আদমদীঘিতে আবারও নাগর নদে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব, আবাদি জমিসহ বাঁধ হুমকির মুখে

adamdighi-11-02-191.jpg

SAMSUNG CAMERA PICTURES

মোঃ মোমিন খান, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে বগুড়ার
আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন নাগর নদের তলা থেকে একটি
প্রভাবশালী মহল ভেকু ও ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে আবারও অভিনব কায়দায় মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের
মহাৎসব চালাচ্ছেন। ফলে এলাকার শতশত একর আবাদী জমি বসতবাড়ীসহ বাঁধ দেবে হুমকির মূখে
পড়ছে।
আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়নের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নাগর নদের বাঁধ ভেঙ্গে
বর্ষা মৌসুমে পানি উপচে পড়ে এলাকার বিপুল পরিমান আবাদি জমির ফসল নষ্ট, বসত বাড়ির ক্ষতি
এবং বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া জমিতে পলি পড়ে আবাদের ফলন কমে যায়। এতে কৃষকদের ব্যাপক
ক্ষতিসাধন হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ওই এলাকায় নাগর নদের ধার ঘেঁষে বেড়ী বাঁধ
নির্মাণ করা হয়। এদিকে কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের হরিনমারা, বাগিচাপাড়া, ফুলবাগিচা, কালিতলা
চাঁপাপুর ইউনিয়নের দক্ষিনে বসনতলি, অচিনতলা ও জুগনিতলা এলাকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী
ব্যক্তি দলীয় প্রভাব বিস্তার করে নাগর নদের তলায় শ্রমিক লাগিয়ে পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে সেখান
থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে অভিনব কায়দায় বাঁধ ঘেঁষে মাটি কেটে নিচ্ছে। এছাড়া শ্যালো চাালিত
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহাৎসব চালানো হচ্ছে। তারা মাটি ও বালি উত্তোলন করার পর
ট্রাক যোগে ইট ভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। নদের তলা থেকে গভীর পর্যন্ত মাটি খনন
হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বাঁধের পাড় দেবে ও ভেঙ্গে পাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ী ও বাঁধ এলাকার
শতশত একর ফসলি জমি ফাঁটল ধরে হুমকির মুখে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি মাটি কাটা ও বালু
উত্তোলনের মেশিন, সরঞ্জাম জব্দ ও পুড়িয়ে দেয়ার পর বেশ কিছুদিন বালু ও মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও গত
কয়েক দিন যাবত আবারও শুরু করা হয়েছে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার মহাউৎসব। কিছুতেই

থামানো যাচ্ছেনা কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর এলাকায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কাজ। উপজেলা
নির্বাহি অফিসার সাদেকুর রহমান জানান, বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে
অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Top