“গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির শিকার যেন না হন কোনো নারী”।

IMG_20190211_070011.jpg

“পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রেও নারীদের মূল‍্যায়ন করতে হবে আমাদের”

আমরা আজ কোথায় বসবাস করছি?আমরা কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারছি আমাদের মা,বোনদেরকে (নারীদের)?কেনইবা আজ পথে-ঘাটে,যানবাহনে নারীদেরকে যৌনতার শিকার হতে হয়?আমরা সবকিছু জেনেও কেনো যেনো সঠিক রূপে এর প্রতিকার অথবা প্রতিবাদ করতে পারছিনা?হয়তোবা কমবেশি সকলেই এসকল প্রশ্নের উত্তর জানি,,কিন্তু মুখে বলতে অনেকে সাহস পাইনা।একথাই সত্য, তানাহলে এতোটা অসহনীয় অবস্থায় আজকে আমাদের দেশের মধ্যে নারী সমাজকে এতোটা অসহায় অবস্থায় পড়তে হতোনা।রাত পোহালেই আমরা বিভিন্ন সংবাদ পত্র ও বিভিন্ন টিভি চ‍্যানেলে দেখতে পাই আমাদের মা,বোনেরা কিভাবে অসহনীয় অবস্থায় পড়ে বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা প্রতিনিয়ত ভাবে আমরা দেখে আসছি।তবে ইদানিং যেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যৌনতার শিকার হচ্ছে মা ও বোনেরা (নারীরা) তাদের যাতায়াত পথে, বিশেষ করে দূর পাল্লার যাতায়াত পথে, যে সকল নারীরা কাজের জন্য প্রতিদিন আশা যাওয়া করেন‌।আমাদের দেশের মধ্যে যদি এখনও এ ধরনের কার্যক্রম, বা লজ্জ্বাজনক ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমরা কার কাছে গিয়ে দাড়াবো?কে করবেন এই অন‍্যায়ের প্রতিবাদ?তবে এর প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করতে নারীদের পাশাপাশি কেউ আসুক বা না আসুক দেশের সরকারকে সহায়তার জন্য অবশ্যই সাথে থাকবেন বিশ্বের কাছ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুস্কার পাওয়া এনজিও ব্র্যাক।যার অংঙ্গিকার হলো নারীরা আর থাকবেনা অসহায় ও পথেঘাটে হবেনা নির্যাতিত” তাই ব্র্যাক ও ব্র্যাক বিআইজিডি” থাকবে সবসময় নারীদের সন্মান রক্ষায় ও নারীদের যৌন হয়রানি রোধে একত্রিত।আরো থাকবে ব্র্যাকের কঠোর আইন ব‍্যবস্থা এবং নিরাপত্তা মূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচির ব‍্যবস্থা।

নারীদের সন্মান রক্ষায় আজ ব্র্যাক বিভিন্ন ভাবে লিখে যাচ্ছেন নির্ভয়ে আমাদের নারীদের মর্যাদা রক্ষার কথা।যার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই ব্র্যাকের জেন্ডার জাষ্টিকস ও যৌন হয়রানি নামের একটি প্রোগ্ৰামের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সফলতার সঠিক কার্যক্রম ও ফলাফলে।তবে নারীদের যৌন হয়রানি রোধের পাশাপাশি নারীদেরকে পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে ও ব‍্যাপক উন্নতি ঘটাতে হবে বলে আমি মনে করছি।আমাদের বাংলাদেশে নারীরা এখনও পিছিয়ে আছেন এই দুটি বিষয়ে অনেক বেশি,এর বিরুদ্ধে কিছুটা মোকাবেলা করে আসছেন বিশ্বের সবচাইতে বড় এনজিও ব্র্যাক, ব্র্যাকের জেন্ডার জাষ্ঠিসক প্রোগ্রাম ও ব্র্যাক (বিআইজিডি)র বিশেষ গবেষণা টিম।যাদের বিভিন্ন গবেষণায় ও বিভিন্ন মহৎত্তের কথা আমি লিখে শেষ করতে পারবোনা কখনও, তবুও লিখতে হবে কিছু কথামালা, বের করতে হবে সঠিক ফলাফলের সূত্র। যা ব্র্যাকের বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে বের করা সম্ভব।তবে আমাদেরদেশে গণপরিবহনে যাতায়াতকালে প্রায় শতকরা বেশিরভাগ ভাগ নারীরাই বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যে সকল নারীরা সড়ক পথে যাতায়াতের সময় যাদের জন্য যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাদের মধ্যে যে সকল পুরুষের কথা গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে সে সকল পুরুষের বেশিরভাগ পুরুষদের বয়স তুলনামূলক ভাবে একটু বেশিই।

তবে সৎ ইচ্ছা থাকলে আমাদেরদেশের আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা কিছুটা হলেও এই যৌন হয়রানি রোধ করতে সক্ষমতা পেতে পারি।কিন্তু আমাদের মধ্যে কিছু দূর্বলতা আছে বলেই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন আমাদের দেশের মা বোনেরা (নারীরা)।প্রায় সময় দেখা গিয়েছে যে বাসে অতিরিক্ত ভিড়ই হলো এই যৌন হয়রানির মূল কারণ, কেননা যাতায়াত পথে যাত্রীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে যাতায়াত ব‍্যাবস্থার সুযোগ পাননা তারা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কোনো গাড়ি পেয়ে থাকেন না,দাড়িয়ে থাকতে হয়,ঘন্টার পর ঘন্টা, যদিও কখনও দু একটি গাড়ি পাওয়া যায় তাতেও থাকে অনেক ভিড়,তবুও ঐ ভিড়কে উপেক্ষা করে হলেও যেতে হয়,নারীদের নিজ গন্তব্যে আর এই সুযোগটা কাছে লাগিয়ে থাকেন কিছু আসৎ পুরুষেরা, এই পুরুষদের মধ্যে বেশিরভাগ থাকেন গাড়ির হেলপার, ও কন্টেন্টেরদের সাথে কিছু অসৎ মানুষের খারাপ সম্পর্ক ।

আমাদের দেশের মধ্যে কোনো ধরনের গাড়িতেই তেমন ভাবে নেই কোনো ধরণের সিসি ক‍্যামেরার ব‍্যবস্থা যার কারণে অনায়াসে নারীদের হতে হয় পাষন্ডদের হাতে লাঞ্ছিত ও যৌন হয়রানির শিকার, দিতে হয়ে থাকে অকালে অনেক নারীদেরকে প্রাণ।এভাবে আর কতকাল চলবে এই অন‍্যায়-অত‍্যাচার?এর কি কোনো সমাধান হবেনা কখনোই? আমরা অনেকেই আছি যে অনেক সময় এই ধরণের অন‍্যায় দেখেও আমাদের মুখ বন্ধ করে রাখি,চোখ বন্ধ করে থাকি, শুধুমাত্র কি আমাদের জীবনের ভয়ে?তাহলে নারীদের জীবন কি জীবন নয়?তারা তো আমাদের‌ মতো সকল পুরুষের জন্মধারনী, তবে কেনো আমরা সঠিকভাবে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে অথবাঐ সকল পুরুষের বিরুদ্ধ প্রতিকার ও প্রতিবাদ করতে পারছিনা?আমাদের তাহলে কোথায় সমস্যা?হ‍্যা অবশ্য সমস্যা আছে,হয়তোবা কোনো ধরণের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনদের ভয়ে, হয়তোবা এই ধরণের খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন কিছু উচ্চ পর্যায়ের বখাটে ছেলেরা ?এটাই হয়তোবা আমাদের বড় ধরণের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে সমাজের মধ্যে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এবং মাঝে মধ্যে এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিছিল ও মিটিং করে থাকি, প্রতিকার করতে কিন্তু হঠাৎই যেনো আমরা, আবার থেমে যাই সহযেই।

কিন্তু এভাবে যদি আমরা থেমে থাকি তাহলে যে আমাদের দেশের মধ্যে এক সময়ে বড় আকারে দেখা দিবে বিভিন্ন ধরণের হাঙ্গামা, মারামারি, কাটাকাটি, ইত্যাদি।এসব ঘটনা হওয়ার আগেই আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে, সরকারের কাছে গিয়ে আমাদেরকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করতে হবে, প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা বাড়াতে সরকারকে বলতে হবে।বাংলাদেশ ব্র্যাকের জেন্ডার জাষ্টিকস বিভাগ ও ব্র্যাক (বিআইজিডি)র মধ্যে নারী সমাজের প্রতি যে সচেতনতা ও প্রতিকার রোধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সেমিনার মিটিং ও আন্তজার্তিক পর্যায়ে যে সভা দেখা যায় তাতে অবশ্যই আমাদের দেশের নারীরা একদিন যৌন হয়রানির মধ্যে পড়বেনা বলে আমি মনে করছি।ব্র্যাকের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে নারীদের যৌন হয়রানি ও পোশাক শিল্পের মধ্যে নারীদেরকে অবমূল্যায়ন ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন সেমিনার,মিটিং ও সভার ব‍্যবস্থা প্রতিনিয়ত ভাবেই হয়ে যাচ্ছে, যাতে করে আমাদের বাংলাদেশের নারী সমাজ এক সময়ে গঠিত হবে শক্তিশালী রূপে।বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় যে নারীরা যাতায়াতের সময় কিংবা পোশাক শিল্পে তাদের কাজের ক্ষেত্রে কিছু পুরুষের বিভিন্ন কলাকৌশলের ফাঁদে পা ফেলছেন এবং পরছেন তখনই যৌনতার শিকার হচ্ছেন নারীরা।ঐ সকল পুরুষের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে একদিন আমাদের নারীরা।

নারীরাই রুখবে নারীদের সন্মান।আমাদের প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে হলেও নারীদের নির্যাতনের হাত থেকে রুখে দাড়াতে হবে। কেননা নারীরা হলেন আমাদের মা ও বোন।তাদের ইজ্জ্বত ফিরিয়ে দিতে হবে আমাদেরকে।মাঝে মধ্যেই ঢাকার প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাবে দেখাযায় ব্র্যাকের জেন্ডার জাষ্টিকস প্রোগ্রাম এবং ব্র্যাক (বিআইজিডি’)র যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান, যে সকল অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ বিষয় থাকে ‘নারীদের বিভিন্ন নিরাপত্তা মূলক বিষয়, যেমন, “আর যেন না হয়,যানবাহনের মধ্যে নারীরা নির্যাতিত, আর যেন কোনো পোশাক শিল্পের কিংবা অন‍্য কোনো কর্মক্ষেত্রের মধ্যে নারীরা অবহেলিত হয়ে পড়ে না থাকে। নারীরা যেন সবসময় সঠিক মজুরি পেতে পারেন সেই বিষয়ে আমাদের সর্তক থাকতে হবে।কখনও যেন নারীরা কম মজুরি না পেয়ে থাকেন।

প্রতি বছর ব্র্যাকের জেন্ডার, জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচি ও ব্র্যাক বিআইজিডি’র উদ্যোগে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের সন্মান ও মূল‍্যায়ন করতেই বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন ও অংশ গ্ৰহণ করে থাকেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। ব্র্যাক ছাড়াও নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান আছে যে সকল প্রতিষ্ঠান ও নারীদের সন্মান রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন । তবে সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবসময় বাংলাদেশ ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস ও ব্র্যাক (বিআইজিডি”)র কর্মসূচি থাকে বেশি লক্ষণীয়।তবে নারীদেরকে যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষায় আমাদের প্রত‍্যেকেরই আরো কঠোর ও সচেতনতা মূলক পদক্ষেপ নিতে হবে আর সবসময় সাহসের সাথেই পথ চলতে হবে। পথেঘাটে যাহাতে আর কোনো নারীরা নিরাপত্তার অভাবে যানবাহনের মধ্যে ও পোষাক শিল্পের মধ্যে যেন কখনও যৌন হয়রানির শিকার না হয়।তাই আমাদের সরকারকে আরো কঠোর ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে, প্রশাসনিক ভাবে জোরদার বাড়াতে হবে।এই বিষয়ে বিশেষ ভাবে আমাদের কারোনা কারো এগিয়ে যেতে হবে সরকারের নিকটবর্তী যে কিভাবে সরকার আরও ভালো ও সঠিক পদক্ষেপের ব‍্যবস্থা গ্ৰহণ করতে পারেন নারীদের নিরাপত্তার জন্য।এবং সিকিউরিটির ও সঠিক ব‍্যবস্থা নিতে হবে। নারীদের প্রতি এতোটা সহনশীলতা প্রকাশ শুধুমাত্র ব্র্যাকের বিভিন্ন বিভাগ বা কর্মসূচি একটু বেশি করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।ব্র্যাক সবসময় অনড় ও নিভির ভাবে নারী সমাজের প্রতি সুদৃষ্টি দিবে এটাই ব্র্যাকের অঙ্গীকার।

লেখক ;
সাংবাদিক মো:ফিরোজ খান
জেলা, ঢাকা, বাংলাদেশ

Top