বাগান,কখনো দিগন্ত কখনো শ্রাবণ,কখনো বসন্ত আমি সেই তোমাকেই খুঁজি হে ফাগুনের আগুন।ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল,ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল।চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়,বেণুবনে মর্মরে দক্ষিণ দিগন্ত বাতাসে ভেসে আসে ফুলের সৌরভ।স্পন্দিত নদীজল ঝিলিমিলি করে,জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি বালুকার চরে,নৌকা ডাঙায় বাঁধা, কাণ্ডারী জাগে,পূর্ণিমারাত্রির মত্ততা লাগে এই বসন্তের তানে ফাগুন কেড়ে নেয় সকলের মনকে।

খেয়াঘাটে ওঠে গান অশ্বথতলে,পান্থ বাজায়ে বাঁশি আন্‌মনে চলে।ধায় সে বংশীরব বহুদূর গাঁয়,জনহীন প্রান্তর পার হয়ে যায় মনের আনন্দে সেই দূর বহুদূর।নেই মনেতে আজ কোনো ভয়ভীতি সাহসের সঙ্গে রক্তিম সূর্যের আলোর মাঝে চলছে প্রেমিক প্রেমের অন্তরালে ফুটাতে বসন্তের ফুল দিবে আজ ফাগুনে খোপায় গেথে।বিহুরে লগন মধুরে লগন,অকাশে বাতাসে লাগিল রে চম্পা ফুটিছে চামলী ফুটিছে,তার সুবাসে ময়না আমার ভাসিল রে দেখো সকলেই সেই ফাগুনের বসন্তকে। হলুদ বরন মেঘলা এ তার যৌবন উছলায় লাল ওরনার আড়াল দিয়া চক্ষু দুটি চায় খোপায় টগর ময়না বুঝি আমায় খুঁজে হায় বসন্তে এ বিহুর লগন উত্তাল হয়ি যায় দেখোনা প্রেয়সী আমার ছুটছে কেমন করে কোনো বাধা মানছেনা সে আজ ফাগুন বলে।

বিহুরে লগন মধুরে লগন, অকাশে বাতাসে লাগিল রে নাচিতে নাচিতে তার ভরা যৌবন বিহুর সাজে সবার মাঝে অসিলরে তাহার নাচ দেখি অমার অঙ্গ অবস হয় ঢোলের কাঠি দুহাত থেকে অপনি খসি যায়।আমাকে পাবে না খুঁজে,কেঁদে কেটে মামুলি ফাল্গুনে তুমি আজ হয়েছো একা সুন্দর এই ফাগুনে।হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে,তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক আছে পথচারী হয়ে তার অপেক্ষায় কখন আসবে সেই ফাগুনের বসন্ত।হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-দখিন দুয়ার গেছে খুলি?বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?।

এখনো দেখনি তুমি? কহিলাম”কেন কবি আজ এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?বুঝেছি আমি কেনো তুমি আছো অপেক্ষায়?এ যে ফাগুন এসেছে মনেতে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া।তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে?-শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান শুধুমাত্র আছি আমি ফাগুনের অপেক্ষায় পথের পথিক হয়ে।কহিলাম”ওগো কবি,রচিয়া লহ না আজও গীতি,বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-“নাই হ’ল,না হোক এবারে-আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-রহেনি,সে ভুলেনি তো,এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।কহিলাম“ওগো কবি,অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”কহিল সে পরম হেলায়“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি?করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?সুন্দর কথাগুলো বলেছেন সুফিয়া কামাল।

হেরো পুরানো প্রাচীন ধরণী হয়েছে শ্যামল-বরনী, যেন যৌবন-প্রবাহ ছুটিছে কালের শাসন টুটাতে; পুরানো বিরহ হানিছে, নবীন মিলন আনিছে, নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে।মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে। কুহক লেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে, লিখিছে প্রণয়-কাহিনী বিবিধ বরন-ছটাতে বলেছেন বিশ্ব কবি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)শুধুমাত্র এই বসন্তের আগমনে ফাগুনের তানে।

Top