বিদায়ী নামাজ আমার জানাযা।

images-8.jpg

=============
মুসলিম বলেই ডান কানে দেয়া হয়েছিল আজান এবং বাম কানে দেয়া হয়েছিল ইকামাত। শুরু হলো জীবনের যাত্রা অতঃপর জীবনের গতিতে চলছে জীবন সময়ের স্রোত যাচ্ছে বয়ে। কেউ শিশুকাল পেরিয়ে, কেউ যৌবনকাল, আবার কেউ কেউ এসে পড়ে বৃদ্ধ বয়সে। অবশেষে সময় হয় জানাযা নামাজের,ততোক্ষণে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হয়। কুরআনের ভাষায়: “প্রত্যেকটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে অতঃপর তোমরা আমার কাছেই ফিরে আসবে।” [২৯ আল আনকাবূত: ৫৭], জানাযার নামায: জীবনের শেষ নামায পড়েছে অন্যরা এর পূর্বেও গত হয়েছে আজান ও ইকামাত তাও দিয়েছিল অন্যেরা। জানাযার নামায হচ্ছে মৃত এবং জীবিত সকলের জন্য দুয়ার আয়োজন জানাযার নামাজ ফরজে কিফায়া। যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। জানাযার নামায এর ফরজ কাজ ০২টি। যথা; ১. চারবার তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলা। ২. কিয়াম তথা দাড়িয়ে জানাযার নামাজ আদায় করা। জানাযার নামায এর সুন্নাত সমূহ ; ১. আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করা।২. নবীর (সাঃ) এর প্রতি দরুদ পাঠ করা। ৩. মৃতের জন্য দোয়া করা। জানাযার নামায পড়ার পদ্ধতি :
তিনটি কাতার পূর্ণ করা সুন্নাত। তবে অধিকও হতে পারে। মৃতকে কিবলার দিকে করে তার মাথা/সিনা বরাবর ইমাম দাড়াবে। এরপর ১ম তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত উঠাবে। [সকল ইমাম একমত হাত উঠানোর ব্যাপারে।] এরপর সানা পড়া [যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।] বা সহিহ হাদিসের আলোকে ; আউযুবিল্লাহ…এবং বিসমিল্লাহ… পড়ে সূরা ফাতিহা পড়া সাথে আয়াত বা সূরা মিলানো। দলিল: রাসূল (সাঃ) জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন, তিনি বলেছেন, যে লোক সূরা ফাতিহা পড়েনি, তার নামায হয়নি। (সহিহ বুখারী: ৭৫৬), অন্য হাদিসে, তালহা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর পেছনে জানাযার নামাজ আদায় করেছি তাতে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন এবং নামাজ শেষে বললেন, লোকেরা যেন জেনে নেয় যে জানাযা নামাযের এটাই পদ্ধতি। (সহিহ বুখারী: ১৩৩৫), এরপর ২য় তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে “প্রিয় নবীর প্রতি দরুদ” পাঠ করা। [প্রথম তাকবির এর পর বাকি ৩ তিন তাকবিরের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে ; হাত উঠানো যাবে না, কিছু ইমামের মতে হাদিসটি দূর্বল, আর বিপরীত দিকে অনেকের মতে হাত উঠানো যাবে বরং তা সুন্নাত । সুতরাং, বির্তক না করাই ভালো।] এরপর ৩য় তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে “দোয়া” পাঠ করা। নিন্মে বাংলায় দুইটি দুয়ার অনুবাদ দেয়া হলো: মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ -১.”হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং নর ও নারীদেরকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাদের আপনি জীবিত রাখবেন তাদেরকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন এবং যাদেরকে মৃত্যু দান করবেন তাদেরকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে তার (মৃত্যুতে ধৈয্যধারণের) সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তার (মৃত্যুর) পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।” [আবূ দাঊদ:৩২০১; তিরমিযী:১০২৪; নাসাঈ:১৯৮৫; ইবন মাজাহ, ১/৪৮০, নং ১৪৯৮; আহমাদ ২/৩৬৮, নং ৮৮০৯। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ১/২৫১।] দো‘আ-২.”হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন, তাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় রাখুন, তাকে মাফ করে দিন, তার মেহমানদারীকে মর্যাদাপূর্ণ করুন, তার প্রবেশস্থান কবরকে প্রশস্ত করে দিন। আর আপনি তাকে ধৌত করুন পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে, আপনি তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছেন। আর তাকে তার ঘরের পরিবর্তে উত্তম ঘর, তার পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার ও তার জোড়ের (স্ত্রী/স্বামীর) চেয়ে উত্তম জোড় প্রদান করুন। আর আপনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং তাকে কবরের আযাব [ও জাহান্নামের আযাব] থেকে রক্ষা করুন। “(মুসলিম ২/৬৬৩, নং- ৯৬৩), ইত্যাদি। এরপর ৪র্থ তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে “সালাম” ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা। (সালাম ফিরানোর পরে এবং দাফন সম্পন্ন করার পূর্বে আর কোনো দুয়া/ মুনাজাত নেই)। “দাফন সম্পন্ন করার পর মৃতের জন্য দুয়া করা”।

লেখক: মো: আবু বকর সিদ্দিক।
এম.এ. হাদিস বিভাগ (ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।),
এম.এ ফিকহ বিভাগে অধ্যায়ণরত।

Top