ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী প্রভাষক আতিকুর সাময়িক বরখাস্ত।।।

received_557992388011270.jpeg

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

বেসরকরি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ না করে অন্যের সনদে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক পদে চাকুরী করায় আতিকুর রহমান নামে (বিএম শাখার) এক ইংরেজি প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত রোববার ওই কলেজের গভনিং বডির সভায় সিদ্ধান্তক্রমে তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া ডিগ্রী কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা (বিএম) বিভাগের ইংরেজি প্রভাষক পদে আতিকুর রহমান নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

এদিকে ২০১৫ সালের ২০ মে রুহিয়া ও নিরীক্ষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার ও অডিটর মাহমুদুল হক ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শন করেন। ওই নিরীক্ষায় কলেজের বিএম শাখার ইংরেজি প্রভাষক আতিকুর রহমানের দাখিলকৃত বেসরকরি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সনদপত্র জাল বলে ধরা পড়ে। অর্থাৎ আতিকুর রহমান নিজে পাশ না করে অন্য ব্যক্তির সনদপত্র সংগ্রহ করে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকুরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়।

অডিটের ৩ বছর পর ২৬/১১/২০১৮ তারিখে শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রফেসর মো: সাজ্জাদ রশিদ স্বাক্ষরিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন কলেজ অধ্যক্ষকে পাঠায়।

ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, “জনাব আতিকুর রহমানে রুহিয়া কলেজে ডিগ্রী কলেজের বিএম শাখার ইংরেজী প্রভাষক। তিনি গত ১১/১১/২০১২ খ্রী: তারিখে অত্র কলেজে ইংরেজী বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং এই কলেজে গত ২০/৫/২০১৫ খ্রী: তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার ও অডিটর মাহমুদুল হক ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শন করেন। অত:পর ২৬/১১/২০১৮ খ্রী: তারিখে পরিদর্শন রিপোর্ট আমাদের নিকট প্রেরণ করেন। এই রিপোর্টে দেখা যায়, জনাব আতিকুর রহমান তার চাকুরীর ক্ষেত্রে যে নিবন্ধন সনদটি জমা দিয়েছেন, সেই সনদটি সঠিক নয়, সেটি অন্য ব্যাক্তির। এরই প্রেক্ষিতে জনাব আতিকুর রহমানকে গত ৩১/০১/২০১৯ খ্রী: তারিখে “দাখিলকৃত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সনদপত্রটি আসলে কার ব্যাখ্যা চেয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য চিঠি প্রেরণ করি ৭ কার্য দিবস অতিবাহিত হলেও তিনি কোন জবাব প্রদান করেননি বা ব্যাখ্যা প্রদান করেননি। এর ফলে গত ১০/২/২০১৯ খ্রী: তারিখে কলেজের গভনিং বডির জরুরী সভা আহবান করা হয় এবং প্রভাষক আতিকুর রহমান জাল সনদের ব্যাপারে কোন জবাব দাখির না করায় তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক গৃহীত সমুদয় অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য জনাব আতিকুর রহমানকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি কর্মকাণ্ড এ পর্যন্তই আছে। আমরা কাগজপত্রগুলো পাঠাবো শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে, পরবর্তী নির্দেশ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করবো।”
এ বিষয়ে জনাব আতিকুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Top