নারীদেরকে কাজের মূল্যায়ন করতে হবে,তবেই নারীরা নির্যাতনের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন।

20190209_184456.jpg

———————————-
নারীদের মধ্যে বিশেষ করে যে সকল নারীরা তাদের গৃহিণী হয়ে স্বামীর সংসারে কাজ করে তারা কতটুকু তাঁদের কাজের শ্রমের প্রাপ্য,মর্যাদা বা মুল্য পাচ্ছেন?আমরা যতটুকু দেখে আসছি সেই হিসেবে নারীরা আজও তাদের সঠিক মর্যাদা বা মূল‍্যায়ন এখনও পাচ্ছেন ‘না’৷ আমাদের অবশ্যই নারীদের গৃহের কাজের সাথে সাথে অন‍্য সকল কাজের মূল্যায়ন করতে হবে যাতে করে নারীরা ধীরে ধীরে তাদের সঠিক মূল‍্যায়ন পেয়ে তাদের সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারে। নারীরা আরো দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবেন তাদের কর্মের মাধ্যমে যদি আমরা নারীদের প্রতি সঠিকভাবে মূল‍্যায়ন করতে পারি,কেননা নারীরা আজকের সমাজে পিছিয়ে নেই নারীরা তাদের কাজকর্মের মাধ্যমে আজকে অনেক দূরএগিয়ে আছেন।আমরা আশা করি আরো ভালো ভাবে সমাজের মধ্যে নানা কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারবেন।আমাদের মধ্যে বসবাস করা অনেকের মনে নারীদেরকে নিয়ে নানা ধরণের প্রশ্ন জাগতে পারে,ধরুন একটা প্রশ্ন এভাবে জাগতে পারে যে,নারীরা আমাদের গৃহের মধ্যে যে সকল কাজ করে থাকেন তারা কি তাদের কাজের কোনো মূল্য পেয়ে থাকেন? আসলে মূল্য অনেক ভাবে পেতে পারেন কিন্তু আমরা ই সঠিক ভাবে নারীদেরকে মূল্যায়ন করে থাকিনা অথবা তাদের কাজকে তুচ্ছ ভেবেই মূল‍্যায়ন করা হয় না৷ একজন নারী গৃহের মধ্যে যে কাজ করেন, সেটা তিনি না করলেও অন্য কাউকে দিয়ে সেই কাজ করাতে হতো৷ তখন অন‍্যকে অবশ্যই একটা পারিশ্রমিক দিতে হতো৷ যেহেতু নারীরা নিজেদের গৃহের মধ্যে কাজ করেন, তাই ভেবেই এটার মূল্য হয়তোবা ধরা হয় না এবং আমরা ধরে থাকিনা৷ তবে অবশ্যই নারীদের কাজের একটা মূল্য আছে এবং নারীদের মূল্য দিতে হয় কিন্তু আমরা অথবা আমাদের সমাজ নারীদেরকে অবহেলার চোখে দেখে বলেই নারীদের কাজের মূল‍্য দেওয়া হয়না অথবা মূল্যায়ন করা হয় না, নারীদেরকে তাদের কাজের স্বীকৃতি দেয়া হয় না।আমরা মনে করি তাদের কাজের কোনো মূল‍্য নেই, তারা স্বামীর সংসারে এসেছে শুধুমাত্র এই সকল কাজের জন্য, এটাই আমরা অথবা আমাদের সমাজ মনে করে থাকেন। ৷আসলেই এটাই সত্য ও সঠিক কথা।এভাবেই নারীদের সবসময় অবহেলিত ভেবেই তাদের মর্যাদার সঠিক মূল‍্যায়ন আজও আমাদের সমাজে আমরা দিতে পারিনি।

সাধারণ যে কোনো কাজের একটা পারিশ্রমিক মূল‍্য থাকে৷ কিন্তু নারীদের গৃহের কাজের কোনো মূল্য নির্ধারণ করা নেই, তাই নারীদের গৃহের কাজকে কখনও মূল্যায়ন করা হয় না,এছাড়াও নারীদের গৃহের কাজের মূল‍্যায়ন নিয়ে অনেকেই বলে থাকেন,এটা নারীদের নিজের গৃহের কাজ, ফলে তারা মনে করেন এ ধরণের কাজের কোনো মূল্য নেই, এবং মূল‍্য দেয়া যেতে পারেনা কখনও।সমাজ কিভাবে দেখেন নারীদের গৃহের কাজকর্ম?নারীরা শুধু গৃহের মধ্যে কাজ করেন না,অনেক কলকারখানায় বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল কাজও করেন,আমাদের নারী সমাজ৷ কিন্তু আমরা সবসময় মনে করি সংসারের সকল কাজই নারীদের কাজ তাই সংসারের সকল কাজ নারীদের করতে হবে।একই দৃষ্টিতে আমাদের সমাজও নারীদেরকে ঠিক এভাবেই দেখে থাকেন।আমাদের সমাজের বিভিন্ন ধরণের লোকজন মনে করেন, নারীরা শুধুমাত্র সংসার দেখবেন,সন্তান সামলাবেন–এটাই নারীদের কাজ ৷ এর বাইরেও যে নারীদেরকে অনেক কাজ করতে হয়ে থাকে তা আমরা আমাদের গ্ৰামের পরিবারের মধ্যে একটু লক্ষ্য রাখলেই দেখতে পারি,গ্রামের নারীরা বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে আছেন যেমন, গবাদি পশু দেখেন, বীজ সংরক্ষণ করেন,জমিতে অনেক সময় বীজ লাগিয়ে থাকেন, বিভিন্ন বাজারে নারীদেরকে দোকান ও চালাতে দেখা যায়। এমন হাজারো কাজ করে থাকেন বিভিন্ন নারীরা৷ তবে এ সকল কাজের কোনো মূল্য নির্ধারণ করা নেই নারীদের জন্য। তাই সমাজও মনে করেন যে, এ সকল কাজ নারীদের জন্য মূল্যহীন কাজ৷তবে কখনও এ সকল কাজকে আমাদের সমাজের চোখে নারীদেরকে কখনও মর্যাদার চোখে দেখেননা।তাই আমরা যেন সবসময় নারীদের সকল কাজকর্মকে মূল‍্যায়ন করি এবং সকল ধরণের কাজকে মর্যাদার চোখে দেখি।তবেই নারীঊ তাদের সঠিক মূল‍্যায়ন পাবেন।

সব কাজেরই তো মূল্য আছে৷ তাই নারীদের গৃহের কাজের একটা মূল্য নির্ধারণ করা দরকার বলে আমরা মনে করতে পারি, এছাড়াও নারীদের গৃহের কাজের একটা গবেষণায় দেখা যায় নারীদের অস্বীকৃত কাজের মূল্য কতটুকু ছিলো? আর এই বিষয়ে নারীদের কাজের মূল্য নিয়ে,তাদের সঠিক মূল‍্যায়ন পেতে নারীদের কাজের অংশকে (জিডিপিতে) ঢোকানো দরকার৷ (জিডিপিতে) যদি না নেয়া হয়, তাহলেও এর একটা মূল্য আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে নির্ধারণ করে দেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন আছে।নারীদের গৃহের মধ্যে কাজের বিষয়ে নতুন ভাবে একটি গবেষণায় নতুন কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।গবেষণায় উল্লেখ করা ছিলো,যে, একজন নারী যদি গৃহের মধ্যে এই কাজ না করতেন, তাহলে অবশ্যই অন্য কাউকে দিয়ে কাজটা করাতে হতো৷ তখন সেই কাজের মূল্য কত হতো? এই বিষয়ে (জিপিডি) ১৭ হাজার নারীদের উপর একটা গবেষণা করে দেখেছেন সেখানে দেখা যায় যে,বাংলাদেশের নারীরা গৃহের মধ্যে কাজ করে কতটুকু মূল্য পেয়ে থাকেন, আর গৃহের মধ্যে কাজ না করে কতটুকু মূল্য পান না, এই বিষয়ে হিসাব করে দেখা যায়,ঘরের কাজের জন্য বাইরের কাজের সমপরিমাণ মূল্য যদি নারীদের দেয়া হতো তাহলে তিনগুণ মূল্য পেতেন নারীরা৷সত্যিই উক্ত গবেষণায় যে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে তা অবশ্যই সঠিক বলেই প্রযোজ্য বলে মনে করি আমাদের নারী সমাজের জন্য।

আমাদের পরিবারের মধ্যে বসবাসরত অন্য কোনো সদস্য যদি ঘরের কোনো কাজ করেন, তখন বলা হয়ে থাকে নারীদেরকে উদ্দেশ্য করেই যে,আমরা‘তোমার কাজ করে দিলাম৷’ তার মানে, তিনি মনে করেন না যে ‘এটাও তার কাজ’৷ তিনি মনে করেন, এটা বাড়ির মেয়েদের বা বউয়ের কাজ৷ পরিবারের সদস্যরা যদি এটাকে সহজলভ্য ভাবে মনে করতেন,যে না, যে কোনো কাজই পরিবারের সকলের হতে পারে, যে কোনো কাজ পরিবারের সকলেই করতে পারেন, শুধুমাত্র নারীরাই করবেন এমন ভাবনাকে মন থেকে মুছে ফেলতে হবে আমাদের সকলকেই। ‘তাই যে কোনো কাজকে আমাদের কাজ’ মনে করতে হবে তাহলে নারীদের জন্য এটা বোঝা হবেনা । আর বাড়তি কাজ বলেও কখনও মনে হবেনা।

বিভিন্ন ভাবে ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ করে এবং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে,এক সপ্তাহে যদি একজন চিকিৎসক ৫৬ ঘণ্টা কাজ করেন আর,তার বিনিময়ে যদি তিনি প্রতি মাসে ১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার আয় করে থাকেন তাহলে সেই হিসাব অনুযায়ী,আমাদের গৃহিণীরা/নারীরা যদি সপ্তাহে প্রায় ৯৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন এবং এই হিসেবে একজন নারীর এক বছরের হিসেবে দেখা যাবে যে একজন নারীর কত বেতন হতো বা হওয়া উচিত ছিলো?তবে এভাবে কি কখনও আমরা ভেবে দেখেছি? অবশ্যই আমরা ভাবতে সময় পাইনি!কিন্তু এর হিসেব একটি প্রতিষ্টান করেছেন যার নাম হলো”স্যালারি ডট কম”তাদের এই প্রতিষ্ঠানের একটি দল এই বিষয়ে গবেষণা করে দেখেছেন,যে,একজন গৃহিণী যদি দৈনিক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসারের বিভিন্ন কাজের বাইরে থেকেও সপ্তাহে নারীরা যতটুকু অতিরিক্ত কাজ করে থাকেন তার মধ্যে ৫৮ ঘণ্টাই খেটে থাকেন বিণা ভাবে অথবা বিণা পারিশ্রমিক না নিয়েই। এভাবে হিসেব করলে দেখা যাবে তাদের প্রত‍্যেকের বাড়তি বেতন হওয়া উচিত ছিলো প্রতি বছরে ৬৭,৪৩৬ মার্কিন ডলার৷আমরা কি কখনও এতোটা গভীর ভাবে নারীদেরকে নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখেছি?হয়তোবা দেখতে পারিনি!! তবে সকল সচেতন পুরুষদের একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন,কেননা তারাই তো আমাদের মা,অথবা বোন । এছাড়াও বর্তমানে নারীরা শিক্ষা দীক্ষায় ও অনেক এগিয়ে আছেন।তাদের অবহেলিত চোখে না দেখে তাদের প্রতি আমাদের সঠিক দৃষ্টি ও মূল‍্যায়ন রেখে নারীদের সবদিকের বিবেচনা করে নারীদেরকে তাদের কাজে কর্মের মধ্যে এগিয়ে যেতে আমাদেরকে অবশ্যই মূল‍্যায়ন করতে হবে।আমরা একটা বিষয়ে লক্ষ্য রেখে দেখতে পারি, যে, নারীরা আমাদের গৃহে কত ঘন্টা ব‍্যয় করেন নারীরা রান্না করার কাজে?তবে এই বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ফুটে উঠেছে একটি সঠিক তথ্য, যে একজন গৃহিণীকে সপ্তাহে কমপক্ষে ১৪ ঘণ্টা রান্না করার কাজে ব‍্যায় করতে হয়৷ এছাড়াও ঘণ্টায় ৯ দশমিক০৩ মার্কিন ডলার।বছরের হিসেবে দেখা যাবে কেবল মাত্র রান্না করেই একজন নারী তার গৃহের মধ্যে আয় করতে পারেন ৫,৫৬০ মার্কিন ডলার৷সত্যিই এভাবেই যদি আমরা একটু লক্ষ্য রাখি তাহলে অবশ্যই আমাদের নারীদের মূল‍্যায়ন করতে হবে সবদিক থেকেই।

একটি কথা বলা যেতে পারে যে,আমাদের গৃহের মধ্যে যে ভাবে নারীদেরকে নির্যাতন করা হয়ে থাকে, সেই নির্যাতনের ক্ষেত্রে কাদের ভূমিকা বেশি? আমাদের চোখে বিভিন্ন সময়ে পরে কারা নারীদেরকে এই নির্যাতন করে থাকেন?আমার মতে এক্ষেত্রে অবশ্যই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন পরিবারের সদস্যরা, তবে স্বামীরা ই বেশি দোষী বলে আমি বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন সেমিনারে, ও সভায়, পত্র পত্রিকায়, ও বিভিন্ন রিপোর্টে দেখতে পেয়েছি। পরিবার থেকে যদি পরিবারের সকলেই বুঝতে পারতেন, যে নারীদের মূল্য কতটুকু আমাদের পরিবারের মধ্যে, তাহলে অবশ্যই সম্মানের চোখে দেখতেন নারীদেরকে৷ তবে আমার বিশ্বাস, খুব তাড়াতাড়ি নারীদের প্রতি যে সহিংসতা চলছে তা অবশ্যই কমবে৷ এখানে পরিবারের পাশাপাশি আমাদের দেশের ও সমাজের লোকদেরকে রাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে একটা কঠিন পদক্ষেপ অথবা দায়িত্ব নিতে হবে, আর যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তাদেরকে অবশ্যই সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।৷

আমাদের সমাজে চাকরি করা নারীদেরও থাকে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি সমস্যা। কেননা তাঁদেরকে বাসার সকল কাজ সামলেই আবার অফিসে যেতে হয়৷ এবং সেখানে কাজ করতে হয় নিয়মিত ভাবেই৷ নবাগত সন্তানদেরকে ও সামলানোর দায়িত্বও কিন্তু তাঁদের কাঁধে৷ এ জন্য আমরা মনে করি অথবা অনেক সময় বলে থাকি, স্বামী যদি স্ত্রীর সঙ্গে কিছুটা কাজ ভাগাভাগি করে নেন, তাহলে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক কমে যাবে৷
আসুন আমরা যেন নারীদের সহনোভুতি না দেখিয়ে তাদেরকে মূল‍্যায়ন করি কেননা তারা বিয়ের আগেও বাবার বাড়িতে মায়ের সাথেও যথাযথ ভাবে সাংসারিক কাজে সহায়তা করেন, তাই আমরা যদি আমাদের স্বামীদের বাড়িতেও একই ভাবে সাংসারিক কাজের মধ্যে চাপ দিয়ে থাকি তাহলে তারা সত্যিই খুব অসহায় বোধ করে থাকেন।তাই আর কেউ না বুঝুক আমরা স্বামীরা তো আমাদের স্ত্রীদের চিনে থাকি তাই তাদেরকে বন্ধুদের মতোই ভেবে তাদের কিছুটা কাজের দায়িত্ব আমরা নিতে পারলে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক টা কমে যাবে।

বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় আমাদের বাংলাদেশে অনেক নারীদেরকে গৃহ নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় এবং নারীরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়ে থাকেন? অনেক সময় আমাদের সমাজের বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে দেখা যায়, যৌতুকের কারণে,বিভিন্ন ভাবে নারীদের দোষারোপ করে,বিভিন্ন কলাকৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে উত্যাক্ত ও নির্যাতন করে থাকেন অনেক স্বামীরা,যার কারণে অনেক নারীরা আছেন যে বাবার বাড়ি থেকেও কোনো ধরণের টাকা পয়সা আনতে পারেনা, কেননা বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো থাকেনা।তাই অনেক নারী বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকেন৷ তবে গৃহনির্যাতনের কারণে কতভাগ নারী আত্মহত্যা করে থাকেন তার সঠিক তথ্য এখনও আমি বলতে পারছিনা।আমাদের সেই আগের যুগে পরে থাকলে চলবেনা, কেননা নারী সমাজ আজ সেই আগের দিনে পরে নেই, তারা সবদিক থেকে আজ পুরুষদের চেঁয়ে কোনো অংশে কম নেই, শিক্ষা, কর্ম,সামাজিক মূল‍্যবোধ বিভিন্ন বিষয়ে এগিয়ে আছেন, আমাদের সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সবসময় ভালো উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।

আমরা সবসময় একটা স্লোগান মনে রাখবো,
আর নয়,নারী নির্যাতন; এবার হবে নারীদের মূল‍্যায়ন”।আমরা সবসময় নারীদের সমতা রক্ষায় ও তাদের‘মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখবো’৷ আমরা মনে করি, নারীদেরকে যদি মর্যাদা,ও মূল‍্যায়ন করি এবং নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে ব‍্যবস্তা নিতে পারি তাহলে অবশ্যই তাদের প্রতি, অবহেলা, নির্যাতন, অবমাননা, হয়রানি, কটুক্তি মনোভাব, সহিংসতা ইত‍্যাদি কমে আসবে। আমাদের সমাজের মধ্যে।আপনি যে নারীকে সম্মান দেন, নিশ্চয়ই তাঁকে আপনি নির্যাতন করবেন না৷কেননা নারীরা আমাদের মা,বোন তাদেরকে যদি আমরা সবসময় সন্মানিত করি এবং সন্মানের চোখে দেখি তাহলে অবশ্যই নারীদের মূল‍্যায়ন ও মূল‍্যবোধ বৃদ্ধি পাবে। আমরা যেন কখনও নারীদেরকে অপমান না করি, নারীদের সম্মান আমাদের সমাজে,দেশে, ও রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমাগত ভাবে বৃদ্ধি পাবে৷আর কীভাবে বাড়াতে হবে?সেই দায়িত্ব আমাদের সকলকেই নিতে হবে।

সুন্দর ব‍্যাবস্থা বা পদক্ষেপ আমাদেরকে নিতে হবে এই সমাজের মধ্যে একত্রিত হয়ে আমরা নারীদের প্রতি অবমাননা, নির্যাতন কমানোর চেষ্টা করবো,আমাদের অবশ্যই করতে হবে, যেখানেই দেখবো নারীদের প্রতি নির্যাতন হচ্ছে সেখানেই গড়ে তুলবো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আর এই বিষয়ে অবশ্যই আমাদের বর্তমানের সরকার আমাদের পাশে থাকবেন এবং নারীদের মূল‍্যায়ন করতে জনসাধারণের সাথে একমত পোষণ করবেন।আমরা একটি কথা যদি মনে করি,সবসময় তাহলে হয়তোবা নারীদের প্রতি আমাদের পুরুষের একটি ভালো মনোভাব আসবে।আমরা নারীদেরকে মূল‍্যায়ন করবো সবসময় এই মনোভাব নিয়ে আমরা পথ চলবো।আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের পুরুষদের জন্ম হয়েছে এই নারীদের মাধ্যমে, তবেই আমরা পারবো তাদের প্রতি নির্যাতন রোধ করতে।নারীদের মর্যাদার কথা সয়ং আল্লাহ তাআলা কোরআন শরীরের মধ্যে উল্লেখ করে দিয়েছেন যে,মহান আল্লাহর পরেই এই নারীদেরকে বেশি মর্যাদা দিতে কেননা নারীদের গর্ভে আমাদের পুরুষদের জন্ম হয়েছে। তাদের বহুমুখী অবদান আছে ইতিহাসের পাতায়,নারীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন বিষয়ে,আমাদেরকে স্বীকৃতি দিতে হবে, নারীদেরকে সবসময় সম্মান করতে হবে,নারীদেরকে সবসময় মূল্যায়ন করতে হবে৷তাহলে আমাদের সমাজ থেকে অচিরেই নারীদের প্রতি যে অবমূল্যায়ন ,নির্যাতন,চলে আসছে সেই নির্যাতন ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।আমরা সবসময় আমাদের পরিবারের মধ্যে যারা নারীদেরকে অবহেলার চোখে দেখে আসছি সেই দৃষ্টি বন্ধ করতে হবে এভাবে আরো অনেক বিষয়ে আছে যা আমাদের মন থেকে ধুঁয়ে মুছে ফেলতে হবে তাহলেই চিরতরে একদিন এই সমাজের ও দেশের বুক থেকে নারীদের নির্যাতন বন্ধ হবে।তখনই নারীদের চোখে মুখে ফুটে উঠবে হাসি,তারা থাকবে সুখে শান্তিতে এই পৃথিবীতে।

সাংবাদিক ও লেখক
মো:ফিরোজ খান
ঢাকা, বাংলাদেশ

Top