হাটহাজারীতে লাখো মুসল্লীর অংশগ্রহণে দাওয়াতে খাইর ইজতিমা সম্পন্ন

51682642_302462623792468_6771771731834044416_n-1.jpg

জাবেদ হাসনাত,চট্টগ্রাম :
হাটহাজারী ফতেয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভের আশায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দুই হাত তুলে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন, ছুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি জুমাবার দাওয়াতে খায়র ইজতিমা শেষ হয়েছে। মুনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি, কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি, ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তি এবং বিশুদ্ধ আক্বীদা চর্চাসহ পবিত্র আমলী যিন্দেগী অর্জনের তৌফিক কামনা করা হয়।

আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদক, লেখক-গবেষক আল্লামা এম এ মান্নানের পরিচালনায় মুনাজাতে জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তি, আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুণাহ মাফের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ইজতিমায় যিকির, পবিত্র কোরআন ও হাদীসের তাফসীর, জুমার বয়ান ও নামায আদায়, বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় ইসলামী মাসায়ালা-মাসায়েল হাতে-কলমে শিক্ষাদানসহ নির্ধারিত আটটি বিষয়ের উপর বয়ান করা হয়। জুমার বয়ানে বলা হয় বর্তমানে অবাধ ইন্টারনেট সুবিধা, বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও ধর্মীয় অপব্যাখার দরুণ তরুণ প্রজন্ম মাদক, জঙ্গিবাদসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে।

বয়ানে, দেশ ও মাজহাব-মিল্লাতের স্বার্থে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে জীবনগ্রাসী মাদক, জঙ্গিবাদ ও অপসংস্কৃতির কবল থেকে রক্ষায় ইসলামী ভাবাদর্শে উজ্জ্বীবিত করার আহবান জানানো হয়।
বয়ানে আরো বলা হয়, বিশুদ্ধ আক্বীদা চর্চা ও আমলের পবিত্রতা মানুষকে ইনসানে কামেল তথা পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে। কোরআন-সুন্নাহর সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ অনুসরণের মাধ্যমে আক্বীদার বিশুদ্ধতা যেমন নিশ্চিত হয় ঠিক তেমনি মাজহাবের ইমামদের দেখানো পথে মতে বিশ্বাস ও কর্মের মাধ্যমে আমলের পবিত্রতা অর্জিত হয়। মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিতেই দাওয়াতে খায়র ইজতিমার প্রচলন বলে বয়ানে বক্তারা উল্লেখ করেন।
দাওয়াতে খায়র ইজতিমা’য় দেশের শীর্ষস্থানীয় মুয়াল্লিমগন বর্তমান ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয় রোধে এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে ব্যক্তিজীবনে খোদাভীতি অর্জন ও ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার উপর জোর তাগিদ প্রদান করেন। তাঁরা বলেন, আল্লাহর ভয় না থাকলে মানুষ যে কোন অন্যায় জুলুম অনাচার করতে পারে। আজ মাদকের যে ভয়াবহতা এবং জঙ্গীবাদ এর পেছনে মূলত খোদাভীতি এবং ইসলামের সঠিক আক্বিদা ও চিন্তাধারার অভাব। তাই ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে সঠিক ইসলামি অনুশীলন জরুরি,। বিশেষত ত্বাকওয়াহীন, শুধু লোক দেখানো ধর্মকর্ম পালনকারীরা কখনো কল্যানকর হতে পারেনা, তাই দরকার ইখলাস ও নিয়্যতের বিশুদ্ধতা সহ ইসলামের সঠিক অনুশীলন। দাওয়াতে খায়র ইজতিমা পরিচালনা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ইজতিমার সার্বিক পরিচালনা, জুমার খেতাবত ও আখেরী মুনাজাত করেন আল্লামা এম এ মান্নান। দাওয়াতে খায়রের কেন্দ্রিয় মুয়াল্লিম মৌলানা ইমরান হোসাইন, ইজতিমা কমিটির সচিব মৌলানা সালামত আলী ও মৌলানা আবদুল মালেকের যৌথ সঞ্চালনায় ইজতিমায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দেও মধ্যে আলহাজ মোহাম্মদ মহসীন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ¦ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, আলহাজ¦ মুহাম্মদ শামসুদ্দীন, আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন শাকের। নির্ধারিত বিষয়ে তা’লিম দেন অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ অসিয়র রহমান, উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, শাইখুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান আনসারী, মুফতি মাওলানা আবদুল ওয়াজেদ, মাওলানা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফি, উপাধ্যক্ষ মাওলানা জুলফিকার আলি, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাসেম ফজলুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ জালালুদ্দিন আল আজহারী। আক্বাইদের গুরুত্ব নিয়ে ছোবাহানিয়া আলীয়া কামিল মাদরাসার শায়খুল হাদীস আল্লামা কাযী মঈনুদ্দীন আশরাফী বলেন, ঈমান ও আক্বাইদই হচ্ছে ইসলামী যিন্দিগীর মূল বিষয়। কেননা যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাসী নয় এবং নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত মুবারক ও রিসালত মুবারকের উপর যার ঈমান নেই তার নামায, রোযা, হজ¦, যাকাত ইত্যাদি কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য নয়। ইবাদত পালন ও কবুল হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ ঈমান ও আক্বীদা। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার মুহাদ্দিস আল্লামা সোলাইমান আনসারী হাদীস শরীফের তাৎপর্য বর্ণনায় বলেন, ইসলামী জীবন বিধান তত্ত¡ ও তথ্যগতভাবে দুটি মৌলিক বুনিয়াদের উপর স্থাপিত। একটি পবিত্র কুরআন, অপরটি রাসূলের সুন্নাহ বা হাদীস। আল্লাহর বাণী আল-কুরআন ইসলামের একটি কাঠামো উপস্থাপন করে আর রাসূলের হাদীস সেই কাঠামোর উপর একটি পূর্ণাঙ্গ ইমারত গড়ে তোলে। তাই ইসলামী জীবন বিধানে পবিত্র কুরআনের পরই রাসূলের হাদীসের স্থান। হাদীসেই ইসলামী জীবন-বিধানের বিস্তৃত রূপরেখার প্রতিফলন ঘটেছে। এ কারণে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও মর্ম উপলব্ধি এবং তদনুসারে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের জন্য হাদীসের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার প্রধান ফকীহ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ বলেন, মুসলমান মাত্রই ইসলামী শরীয়তের সকল বিধি বিধান পালন করতে হবে। এটা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ। কোরআন হাদীসের সঠিক মর্ম উদঘাটন করা বা শরীয়তের সকল বিধান বুঝে নেয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য কোরআন হাদীসকে সঠিকভাবে জানার জন্য ইসলামের বিধিবিধানকে পরিস্কারভাবে জানার জন্য ইলমে শরীয়ত ও ইলমে তাসাউফে অগাধ পান্ডিত্যের আধিকারী মুজতাহিদ আলেমের দ্বারস্থ হতে হবে। মুজতাহিদ উলামায়ে কেরামের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট হচ্ছেন- চার মাজহাবের চার ইমাম। অর্থাৎ শরীয়তের বিধানাবলীকে সঠিকভাবে উপলব্দি করার জন্য চার মাজহাবের যে কোন ইমামের অনুসরণ করতেই হবে। মাযহাব অনুসরণের বিষয়টি কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও যারা মাজহাব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারন মুসলমানদের ঈমানহারা করতে চান তাদের ব্যাপারে তিনি সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দেন। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, নামাজের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠানো সুন্নাত ৤

Top