সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়িদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেবা সংস্থা”

received_1919002784877826.jpeg

মোহাম্মদ মোমিন
চান্দঁগাও প্রতিনিধি।

রাঙামাটিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করল চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেবা সংস্থা” ৷

গত শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) রাঙ্গামাটির দুর্গম সেই পাহাড়ি এলাকা গবঘোণা, মগবান ও রিজার্ভবাজার এলাকায় শীতবস্ত্র ও কাপড় বিতরণ করে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন “সেবা সংস্থা” এর পরিচালক সৌরভ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ- পরিচালক অনিন্দ্য চক্রবর্তী, ইভেন্ট ৭১ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিয়ান মাহমুদ রানা সহ সংগঠনের সকল সদস্যবৃন্দ ৷ সেবা সংস্থা’র এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রাঙ্গামাটির মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের পরিচালক ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ বড়ুয়া বলেন, “আমরা তেলে মাথায় তেল দিতে চাই না। তাই নিজের কষ্টের টাকা আর শ্রমে সংগৃহীত কাপড়গুলো তাদের প্রকৃত দাবিদারদের হাতে তুলে দিতে চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির এই দুর্গম পাহাড়ে এসেছি। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না মানুষ কতটা অসহায়” ৷

সংগঠনের সহ- পরিচালক অনিন্দ্য চক্রবর্তী বলেনঃ “আমাদের দেশে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তখনই শুরু হয়, যখন অধিক শীত পড়ে, বয়োবৃদ্ধদের মৃত্যুর খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেতে শুরু করে। আবার শীতবস্ত্র বিতরণকারীদের মধ্যে দেখা যাবে শহরকেন্দ্রিক বস্তি ও ফুটপাতে বিতরণের প্রবণতাই বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠান আর সংগঠনকে পাওয়া যায়, যাদের বিতরণের তুলনায় ব্যানার ও প্রচারলাভের চেষ্টাই বেশি থাকে। আমরা সেই ধারাটা ভাঙতে চেয়েছি। সমাজ-সভ্যতা থেকে অনেক দূরের মানুষগুলোর দুয়ারে এসেছি তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে”

কথা হয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা গবঘোণার বাসিন্দা রবাধন চাকমার সঙ্গে। তিনি জানান, “শীতের কাপড় বিতরণের কথা বিভিন্ন সময় শুনেছেন, কিন্তু কখনও দেখেননি। ‘এই মানুষগুলোকেই প্রথম দেখলাম কাপড় নিয়ে আমাদের গ্রামে আসতে। এটি অনেক বড় কাজ। আমাদের অনেক পরিবারের নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় শীতের কাপড় নেই। কেনাও সম্ভব হয় না। অথচ পাহাড়ে শীতের তীব্রতা বেশি। শীতের কষ্টে গ্রামের অনেকেই রোগে ভুগছেন। অনেক শিশু-বৃদ্ধা মারাও গেছেন”।

পাহাড়ে শীতবস্ত্র বিতরণে ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহায়তা করেছে “ইভেন্ট৭১”। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিয়ান মাহমুদ রানা বলেন, “প্রথমে পরিকল্পনাটি বেশ কঠিন মনে হয়েছিল। পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে শীতবস্ত্র বিতরণের আইডিয়া ছিল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু ছেলেরা কাপড় সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্যাকেটিং ও বিতরণ খুব দক্ষতার সঙ্গে করেছে। সবচেয়ে আনন্দ পেয়েছি অসহায় মানুষগুলোর চোখে খুশির ঝিলিক দেখ” ৷

Top