বরিশালে চিকিৎসার নামে কিশোরীকে ধর্ষণ : ফকিরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

-কারাদন্ড.jpg

বরিশালের বাকেরগঞ্জে স্বাস্থ্য ভালো করার চিকিৎসা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভন্ড ফকির ইউনুছ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া ১ লাখ টাকার অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। ‌বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত ইউনুছ উপজেলার বারঘরিয়া এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ চৌকিদারের ছেলে।

রায় ঘোষণার সময় ইউনুছ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত ছিল। বেঞ্চ সহকারি আজিবর রহমান জানান, উপজেলার একই এলাকার বসবাসের সুবাদে কিশোরী ভালো না থাকায় তাকে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয় ফকির ইউনুসের স্ত্রী আলেয়া বেগম। ঘটনার এক মাস পূর্বে আলেয়ার কথামতো কিশোরী ফকির ইউনুছের কাছে যায়। ইউনুস কিশোরীকে জানায় তাকে বাণ মারা হয়েছে। ১ মাস চিকিৎসা নিলে সে ভাল হয়ে যাবে। পরে ইউনুছ রাতে গিয়ে ওই কিশোরীর বাসায় গিয়ে তাকে ঔষধ দিয়ে আসতো। এক পর্যায়ে কিশোরী তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। ঘটনার দিন ২০১০ সালের ৩০ জুলাই রাতে ইউনুছ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে দরজা খুলতে বলে। কিশোলী দরজা খুললে ইউনুছ তাকে ঔষধ দেয়। ঔষধ খেয়ে কিশোরী অজ্ঞানের মতো হয়ে পড়লে ইউনুছ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ঔষধ দেয়ার অজুহাতে সে প্রায়ই কিশোরী ধর্ষণ করা অব্যাহত রাখে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইউনুছ তার স্ত্রী আলেয়া তার গর্ভ নষ্ট করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

কিশোরী বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে তারা স্থানীয়ভাবে মিমাংশার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে কিশোরী ফকির ইউনুছ হাওলাদার ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে। ট্রাইব্যুনাল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে নির্দেশ দেন।

একই বছর ২ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির মামলার আসামী হিসাবে ইউনুছ হাওলাদারেকে অভিযুক্ত ও আলেয়া বেগমকে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশীট জমা দেন। ট্রাইব্যুনাল ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ওই কারাদন্ড ও অর্থ দন্ডের রায় ঘোষণা করেন।

Top