সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই সচেতনতা

IMG_20190119_210954.jpg

————
সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু সেটার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। আমি ট্রাফিক আইন বা আমাদের রাস্তায় চলাচল করার নিয়ম সম্পর্কে বলতে চাচ্ছি।এই সমস্যার সমাধান চাইতে স্কুল কলেজের ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে চাইলে সব কিছু করা সম্ভব। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন সবার সচেতনতা। আসলে আমাদের দেশ একটি জনবহুল দেশ। তার তুলনায় আমাদের দেশের সম্পদ, রাস্তাঘাট সীমিত। কিন্তু আমাদের যা আছে সেটা যদি আমরা সচেতনতার সাথে ব্যবহার করি। তাহলে হয়তো আমাদের সমস্যা অনেকটা কমে আসবে। আমি বাংলাদেশ স্কাউটের একজন সদস্য এবং রোভার হওয়ার ফলে আমি ট্রাফিক সপ্তাহে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমার সুভাগ্য হয়েছে একজন ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট অনুধাবন করার। আমার দায়িত্বরত পয়েন্ট ছিল ঢাকার সবচেয়ে যানজট সম্পন্ন স্থান শাহবাগ। শাহবাগ মোড় হচ্ছে চারটি রাস্তার সংযোগস্থল। এখানে ঢাকার মধ্যে বড় বড় হাসপাতাল, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর,শিশু পার্ক,থাকার ফলে এখানে জনগনের সমাগম খুব বেশি। যার ফলে শাহবাগে খুব যানজট হয়। আর এই যানজট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন বেশি সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ, সাধারন জনগনের সচেতনতা এবং আইন মেনে চলার মানসিকতা। আমরা প্রতিদিনই খবরেরকাগজে, টেলিভিশনে দেখতে পাই এখানে-ওখানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আবার অনেকেই আহত হয়ে থাকে। এই দুর্ঘটনায় কেবলমাত্র একজন মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়না পুরো একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা একটা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বা তার পরিবারই অনুভব করতে পারে। আর এই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আমরা বরাবরই গাড়িচালক কে দোষারোপ করি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু মাত্র গাড়িচালক দায়ী নয়। কেননা আমি আমার ট্রাফিক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি একটা দুর্ঘটনার পিছনে শুধু গাড়িচালক দায়ী নয় অনেক সময় পথচারী ও দায়ী থাকে। কারন তারা অনেক সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলে না,সময়ের কথা চিন্তা করে দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার সময় ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করে না।মানুষ একটু সময় বাচানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে,ভুল সিগন্যাল অমান্য করপ ,ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মানতে চায় না ।আর অন্যদিকে অতিদ্রুত গাড়ী চলাচল করে। ফলে পথচারীর ও গাড়ীর সংঘর্ষে ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

আমরা ছোটবেলা থেকে পড়ে আসছি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হবো।কিন্তু আমরা তার কতটুকু মেনে চলি। তারপর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি চলবে, লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি থামবে। আমরা তারই বা কতটুকু মেনে চলি।একটা মানুষ যখন বড় হওয়ার পর দেখে ছোটবেলা থেকে সে যা জেনে আসছে বা পড়ে আসছে। তার বাস্তবিক কোন প্রয়োগ নেই। তার ফলে স্বভাবত আমাদের উপর একটা বিরুপ প্রভাব পড়ে। তারা রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে, হেডফোন ব্যবহার করে, ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করে না, সিগন্যাল মানে না। এই সব কারনে আমরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকি। তারপর আমরা অনেকেই ট্রাফিক আইন না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টো পথে চলাচল করে,সিগন্যাল না মেনে চলাচল করে।আমাদের দেশে ফুটপাথ দিয়ে পথচারী হাটার নিয়ম ও ফুটপাথ থাকা সত্বেও বাস্তবিক ভাবে তার প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়।কেননা আমাদের দেশের সকল ফুটপাত থাকে হর্কাসদের দখলে।যার কারনে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার না করতে পেরে তারা রাস্তার মধ্যে দিয়ে চলাচল করে।আবার অনেকেই আছেন যারা সময় বাচানোর কথা চিন্তা করে ফুটপাত ব্যবহার করে না। যার কারনে সৃষ্টি হয় যানজট, ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা। এছাড়াও আর একটি সমস্যা রয়েছে যেটা হলো দুর্নীতি। এটাও সচারচার দেখে থাকি আমরা ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি, গাড়ির লাইসেন্স তৈরী করার ক্ষেত্রে, গাড়িচালকের লাইসেন্স তৈরী করার ক্ষেত্রেও দুর্নীতি দেখা যায়। যার কারনে রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য গাড়ি, অযোগ্য গাড়িচালক, হেলমেট বিহীন গাড়িচালক দেখা যায় এবং সিগন্যাল না মানার মতো ঘটনাও চোখে পড়ে। আর এইসব কারনেই দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। তারপর রাস্তার সংস্কার ঠিক মতো হচ্ছে না, কোথাও জিব্রা ক্রসিং আছে আবার কোথাও জিব্রা ক্রসিং নেই, কোথাও কোথাও ফুটওভার ব্রিজ নেই। তাই সড়ক দুর্ঘটনার মতো দেশের অন্যতম সমস্যা সমাধানের জন্য রাস্তার সংস্কার করতে হবে,সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে,দুর্নীতি কমাতে হবে,কর্মঘন্টা কমাতে হবে ইত্যাদি। এইসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পাবে আশা করা যায়।

মো:জুয়েল মৃধা
অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা কলেজ,ঢাকা-১২০৫।

Top