যশোর আদালতে আত্মসমর্পণের হিড়িক : বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলা

-768x461.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ঃ
নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় যশোর আদালতে আত্মসমর্পণের হিড়িক পড়েছে। এই মামলায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরাই আত্মসমর্পন করছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। গত ৫দিনেই অন্তত তিন শতাধিক আসামি আত্মসমর্পন করেছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার আত্মসমর্পন করেছেন ১৪০ জন। নির্বাচনের আগে জামিন পাওয়া যাবে না এমন আশংকা থেকে তারা এতো দিন পালিয়ে ছিলেন। এদের কেউ কেউ আবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন।
আইনজীবীদের ভাষ্য মতে, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের জন্য সাধারণ মানুষের জান ও মালের হুমকি হয়ে দাঁড়ায় বিএনপি-জামায়াতের অনেক ক্যাডার। শুধু মানুষের জান-মালই নয়; দেশের সম্পদের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তারা বিভিন্ন স্থানে নাশকতা পূর্ব পরিকল্পনা এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক এবং বিস্ফোরিত ও অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করে। অনেকে আবার পালিয়ে যায়। ওই সব ঘটনায় মামলা করে পুলিশ।
আইনজীবীদের অনেকে জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে জামিনে ছিল ধীরগতি। সম্প্রতি সময়ে জামিনে কিছুটা হলেও শিথিল ভাব হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি এবং জামায়াত-শিবির পন্থী আসামিরা। সে কারণে এতদিনে তারা আদালতের শরণাপন্ন না হলেও বর্তমানে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করছেন।
সূত্র মতে, আত্মসমর্পণকরা আসামিদের মধ্যে অধিকাংশ উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে ছিলেন। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশেই আসামিরা সংশ্লিষ্ট আদালতে আবার আত্মসমর্পণ করছেন। এর মধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঝিকরগাছা উপজেলার ইমামুল হক, মেহেদী হাসান, মাহাবুবু রহমান, মণিরামপুর উপজেলার শহীদুল্লাহ, মতিয়ার রহমান, শফি আহম্মেদ, হাসেম আলী, হারুন অর রশিদ, আব্দুল হালিম, আসাদুজ্জামান, মেহেদী হাসান, আব্দুর রহমান, আজিম উদ্দিন, সাজু আহম্মেদ, মাহাবুবুর রহমান, এরশাদ আলী, আব্দুল ওয়াদুদ, আলমগীর হোসেন আলম, নুরুজ্জামান, গিয়াস উদ্দিন, সিরাজ আলী, বাঘারপাড়া উপজেলার সদর উদ্দিন, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান, সাহেব আলী, চৌগাছা উপজেলার শাহ আলম, এনামুল হক, জাকির হোসেন, জাকির উদ্দিন, আবু সাইদ, তোফা হোসেন, এমদাদুল হক, আব্দুর রহমান, আলী আকবর, শিমুল হোসেন, তৌহিদুর রহমান, রকিব উদ্দিন, শার্শা উপজেলার শাহীন হোসেন, আক্তারুজ্জামান, মোরশেদ আলম, শাকিরুল ইসলাম, সাফা উদ্দিন, তাজুল ইসলাম ও মোস্তাক উদ্দিন, বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার, আব্দুর রশিদ ৪৯ জন এবং ৪ ফেব্রুয়ারি মণিরামপুর উপজেলার হারুন অর রশিদ, আবু মুসা, হাফিজুর রহমান, আইয়ুব হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল মান্নান, বাবলু রহমান, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, চৌগাছা উপজেলার আবু হোসেন, মিন্টু মিয়া, মেম্বর শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, আমিনুর রহমান, শফিউদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মঞ্জু মিয়া, বাঘারপাড়া উপজেলার মুসতাকিন বিল্লাহ, শার্শা উপজেলার আনিচুর রহমান, মিজানুর রহমান, আব্দুল লতিফ, আব্দুস সাত্তার, বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার নাজিম উদ্দিন, শাহ জামাল, লিংকন হোসেন, মানুয়ার আলী, ঝিকরগাছা উপজেলার হাবিবুল্লাহ ও গোলাম হোসেন ৩৮ জন।
৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ১৪০ জনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণকৃতরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার হুমায়ন কবীর, নিশান হোসেন, আব্দুর রব, আনারুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, মণিরামপুর উপজেলার হোসেন আলী, আহম্মেদ আলী, আইয়ুব হোসেন, আজিজুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বাদল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, আবু বক্কর, আল-মামুন, জিয়া উদ্দিন, আব্দুল জলিল, সেলিম হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলার শহিদুল্লাহ, ইসমাইল হোসেন, নাজমুল হোসেন, ওসমান গণি, মজনু মিয়া, চুন্নু মিয়া, আজাদ বিশ্বাস, আনিচুর রহমান, দাউদ হোসেন, শওকত আলী, আমিনুুর রহমান, ইমরান হোসেন, সজীব হাসান, শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস, নাজিম উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, ইকবাল হোসেন, গোলাম নবী, নজির আলী, সাচ্চু মিয়া, লিটন হোসেন, মুসা মিয়া, শরিফুল ইসলাম, বেলায়েত হোসেন, ইমাম আলী, আব্দুর রশিদ, মনিরুল ইসলাম, বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার মোহাম্মদ আলী, ইয়ার আলী, আব্দুল মজিদ, আতিকুজ্জামান, ইদু মিয়া, রবিউল ইসলাম, মফিজুর রহমান, রাহানুজ্জাম, নাজমুল গণি, ইসরাফিল হোসেন, কামাল হোসেন, নুরুজ্জামান লিটন, রিন্টু হোসেন, হাফিজুর রহমান, অভয়নগর উপজেলার হাফিজুর রহমান, শাহ উদ্দিন, আমিনুর রহমান, কালাম গাজী, জিয়া উদ্দিন, ইরান হোসেন, শামীম হোসেন, বাশির উদ্দিন, মহির হোসেন, আইয়ুব হোসেন, মকবুল হোসেন, আব্দুল হাকিম গাজী, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা, আব্দুল হাকিম, জালাল উদ্দিন, সাব্বির হোসেন, ইফতেখার গাজী, মিজানুর রহমান, ইদ্রিস আলী, তকুব্বর হোসেন, রকিব উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, মফিজুর রহমান, বকতিয়ার রহমান, আব্দুল হক, সেকেন্দার আলী, এমদাদুল হক, ওলিয়ার রহমান, আবু সুফিয়ান, রওশন আলী, রমজান আলী, মশিয়ার রহমান, আব্দুস সামাদ, আকাশ হোসেন, আব্দুর রহিম, শহিদ উদ্দিন, আফজাল হোসেন, আজিজুর রহমান, ইমান আলী, বিল্লাল হোসেন মোল্যা, জাকির হোসেন মোল্যা, হাফিজুর রহমান, নেয়ামত উল্লাহ, আলতাফ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, তাহের আলী, শরিফুল ইসলাম, আজিজুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া গত ৩০ জানুয়ারি যশোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পীসহ ৯৩জন আত্মসমর্পণ করেন।
এব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্তজা ছোট বলেছেন, স্বাভাবিক নিয়মে জামিন হলেও অনেক আসামি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে ছিলেন। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন।

Top