তিন দিবস ঘিরে জমজমাট গদখালী ফুল বাজার

51912932_377930646372782_2791047513342214144_n.jpg

শিমুল সরকার,ঝিকরগাছা প্রতিনিধি :

যশোরের গদখালি ফুলের হাট বসন্তবরণ আর ভ্যালেন্টাইনস ডে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উপলক্ষে জমজমাট। সংশ্লিষ্টদের বলছে, এই তিন দিবস উপলক্ষে ফুলের বাজারে সব মিলিয়ে অন্তত ২৪-২৫কোটি টাকার ফুল হাতবদল হবে।যশোরের সদর, ঝিকরগাছা, শার্শা, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার ৬০টি গ্রামে গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করছেন কৃষকরা। রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ দেশি বিদেশি নানা জাতের ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সেখানে।তবে ঝিকরগাছার গদখালীর কৃষকরা এই দেশে রীতিমতো ফুল চাষের বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন। প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হচ্ছে সেখানে। এলাকার প্রায় ৬ হাজার কৃষক ফুল চাষে সরাসরি জড়িত।

ফুলচাষীরা প্রতিদিন তাদের খামারের ফুল বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন গদখালি পাইকারি বাজারে। ব্যবসায়ী আর ফড়িয়ারা সেই ফুল কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। বসন্ত উৎসব ও ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিকদিবস সামনে রেখে গদখালী এলাকায় ফুল বেচাকেনা জমে ওঠে। দেশের ফুল ব্যবসায়ীরা ছোটেন গদখালী। ফুলের বাড়তি চাহিদার কারণে দামও বেড়ে গেছে এরই মধ্যে। প্রায় সব রকমের ফুলই দ্বিগুন দামে বিকোচ্ছে। গত রোববার গদখালি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রজনীগন্ধা স্টিক ৬ টাকা, গোলাপ ৮/৯ টাকা, গ্ল্যাাডিওলাস ৮ থেকে ১২ টাকা, জারবেরা ১২ থেকে ১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি দামের হাওয়া লেগেছে গাঁদাফুলের গায়েও। দেড়শ’ টাকা হাজারের গাঁদাফুল এখন দু’শ’ টাকা। একশটি ক্যালেন্ডোলা দেড়শ’ টাকা ও রকস্টিকের দাম ২শ’ টাকা। অথচ দু’দিন আগেও রজনীগন্ধা ৩ টাকা, গোলাপ সাড়ে ৩ টাকা, গ্ল্যাডিওলাস ৪/৫ টাকা এবং জারবেরা ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হত। এই দাম বেড়ে যাওয়াকে আমলেই নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা, ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। গদখালি এলাকার পানিসারা গ্রামের ফুল চাষী জানান মমিনুলজানান, বাজারে ফুলের বেচাকেনা বেশ ভাল। বেচাকেনাতেও তারা খুশি। শুধু মমিনুল নন, গদখালি এলাকার প্রায় ৮শ’ ফুল চাষীর সকলেই কমবেশি ফুল বিক্রি করছেন।

গদখালি ফুল ব্যবসায়ী ইমন হোসেন জানান,বসন্ত বরণ ও ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বাজার জমে ওঠায় দাম এবং বেচাকেনা দুটোই ভাল,বাজার চাঙ্গা ভাব থাকবে ব্যবসায়ী ও চাষীরা আশা করছেন।

Top